শিশুর জ্বর হলে শরীর মোছানোর আগে জেনে নিন জরুরি নিয়ম

জীবনযাপন ডেস্ক
২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪৬ আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪৬

শিশুর জ্বর হলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অভিভাবকেরা। অনেকেই জ্বর কমাতে কপালে ভেজা কাপড় দেন, আবার কেউ ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মোছান। তবে জ্বরের সময় শিশুকে আরাম দিতে কী করা উচিত, আর কোন পদ্ধতি এড়িয়ে চলা দরকার তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে খুব ঠান্ডা পানি ব্যবহার বা শিশুকে কাঁপিয়ে দেয় এমনভাবে শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করা ঠিক নয়।

জ্বর হলে শিশুর যত্ন নেবেন যেভাবে

শিশুর গা মোছানোর প্রয়োজন হলে ঘরের তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে পারেন। বরফঠান্ডা পানি বা ফ্রিজের পানি ব্যবহার করবেন না। ঠান্ডা পানিতে শিশুর কাঁপুনি শুরু হতে পারে, ফলে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। মনে রাখবেন, গা মোছানো জ্বর কমানোর নিয়মিত বা অপরিহার্য চিকিৎসা নয়।

শিশুকে হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরান। অতিরিক্ত কাপড় বা ভারী কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখবেন না। ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন এবং শিশুর অস্বস্তি হচ্ছে কি না, খেয়াল করুন।

গা মোছানোর প্রয়োজন হলে নরম কাপড় পানিতে ভিজিয়ে নিংড়ে নিয়ে আলতোভাবে শরীর মুছিয়ে দিতে পারেন। শিশুর কাঁপুনি, অস্বস্তি বা কান্না শুরু হলে তা বন্ধ করুন। জোর করে দীর্ঘ সময় ধরে শরীর মোছানোর প্রয়োজন নেই।

জ্বরের সময় শরীর থেকে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। শিশুর বয়স অনুযায়ী বুকের দুধ, পানি বা অন্যান্য উপযুক্ত তরল দিন। অল্প অল্প করে বারবার পান করতে উৎসাহিত করুন। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাচ্ছে কি না, সেটিও লক্ষ করুন।

থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মাপুন। পাশাপাশি শিশু স্বাভাবিকভাবে সাড়া দিচ্ছে কি না, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে কি না, খেতে বা পান করতে পারছে কি না- এসবও খেয়াল করুন। জ্বরের ওষুধ দেওয়ার পরও তাপমাত্রা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া মানেই গুরুতর সমস্যা, এমন নয়। শিশুর সামগ্রিক অবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিন মাসের কম বয়সি শিশুর তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। যেকোনো বয়সের শিশুর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অস্বাভাবিক নিস্তেজতা, জাগাতে অসুবিধা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা চাপ দিলে না মিলিয়ে যাওয়া র‍্যাশ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। শিশু পানি পান করতে না পারলে বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলেও দেরি করা উচিত নয়।

জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, বাড়তে থাকলে কিংবা শিশুর অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া শিশুকে অ্যাসপিরিন দেবেন না এবং বয়স ও ওজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রা না জেনে জ্বরের ওষুধও খাওয়াবেন না।

মনে রাখা জরুরি, শিশুর জ্বর কমাতে কপালে জলপট্টি দেওয়া বা বারবার গা মোছানোই মূল বিষয় নয়। শিশুকে আরামে রাখা, পর্যাপ্ত তরল দেওয়া এবং বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
সুস্থ থাকতে দিনে ১০ হাজার পা হাঁটতেই হবে, কথাটি কি সত্যি?
উৎসবের পর ওজন নিয়ন্ত্রণে ফিরতে ভরসা রাখুন ৩ ভেষজ চায়ে
ভূরিভোজে পেটের গোলমাল এড়াবেন কীভাবে?
সর্বশেষ খবর
পোশাকে আনুন নতুনত্ব, গয়নায় থাকুক নিজস্ব স্টাইল
পোশাকে আনুন নতুনত্ব, গয়নায় থাকুক নিজস্ব স্টাইল
ব্যাংকে টাকা রেখেও লাভ নেই, মূল্যস্ফীতি খেয়ে ফেলছে আমানতকারীর মুনাফা 
ব্যাংকে টাকা রেখেও লাভ নেই, মূল্যস্ফীতি খেয়ে ফেলছে আমানতকারীর মুনাফা 
৫৭ বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা, মনে রাখতে পারেন না সন্তানের নাম
৫৭ বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা, মনে রাখতে পারেন না সন্তানের নাম
মক্কা প্যাক্টের পর এবার চার মুসলিম দেশের ‘বদর’ চুক্তি
মক্কা প্যাক্টের পর এবার চার মুসলিম দেশের ‘বদর’ চুক্তি
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকার কাছেই মিলতে পারে গ্যাস, কূপ খননের পরিকল্পনা
ঢাকার কাছেই মিলতে পারে গ্যাস, কূপ খননের পরিকল্পনা
সাত দিন পর কারামুক্ত হলেন ককরোচ নেতা সৌরভ-রাঙ্কা
সাত দিন পর কারামুক্ত হলেন ককরোচ নেতা সৌরভ-রাঙ্কা
এবার ময়ূখের কণ্ঠে উল্টো সুর, প্রশংসায় ভাসালেন বাংলাদেশকে
এবার ময়ূখের কণ্ঠে উল্টো সুর, প্রশংসায় ভাসালেন বাংলাদেশকে
দল থেকে অব্যাহতি পেয়ে বিএনপি নেত্রী বললেন ‘আমি অত্যন্ত মর্মাহত’
দল থেকে অব্যাহতি পেয়ে বিএনপি নেত্রী বললেন ‘আমি অত্যন্ত মর্মাহত’
যুবদল নেতার লাশের গোসলের সময় বের হলো রহস্য, মাথার খুলির ভেতরে বুলেট
যুবদল নেতার লাশের গোসলের সময় বের হলো রহস্য, মাথার খুলির ভেতরে বুলেট