লিপস্টিকের রং বাছার পাশাপাশি কোন ধরনের লিপস্টিক ব্যবহার করবেন, তা নিয়েও অনেকের মনে দ্বিধা থাকে। বাজারে লিকুইড ও বুলেট দুই ধরনের লিপস্টিকই পাওয়া যায় নানা রং ও ফিনিশে। তবে দীর্ঘক্ষণ ঠোঁটে রং ধরে রাখা, ব্যবহারের সুবিধা এবং ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই কেনার আগে জেনে নেওয়া দরকার, কোন ধরনের লিপস্টিক আপনার প্রয়োজনের সঙ্গে বেশি মানানসই।
লিকুইড লিপস্টিক
দীর্ঘক্ষণ ঠোঁটে রং ধরে রাখতে চাইলে লিকুইড লিপস্টিক বেছে নিতে পারেন। অনেক লিকুইড লিপস্টিক শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠোঁটে স্থায়ী স্তর তৈরি করে। ফলে খাওয়াদাওয়া বা পানীয় পান করার পরেও রং সহজে উঠে যায় না। যারা বারবার লিপস্টিক নতুন করে লাগাতে চান না, তাদের জন্য এই ধরনটি সুবিধাজনক।
তবে বেশির ভাগ লিকুইড লিপস্টিক ম্যাট ফিনিশের হওয়ায় ঠোঁট শুষ্ক লাগতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে ঠোঁট পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার বা লিপ বাম লাগানো যেতে পারে। লিপস্টিক লাগানোর সময়ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ব্রাশ দিয়ে ঠোঁটের সীমানা এঁকে রং ভরতে হয় বলে হাতের সামান্য ভুলে রেখা বেঁকে যেতে পারে। শুকিয়ে যাওয়ার পর তা সংশোধন করাও কিছুটা কঠিন।
বুলেট লিপস্টিক
চেনা বুলেট লিপস্টিক ব্যবহারে সহজ এবং দ্রুত ঠোঁটে লাগানো যায়। ক্রিমি, ম্যাট, সাটিন কিংবা গ্লসিসহ বিভিন্ন ফিনিশে এই লিপস্টিক পাওয়া যায়। ক্রিমি ফর্মুলার লিপস্টিক ঠোঁটকে তুলনামূলক আরাম দেয়। যাদের ঠোঁট সহজেই শুকিয়ে যায় বা যারা অতিরিক্ত ম্যাট ফিনিশ পছন্দ করেন না, তারা এ ধরনের লিপস্টিক বেছে নিতে পারেন।
বুলেট লিপস্টিকের সীমাবদ্ধতা হল, অনেক ক্ষেত্রেই এর রং লিকুইড লিপস্টিকের তুলনায় দ্রুত ফিকে হয়ে যায়। খাওয়াদাওয়া বা পানীয় পান করার পর ঠোঁটে আবার লিপস্টিক লাগানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে অল্প সময়ে ঠোঁটের সাজ ঠিক করে নেওয়ার জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক।
কোনটি বেছে নেবেন?
লিপস্টিক নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্ভর করুন আপনার পছন্দ, ঠোঁটের ধরন এবং ব্যবহারের প্রয়োজনের ওপর। দীর্ঘক্ষণ রং ধরে রাখা জরুরি হলে লিকুইড লিপস্টিক কাজে আসবে। আর সহজে লাগানো যায়, এমন লিপস্টিক চাইলে বুলেট লিপস্টিক সুবিধা দেবে। চাইলে ব্যাগে দু’ধরনের লিপস্টিকই রাখতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবেন।