চুল গজানো থেকে রক্তচাপ কমানো কালোজিরার তেল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়েছে। হাজার বছরের পুরোনো এই তেল যুক্তরাষ্ট্রের সুস্থতা ও জীবনযাপনবিষয়ক অঙ্গনেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এর সব স্বাস্থ্যগুণের পক্ষে কি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে?
কালোজিরার তেল কী?
কালোজিরা মূলত ‘নাইজেলা স্যাটিভা’ নামের একটি উদ্ভিদের বীজ। এতে থাকা থাইমোকুইনোন নামের উপাদানের প্রদাহবিরোধী, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। কালোজিরা মসলা, তেল ও ক্যাপসুলসহ বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়।
চুল গজাতে কি সাহায্য করে?
নিয়মিত মাথার ত্বকে কালোজিরার তেল লাগালে চুল পড়া বন্ধ হয় বা নতুন চুল গজায় এমন দাবি প্রচলিত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যাপল বোডেমারের মতে, চুল গজাতে কালোজিরার তেলের কার্যকারিতার পক্ষে জোরালো প্রমাণ নেই।
তবে অন্যান্য তেলের মতো এটি শুষ্ক চুলে উজ্জ্বলতা আনতে ও মাথার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে থাকে। এর জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য মৃদু খুশকির সমস্যায়ও কিছুটা সহায়ক। ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো, কারণ বিরল ক্ষেত্রে তীব্র ত্বকীয় প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
হৃদ্যন্ত্রের জন্য কতটা ভালো?
কিছু গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কালোজিরা কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে এটি কার্যকর এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ ডা. লুক ল্যাফিনের মতে, এ বিষয়ে গবেষণাগুলোর পরিসর ছোট এবং ফলাফলও একরকম নয়। তাই হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতার জন্য কালোজিরার তেলকে চিকিৎসা বা চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের বিকল্প ভাবা উচিত নয়।
ব্যবহার করা কি নিরাপদ?
খাবারে অল্প পরিমাণ কালোজিরা ব্যবহার করা আর ঘন নির্যাস বা বাণিজ্যিক তেল নিয়মিত গ্রহণ করা এক বিষয় নয়। বিভিন্ন পণ্যে সক্রিয় উপাদানের পরিমাণও ভিন্ন হতে পারে। মুখে খেলে কারও কারও ডায়রিয়া বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে।
বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ গ্রহণকারীদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কালোজিরা রক্তচাপ আরও কমিয়ে দিলে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই কালোজিরার তেল বা ক্যাপসুল নিয়মিত গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কালোজিরার সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগুণ একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার কারণও নেই, তবে একে সব রোগের প্রতিকার ভাবাও ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসাবে কালোজিরা ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু চুল গজানো, হৃদ্রোগ প্রতিরোধ কিংবা অন্য কোনও রোগ সারানোর নিশ্চিত উপায় হিসেবে এর কার্যকারিতা এখনও প্রমাণিত নয়।