শিশুর খাবারে প্রোটিনের ঘাটতি হচ্ছে বুঝবেন কীভাবে?

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, পেশি গঠন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে প্রোটিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বেড়ে ওঠার সময়ে পর্যাপ্ত প্রোটিন না পেলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু খাবারে প্রোটিনের ঘাটতি হচ্ছে কি না, তা বুঝবেন কীভাবে?

শিশুর খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন আচরণে কিছু পরিবর্তন এ ক্ষেত্রে সতর্কসংকেত হতে পারে। বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালের পুষ্টিবিদ কামার আফসানের মতে, কয়েকটি লক্ষণের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। যেমন-

প্রোটিনের ঘাটতির ৫ সম্ভাব্য লক্ষণ

শিশুর খাদ্যে প্রোটিনের ঘাটতির সম্ভাব্য লক্ষণগুলো হলো-

১. ঘন ঘন খিদে পাওয়া: শিশু যদি বারবার বিস্কুট, চিপস বা অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাবার খেতে চায়, তা হলে তার প্রতিদিনের খাবারের পুষ্টিমান খতিয়ে দেখা দরকার। মূল খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকলে পেট বেশিক্ষণ ভরা না-ও থাকতে পারে। ডাল, ডিম, দুধ, দই, পনির, মাছ, মাংস ও ছোলার মতো খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

২. অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়া: খেলাধুলা বা দৈনন্দিন কাজের সময় শিশু যদি দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তা হলে তার খাবারের দিকে নজর দিন। ডিম, দুধ, পনির ও ছোলার মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। তবে ক্লান্তির অন্য কারণও থাকতে পারে।

৩. ওজন বা উচ্চতা না বাড়া: বয়স অনুযায়ী শিশুর ওজন ও উচ্চতা প্রত্যাশিত হারে না বাড়লে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। পর্যাপ্ত প্রোটিনের পাশাপাশি মোট ক্যালোরি ও অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতিও স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা দিতে পারে। তাই নিয়মিত শিশুর ওজন ও উচ্চতা মাপুন। বৃদ্ধি ব্যাহত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৪. বারবার অসুস্থ হওয়া: প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। শিশু ঘন ঘন অসুস্থ হলে বা অসুখ থেকে সেরে উঠতে বেশি সময় নিলে তার পুষ্টির অবস্থা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৫. পেশির দুর্বলতা, ত্বক-চুলের পরিবর্তন ও ক্ষত শুকোতে দেরি: পেশির দুর্বলতা, চুল বা ত্বকের অস্বাভাবিক পরিবর্তন এবং ক্ষত শুকোতে দেরি হওয়া অপুষ্টির লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে ওজন কমে যাওয়ার সঙ্গে এই সমস্যাগুলি দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। শিশুর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বয়স অনুযায়ী কতটা প্রোটিন প্রয়োজন?

শিশুর বয়স, ওজন ও শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী প্রোটিনের প্রয়োজন বদলায়। তাই শুধু কয়েকটি লক্ষণ দেখে প্রোটিনের ঘাটতি নিশ্চিত করা যায় না। শিশুর খাবারে ডাল, ডিম, দুধ, মাছ, মাংস ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের বৈচিত্র্য রাখুন। ওজন বা উচ্চতা ঠিকমতো না বাড়লে কিংবা একাধিক লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট না দিয়ে শিশু চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।