চুল ঝরে পড়া ও জটের সমস্যা সামলাতে মেনে চলুন ৫ অভ্যাস

বর্ষাকালে বৃষ্টির জল আর বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতার প্রভাব পড়তে পারে চুলের স্বাস্থ্যে। কখনও চুল হয়ে ওঠে রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ, কখনও আবার মাথার ত্বকে দেখা দেয় অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব, খুশকি কিংবা চুলকানি। তার সঙ্গে চুলে জট পড়া ও চুল ভেঙে যাওয়ার সমস্যাও অস্বস্তি বাড়ায়। এই সময়ে চুলের যত্ন নিতে দামি প্রসাধনীর পেছনে না ছুটে প্রতিদিনের পরিচর্যায় কয়েকটি পরিবর্তন আনতে পারেন।

১. চুল পরিষ্কার রাখুন

বর্ষায় ঘাম, ধুলোবালি ও মাথার ত্বকে জমে থাকা তেল অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই মাথার ত্বকের ধরন অনুযায়ী নিয়মিত শ্যাম্পু করুন। চুলে বৃষ্টির জল লাগলে বাড়ি ফিরে প্রয়োজনমতো পরিষ্কার করে নিন। তবে অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার বা জোরে ঘষে চুল ধোয়া থেকে বিরত থাকুন। চুল পরিষ্কারের পাশাপাশি মাথার ত্বকেও যত্ন নেওয়া জরুরি।

২. ভেজা চুলের প্রতি যত্নশীল হোন

ভেজা চুল তুলনামূলকভাবে বেশি ভঙ্গুর থাকে। তাই শ্যাম্পু করার পর তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষে চুল শুকোবেন না। নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে জল শুষে নিন। ভেজা চুল শক্ত করে বাঁধা বা টেনে আঁচড়ানো এড়িয়ে চলুন। জট ছাড়ানোর জন্য চওড়া দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করতে পারেন। সম্ভব হলে চুল স্বাভাবিকভাবে শুকোতে দিন। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলুন।

৩. সপ্তাহে এক-দু’বার ব্যবহার করুন হেয়ার মাস্ক

চুলের শুষ্কতা ও রুক্ষতা কমাতে হেয়ার মাস্ক সাহায্য করতে পারে। সাধারণ কন্ডিশনারের তুলনায় কিছু হেয়ার মাস্ক চুলে বেশি সময় আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। তবে সব ধরনের চুলের জন্য একই মাস্ক উপযুক্ত নয়। নিজের চুলের ধরন বুঝে পণ্য বেছে নিন এবং ব্যবহারের নির্দেশ মেনে চলুন। মাথার ত্বকে সমস্যা থাকলে এমন পণ্য ব্যবহার করবেন না, যা জ্বালা বা চুলকানি বাড়িয়ে দেয়।

৪. তেল মাখার আগে বুঝুন মাথার ত্বকের ধরন

চুলে তেল লাগানোর অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। তবে বর্ষায় মাথার ত্বক যদি অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয় কিংবা খুশকি ও চুলকানির সমস্যা থাকে, তা হলে দীর্ঘক্ষণ তেল মেখে রাখা অস্বস্তি বাড়াতে পারে। প্রয়োজন বুঝে অল্প তেল ব্যবহার করুন এবং পরে শ্যাম্পু করে পরিষ্কার করে নিন। খুশকি বা মাথার ত্বকে প্রদাহ থাকলে নিজের ইচ্ছেমতো তেল কিংবা ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৫. একসঙ্গে অনেক প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না

বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়ায় চুল অনেক সময় চিটচিটে ও ভারী হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে একসঙ্গে অতিরিক্ত সিরাম, জেল, স্প্রে কিংবা অন্যান্য প্রসাধনী ব্যবহার করলে চুলে আস্তরণ জমতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত পণ্য ব্যবহার করুন। চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত স্টাইলিং পণ্য লাগানো এড়িয়ে চলুন। বাইরে বেরোনোর সময় বৃষ্টির জল থেকে চুলকে যথাসম্ভব সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করুন।

চুল ঝরা বাড়লে কী করবেন?

বর্ষাকালে চুলের নানা সমস্যা দেখা দিলেও সব ক্ষেত্রে আবহাওয়াকেই দায়ী করা যায় না। পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ, অসুস্থতা কিংবা মাথার ত্বকের সমস্যার কারণেও চুল পড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল ঝরলে, মাথায় ফাঁকা জায়গা তৈরি হলে কিংবা তীব্র চুলকানি ও খুশকি দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

চুলের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের দিকেও নজর দিন। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই চুলকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।