চুলের হারানো কোমলতা ও উজ্জ্বলতা ফেরাতে কাজে আসতে পারে ৩ কৌশল

পরিবেশের দূষণ, রোদ, ধুলাবালি, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও চুলের সঠিক পরিচর্যার অভাবে হারিয়ে যেতে পারে চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা। নানা ধরনের কেশসজ্জা, হেয়ার স্প্রে ও স্টাইলিংয়ের সরঞ্জামের ব্যবহারেও চুলের আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। ফলে চুল হয়ে ওঠে রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন। চুলে জট পড়ার পাশাপাশি বাড়তে পারে ভেঙে যাওয়ার সমস্যাও। এমন পরিস্থিতিতে চুলের কোমলতা ও উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন।

তেল মালিশ ও কন্ডিশনিং

চুলের শুষ্কতা কমাতে নারকেল তেল বা আমন্ড অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। চুলের দৈর্ঘ্য ও ডগায় অল্প তেল লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর চুলের ধরন অনুযায়ী কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। কন্ডিশনার চুলের জট কমাতে এবং চুলকে তুলনামূলক নরম রাখতে সাহায্য করে। তবে মাথার ত্বকে তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজের ত্বকের ধরন ও সহনশীলতার দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক

চুলের রুক্ষ ভাব কমাতে কলা ও টক দই দিয়ে ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক তৈরি করতে পারেন। একটি পাকা কলা ভালো করে চটকে তার সঙ্গে সামান্য টক দই মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি চুলের দৈর্ঘ্যে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। কলার মিশ্রণ চুলে লাগানোর আগে তা যেন মসৃণ হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। এতে চুলে মিশ্রণ আটকে থাকার ঝামেলা কমবে। সংবেদনশীল ত্বক হলে আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

চুলের যত্নে প্রোটিন ও পুষ্টি

চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু বাইরে থেকে পরিচর্যা করলেই হবে না, খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। ডিম, মাছ, ডাল, দুধ, বাদামসহ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল ও পর্যাপ্ত পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। চুলে অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ, ঘন ঘন স্ট্রেটনিং এবং কড়া রাসায়নিকযুক্ত পণ্যের ব্যবহার কমানোও জরুরি।

চুলের যত্নে নিয়মিত এই অভ্যাসগুলি মেনে চললে রুক্ষতা ও জটের সমস্যা সামলানো সহজ হতে পারে। তবে অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার ত্বকে চুলকানি বা দীর্ঘদিন ধরে চুলের অবস্থা খারাপ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।