চিরুনি চালালেই উঠে আসছে গোছা গোছা চুল? বালিশ, জামাকাপড় কিংবা বাথরুমের মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা চুল দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন অনেকেই। চুলের যত্ন নিতে কেউ ভরসা রাখেন দামি প্রসাধনীতে, কেউ আবার বেছে নেন ঘরোয়া উপায়। সম্প্রতি কেশসজ্জাশিল্পী জাওয়েদ হাবীব যষ্টিমধু ও টক দই দিয়ে তৈরি একটি প্যাক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই মিশ্রণ চুলের পরিচর্যায় কাজে আসতে পারে। কিন্তু সত্যিই কি এই দুই উপকরণ চুল পড়া কমাতে পারে? নাকি এটি নিছকই আরও একটি ঘরোয়া টোটকা?
জাওয়েদ হাবীবের পরামর্শ অনুযায়ী, যষ্টিমধুর গুঁড়ো টক দইয়ের সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে এক দিন এই মিশ্রণ মাথার ত্বক ও চুলের গোড়ায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
যষ্টিমধু দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের ঘরোয়া পরিচর্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অন্যদিকে, দইও চুলের যত্নে পরিচিত একটি উপাদান। তবে এই দুই উপকরণ একসঙ্গে ব্যবহার করলেই চুল পড়া বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
যষ্টিমধুতে এমন কিছু উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে, যেগুলোর প্রদাহ কমানোর সম্ভাব্য গুণ নিয়ে গবেষণা হয়েছে। ত্বকের পরিচর্যাতেও এই উপাদান ব্যবহৃত হয়। তবে মাথার ত্বকে যষ্টিমধু লাগালে চুল পড়া বন্ধ হয় কিংবা নতুন চুল গজায় এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
দই চুলের পরিচর্যায় ব্যবহার করলে চুল সাময়িকভাবে নরম ও মসৃণ দেখায়। এতে চুলের শুষ্কভাব কিছুটা কমে এবং চুল আঁচড়ানোও সহজ হয়। তবে দইয়ের প্যাক চুলের গোড়া মজবুত করে, চুল পড়ার মূল কারণ দূর করে কিংবা নতুন চুল গজায় এমন প্রমাণও পর্যাপ্ত নয়।
মাথার ত্বকে আগে থেকেই খুশকি, চুলকানি, লালচে ভাব বা সংক্রমণের সমস্যা থাকলে নিজের ইচ্ছেমতো বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে লাগানোর আগে সতর্ক থাকা জরুরি। নতুন কোনও প্যাক ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
চুল পড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। যেমন—মাথার ত্বকে খুশকি, প্রদাহ বা অন্য কোনও সমস্যায় চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে। হরমোনের ওঠানামার কারণে চুল পড়তে পারে। শরীরে আয়রনসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি চুল পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের প্রভাবেও চুল ঝরতে পারে। বংশগত প্রবণতা এবং কিছু শারীরিক অসুস্থতাও চুল পড়ার জন্য দায়ী হতে পারে।
তাই চুল পড়ার কারণ না জেনে কোনও একটি হেয়ার প্যাকের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
যষ্টিমধু ও দইয়ের প্যাক চুলকে সাময়িকভাবে নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে চুল পড়া বন্ধ করার নির্ভরযোগ্য উপায় হিসেবে এই মিশ্রণের কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়। একেক জনের চুল ও মাথার ত্বকের ধরন আলাদা হওয়ায় একই প্যাক সবার ক্ষেত্রে একই ফল দেবে, এমনটাও বলা যায় না।
চুল পড়া স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়ে গেলে, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে কিংবা মাথার কোনও অংশে চুল পাতলা হয়ে গেলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ বুঝে যত্ন নেওয়াই চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।