প্রতিদিনের রান্নায় একটু বদল আনতে চাইলে ভরসা রাখতে পারেন লাউ-বড়ির তরকারিতে। কচি লাউয়ের সঙ্গে ভাজা বড়ি আর জিরা-ধনিয়া-আদার মশলায় এই নিরামিষ পদ হয়ে উঠতে পারে দুপুরের ভাতের আদর্শ সঙ্গী। পেঁয়াজ-রসুন ছাড়াই অল্প কিছু ঘরোয়া উপকরণ দিয়ে সহজে তৈরি করা যায় এই রান্না। কী ভাবে বানাবেন সুস্বাদু লাউ-বড়ির তরকারি?
উপকরণ
একটি কচি লাউ ছোট টুকরো করে কেটে নিন। সঙ্গে লাগবে ১৫–২০টি বড়ি এবং ইচ্ছা হলে একটি মাঝারি আলু। মশলার জন্য রাখুন এক চা চামচ আদাবাটা, এক চা চামচ করে জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া ও মরিচ গুঁড়া। ফোড়নের জন্য প্রয়োজন আধ চা চামচ গোটা জিরা ও একটি তেজপাতা। এ ছাড়া লাগবে ৫–৬টি চেরা কাঁচামরিচ, ৩–৪ টেবিল চামচ সরিষার তেল, স্বাদমতো লবণ। রান্নার শেষে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য রাখুন এক চা চামচ ঘি।
প্রণালী
প্রথমে কড়াইয়ে সামান্য সরিষার তেল গরম করে বড়িগুলি সোনালি ও মচমচে করে ভেজে তুলে রাখুন। একই কড়াইয়ে বাকি তেল গরম করে গোটা জিরা ও তেজপাতা ফোড়ন দিন। সুগন্ধ বের হলে আদাবাটা দিয়ে অল্প পানি ছিটিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন।
এবার জিরা, ধনিয়া, হলুদ ও মরিচের গুড়া পানিতে গুলে কড়াইয়ে দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে মশলা কষাতে থাকুন। মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে কেটে রাখা আলু ব্যবহার করতে চাইলে তা দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন। তারপর লাউয়ের টুকরো যোগ করে মশলার সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
লাউ থেকে রান্নার সময় অনেকটা জল বের হয়। তাই প্রথমেই বেশি পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। স্বাদমতো লবণ দিয়ে কড়াই ঢেকে কম আঁচে রান্না করুন। মাঝে মাঝে নেড়ে দেখে নিন, যাতে নীচে লেগে না যায়। লাউ ও আলু নরম হয়ে এলে ভেজে রাখা বড়ি এবং চেরা কাঁচামরিচ মিশিয়ে দিন।
আরও কয়েক মিনিট ঢেকে রান্না করুন, যাতে বড়ির মধ্যে তরকারির স্বাদ ঢুকে যায়। ঝোল বেশি পাতলা হলে ঢাকনা খুলে কিছুক্ষণ রান্না করে মাখামাখা করে নিতে পারেন। তবে বড়ি বেশি সময় ধরে রান্না করলে অতিরিক্ত নরম হয়ে যেতে পারে, তাই নিজের পছন্দমতো ঝোলের ঘনত্ব বুঝে নামিয়ে নিন। চুলা বন্ধ করার আগে ওপর থেকে ঘি ছড়িয়ে দিন।