একঘেয়ে চুলের সাজে সহজেই বিরক্ত হয়ে যান কৃতি স্যানন। কখনও ঢেউখেলানো চুল, কখনও ছোট চুল, আবার কখনও হঠাৎ করেই নতুন কোনও স্টাইল- চুল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভালোবাসেন বলিউডের এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি কারিনা কাপুর খানের অনুষ্ঠান ‘হোয়াট ওমেন ওয়ান্ট’-এর ষষ্ঠ সিজনের দ্বিতীয় পর্বে এসে নিজের চুলের সাজ নিয়ে এমনই নানা কথা ভাগ করে নিলেন কৃতি।
কারিনা কাপুর খান ওরফে বেবোর সঙ্গে এই আড্ডায় উঠে আসে সিনেমা, অভিনয়ের অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দের নানা প্রসঙ্গ। Crew ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে দুই অভিনেত্রীর কথোপকথনেও ছিল সাবলীলতা ও মজার ছোঁয়া।
লম্বা না ছোট, সোজা না ঢেউখেলানো- কেমন চুলের সাজ পছন্দ করেন কৃতি? বেবোর এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী জানান, ঢেউখেলানো চুলই তাঁর বেশি পছন্দের। তবে একই ধরনের হেয়ারস্টাইল দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারেন না তিনি। নিজের চুলের সাজে নতুনত্ব আনতে ভালোবাসেন।
কৃতির কথায়, “আমি ঢেউখেলানো চুল পছন্দ করি। চুল নিয়ে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে আমার খুব ভালো লাগে। নিজের চুলের একই ধরন দেখতে দেখতে আমি খুব তাড়াতাড়ি বিরক্ত হয়ে যাই। যদিও লম্বা চুল আমার ভীষণ পছন্দ, তবু আমি কখনও চুল খুব বেশি লম্বা হতে দিই না।”
কৃতির কথা শুনে করিনা জানান, তাঁকে কখনও খুব লম্বা চুলে দেখেননি। বরাবরই কৃতিকে কাঁধ পর্যন্ত কিংবা তার চেয়ে সামান্য লম্বা চুলে দেখেছেন তিনি। উত্তরে কৃতি মনে করিয়ে দেন, ক্রু ছবিতে তাঁর চুল ছিল ছোট।
চুলের সাজ বদলানোর ব্যাপারে কৃতি যে বেশ খামখেয়ালি, সে কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। কোনও ছবির শুটিং না থাকলে আর নিজের চুলের সাজ একঘেয়ে লাগতে শুরু করলে, হঠাৎ করেই নতুন কোনও স্টাইল বেছে নিতে পারেন তিনি। আর সেই কারণেই তাঁর হেয়ারস্টাইলিস্টকে সব সময় সতর্ক থাকতে হয়!
একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে কৃতি জানান, একটি ছবির শুটিং শুরুর আগে তাঁর হাতে তখনও দু’মাস সময় ছিল। সেই সময়ই হঠাৎ করে চুল কেটে ব্যাংস করে ফেলেন তিনি।
কৃতির কথায়, “একদিন একটি ছবির শুটিং শুরু হতে তখনও দু’মাস বাকি ছিল। সেই সময় আমি হঠাৎ করে চুল কেটে ব্যাংস করে ফেলেছিলাম।”
তাঁর এই সিদ্ধান্তে ছবির পরিচালক রীতিমতো অবাক হয়ে যান। কৃতি তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে দু’মাসের মধ্যে ব্যাংস বড় হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চুল প্রত্যাশামতো বড় হয়নি।
ছোট চুল পছন্দ করলেও তার একটি অসুবিধার কথা স্বীকার করেন অভিনেত্রী। ছোট চুলে চুলের সাজ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ তুলনায় কম। তাই একসময় আবার চুল দ্রুত বড় হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন তিনি। করিনার মন্তব্য, কৃতির ছোট ও লম্বা দুই ধরনের চুলই পছন্দ।
চুলের সাজ নিয়ে খোলামেলা আলোচনার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ও আত্মবিশ্বাস নিয়েও কথা বলেছেন কৃতি। ২০২৬ সালের এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট-এ ‘দ্যা মেকিং অফ এ মডার্ন স্টার’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে ককটেইল ২ ছবিতে তাঁর গ্ল্যামারাস লুক সম্পর্কে মুখ খোলেন অভিনেত্রী।
হিরোপান্তি ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেকের পর প্রায় ১২ বছর কেটে গেলেও, এর আগে কোনও ছবিতে বিকিনি দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি হননি কৃতি। নিজের শরীর নিয়ে স্বচ্ছন্দ বোধ করাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অভিনেত্রীর কথায়, “আমি মনে করি, আমিই আমার সবচেয়ে বড় সমালোচক। নিজেকে এতটাই খুঁটিয়ে বিচার করি যে অন্য সবকিছুর চেয়ে এটা নিয়েই বেশি ভাবি। আমার মনে হলে যে আমি নিজের সেরাটা দিতে পারিনি, সেটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায়।”
ককটেইল ২-তে নিজের চরিত্র নিয়ে তিনি যে খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন, সে কথাও জানান কৃতি। তাঁর কথায়, “১২ বছর পর আমি একটি বিকিনি দৃশ্যে অভিনয় করেছি। এমন একটি দৃশ্যের ক্ষেত্রে শারীরিকভাবে ফিট থাকার চেয়েও বেশি জরুরি হল নিজের শরীর নিয়ে স্বচ্ছন্দ বোধ করা।”
কৃতির এই বক্তব্যে স্পষ্ট, নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া, নতুন কিছু করার সাহস রাখা এবং নিজের শরীর নিয়ে স্বচ্ছন্দ থাকাও ব্যক্তিগত সৌন্দর্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।