অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়েও রোদের তেজ কম নয়। দীর্ঘক্ষণ বাইরে ঘোরাঘুরি করলে ঘাম জমে মুখে অস্বস্তি হতে পারে, ত্বকে দেখা দিতে পারে জ্বালাপোড়া ভাব। বারবার মুখে পানির ঝাপটা দেওয়ার সুযোগও সব সময় থাকে না। তার ওপর মুখে মেকআপ থাকলে পানি দিয়ে মুখ ধুলে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে সঙ্গে রাখতে পারেন ফেশিয়াল মিস্ট। স্প্রে বোতলে ভরে সহজেই সঙ্গে নেওয়া যায় এই তরল। চাইলে বাড়িতেও তৈরি করে নিতে পারেন কয়েক ধরনের ফেশিয়াল মিস্ট।
নিমপাতার মিস্ট
ঘাম ও গরমে ত্বকে অস্বস্তি হলে নিমপাতার পানি ব্যবহার করতে পারেন। এক মুঠো নিমপাতা দু’কাপ পানিতে ফুটিয়ে নিন। পানি ঠান্ডা হলে ছেঁকে পরিষ্কার বোতলে ভরে ফ্রিজে রাখুন। বাইরে ঘোরাঘুরির সময় মুখে অস্বস্তি হলে অল্প পরিমাণে স্প্রে করতে পারেন। তবে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেবেন। জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
শসা ও অ্যালো ভেরা মিস্ট
রোদে ঘোরাঘুরির পর মুখে জ্বালাপোড়া ভাব হলে শসা ও অ্যালো ভেরা দিয়ে তৈরি মিস্ট ব্যবহার করে দেখতে পারেন। আধখানা শসা ব্লেন্ড করে ছেঁকে রস বের করে নিন। তার সঙ্গে দু’চা চামচ অ্যালো ভেরা জেল ও আধ কাপ পরিষ্কার পানি মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে ফ্রিজে রাখুন। ব্যবহারের আগে উপাদানগুলিতে অ্যালার্জি আছে কি না, তা খেয়াল রাখুন। বাড়িতে তৈরি এই মিশ্রণে সংরক্ষক থাকে না, তাই অল্প পরিমাণে তৈরি করে ফ্রিজে রাখুন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করে বাকি অংশ ফেলে দিন।
গ্রিন টি মিস্ট
এক কাপ গ্রিন টি তৈরি করে সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে নিন। পরিষ্কার স্প্রে বোতলে ভরে ফ্রিজে রাখুন। বাইরে বেরোনোর আগে সঙ্গে নিতে পারেন। ত্বকে ঠান্ডা অনুভূতি দিতে পারে এই মিস্ট। বাড়িতে তৈরি অন্য মিস্টের মতো এটিও পরিষ্কার পাত্রে রাখতে হবে এবং দীর্ঘক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখা চলবে না।
ফেশিয়াল মিস্ট ত্বকে সাময়িক সতেজতা দিতে পারে, তবে এটি সানস্ক্রিনের বিকল্প নয়। রোদে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন এবং ত্বকের জন্য উপযুক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন লাগান। ঘাম হলে এবং দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে সানস্ক্রিনের নির্দেশ অনুযায়ী আবার লাগাতে হবে। ত্বকে তীব্র জ্বালা, ফোসকা বা স্থায়ী লালচে ভাব দেখা দিলে ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।