পাহাড় যত উঁচু, ঠান্ডা তত বেশি কেন?

সমতল এলাকা থেকে পাহাড়ের ওপরে উঠলে সাধারণত তাপমাত্রা কমতে থাকে। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কী সূর্যের কাছাকাছি গেলেও পাহাড়ের চূড়ায় কেন বেশি ঠান্ডা অনুভূত হয়? এর প্রধান কারণ হলো বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে বাতাস উত্তপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়া।

সূর্যের আলো পৃথিবীর পৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। এরপর ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে থাকা বাতাস তাপ গ্রহণ করে গরম হয়। ফলে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি বাতাস সাধারণত বেশি উষ্ণ থাকে। অন্যদিকে, পাহাড়ের ওপরে উঠলে ভূপৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব বাড়ে এবং বায়ুমণ্ডলীয় চাপ কমে যায়।

উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুচাপ কমে যাওয়ায় বাতাস প্রসারিত হয়। এই প্রসারণের ফলে বাতাসের তাপমাত্রা কমতে পারে। এ কারণেই ট্রপোস্ফিয়ার বা বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তরে সাধারণত উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে তাপমাত্রাও কমে। গড়ে প্রতি এক কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা প্রায় ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। তবে আর্দ্রতা, মেঘ, বাতাস ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির কারণে এই হার পরিবর্তিত হয়।

পাহাড়ে বাতাসের গতিও অনেক সময় বেশি থাকে। বাতাস শরীরের কাছের উষ্ণ বায়ুর স্তর সরিয়ে দেয়, ফলে শরীর থেকে তাপ দ্রুত বেরিয়ে যায় এবং ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হয়। তবে বাতাসের কারণে অনুভূত ঠান্ডা ও প্রকৃত বায়ুর তাপমাত্রা এক বিষয় নয়।

তবে সব সময় পাহাড়ের চূড়ায় নিচের এলাকার তুলনায় ঠান্ডা থাকবে, এমন নয়। কখনো কখনো তাপমাত্রার উল্টো বিন্যাস বা তাপমাত্রার বিপর্যয় ঘটলে ওপরের স্তর নিচের তুলনায় উষ্ণ হতে পারে। তা সত্ত্বেও স্বাভাবিক আবহাওয়ায় উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে তাপমাত্রা কমে যাওয়াই বেশি দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএন) ও যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দফতর (মেট অফিস)।