ফ্যাশনে গহনার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ পোশাকেও মানানসই গহনা যোগ করতে পারে ভিন্ন মাত্রা। সোনা-রুপোর প্রচলিত গহনার বাইরে এখন অনেকেই বেছে নিচ্ছেন টেরাকোটা, ডোকরা, কুন্দন, ফিলিগ্রি ও আফগানি ধাঁচের গহনা। পোশাকের রং, নকশা ও ব্যক্তিগত পছন্দ বুঝে এসব গহনা পরলে সাজে আসে স্বতন্ত্রতা।
টেরাকোটা গহনায় দেশীয় ছোঁয়া
মাটির তৈরি টেরাকোটা গহনায় থাকে নান্দনিক নকশা ও ঐতিহ্যের ছাপ। শাড়ি, কুর্তি কিংবা সুতির পোশাকের সঙ্গে এ ধরনের গহনা বেশ মানানসই। বড় দুলের সঙ্গে গলায় ভারী গহনা না পরলে সাজে ভারসাম্য থাকে।
ডোকরা গহনায় স্বতন্ত্রতা
ধাতু ঢালাইয়ের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি ডোকরা গহনার নকশা সাধারণত একটু আলাদা ধরনের হয়। একরঙা পোশাকের সঙ্গে ডোকরা নেকলেস, কানের দুল কিংবা ব্রেসলেট পরলে গহনার নকশা সহজেই নজরে আসে। হাতে তৈরি গহনা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি ভালো বিকল্প।
ফিলিগ্রি গহনায় সূক্ষ্ম নকশা
ধাতুর সরু তার দিয়ে তৈরি ফিলিগ্রি গহনায় থাকে সূক্ষ্ম কারুকাজ। হালকা ও মার্জিত সাজের জন্য এ ধরনের গহনা বেছে নেওয়া যায়। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গেও মানিয়ে যায় ফিলিগ্রি দুল ও লকেট।
কুন্দন গহনায় আভিজাত্য
পাথর বসানো কুন্দন গহনা উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বিশেষ আয়োজনে পরা যায়। গলায় ভারী কুন্দন নেকলেস থাকলে কানের দুল ছোট রাখা ভালো। এতে সাজে ভারসাম্য বজায় থাকে এবং গহনাটিও আলাদা করে নজর কাড়ে।
আফগানি গহনায় বোহেমিয়ান ধাঁচ
বড় আকারের দুল, কয়েনের নকশা কিংবা ধাতব লকেট- আফগানি গহনার বৈশিষ্ট্য এর স্বতন্ত্র নকশা। লং কুর্তি, ঢিলেঢালা পোশাক কিংবা একরঙা টপের সঙ্গে এ ধরনের গহনা মানানসই। গলায় বা কানে বড় গহনা পরলে অন্য অনুষঙ্গ কম রাখাই ভালো।
গহনা বাছাইয়ে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
গহনা নির্বাচনের সময় পোশাকের গলা, রং ও নকশার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। পোশাকে ভারী কাজ থাকলে তুলনামূলক সরল গহনা ভালো দেখায়। আবার একরঙা পোশাকের সঙ্গে নকশাদার গহনা সাজে ভিন্নতা আনতে পারে। একসঙ্গে অনেক ধরনের বড় গহনা না পরে একটি অনুষঙ্গকে প্রাধান্য দিলে পুরো সাজটি পরিপাটি দেখায়।
গহনার সৌন্দর্যের পাশাপাশি আরামও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পরার জন্য হালকা ও ত্বকের উপযোগী উপকরণ বেছে নেওয়া ভালো। ট্রেন্ড অনুসরণের পাশাপাশি নিজের পছন্দ ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই গহনা পরলেই সাজ হয়ে উঠবে স্বাভাবিক ও আকর্ষণীয়।