পূজার ক’দিন সাজগোজ, ঠাকুর দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর রাত জাগা সব মিলিয়ে ত্বকের ওপর দিয়ে কম ধকল যায় না। কখনও ভারী ফাউন্ডেশন, কখনও কাজল-মাসকারা, আবার কখনও দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার কারণে মুখে জমে ধুলোবালি। তার ওপর ঘুমের অনিয়ম। উৎসবের আনন্দ শেষে আয়নায় মুখ দেখেই যদি মনে হয় ত্বক নিষ্প্রাণ, রুক্ষ কিংবা ক্লান্ত দেখাচ্ছে, তা হলে এখনই যত্ন নেওয়ার সময়। তবে ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফেরাতে দামি ফেশিয়াল করতেই হবে, এমন নয়। বরং নিয়মিত ও কোমল পরিচর্যায় ত্বককে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সাহায্য করতে পারেন।
উৎসবের দিনগুলোতে টানা মেকআপ করার পর ত্বককে কিছুটা বিরতি দিন। কয়েক দিন হালকা সাজে থাকুন। তবে মেকআপ না করলেও ত্বকের নিয়মিত যত্ন বন্ধ করবেন না। সকালে মুখ পরিষ্কার করে ময়শ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। আর মেকআপ করলে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ভালোভাবে তুলে ফেলুন। চোখের কাজল ও মাসকারা পরিষ্কার করার সময় বিশেষ সতর্ক থাকুন, যাতে চোখের চারপাশের সংবেদনশীল ত্বকে টান না পড়ে। মেকআপ তোলার জন্য ত্বক-উপযোগী মেকআপ রিমুভার বা ক্লিনজিং অয়েল ব্যবহার করুন।
বাইরে ঘোরাঘুরি, ঘাম, সানস্ক্রিন ও মেকআপের অবশিষ্টাংশ ত্বকে জমে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল-বেসড ক্লিনজার আর শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়শ্চারাইজিং উপাদানযুক্ত ক্লিনজার উপযোগী। তবে মুখ পরিষ্কার করতে গিয়ে বারবার ধোয়া বা অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না। তাতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে শুষ্কতা ও জ্বালাভাব বাড়তে পারে।
ত্বকে মৃত কোষ জমলে মুখ কিছুটা রুক্ষ ও অনুজ্জ্বল দেখায়। সে ক্ষেত্রে উপযুক্ত এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহারে উপকার মেলে। ত্বক সংবেদনশীল হলে, ব্রণ থাকলে কিংবা জ্বালা-লালচে ভাব দেখা দিলে স্ক্রাব এড়িয়ে চলুন।
ঠোঁটের যত্নেও নজর দিন। দীর্ঘক্ষণ ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহারে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। ঠোঁটে নিয়মিত ময়শ্চারাইজিং লিপ বাম লাগান। চিনি দিয়ে জোরে ঘষে ঠোঁটের মৃত কোষ তোলার চেষ্টা করবেন না। এতে ফাটাভাব ও জ্বালা বাড়তে পারে।
ত্বকের পরিচর্যায় স্টিম বা ভাপ নিতে পারেন। এতে রোমকূপ খুলে যায়, আর সহজেই ময়লা বেরিয়ে আসে। তবে অতিরিক্ত গরম ভাপ ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব কিংবা পোড়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বক বা রোসেশিয়ার সমস্যা থাকলে ভাপ নেওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।
পূজার পর ত্বককে সতেজ দেখাতে ফেস মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। তৈলাক্ত ত্বকে ক্লে মাস্ক অতিরিক্ত তেল শোষণ করে। অন্যদিকে শুষ্ক ত্বকের জন্য হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা গ্লিসারিনের মতো আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক উপাদানযুক্ত হাইড্রেটিং মাস্ক বেছে নিন। তবে মাস্ক ব্যবহার করলেই ত্বকের সব সমস্যা দূর না। নতুন কোনও পণ্য মুখে লাগানোর আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নিন। জ্বালা বা অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলুন।
ত্বকের যত্ন মানে শুধু মুখে নানা পণ্য লাগানো নয়। উৎসবের পর ঘুমের নিয়ম ফিরিয়ে আনা, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং সুষম খাবার খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। ত্বক শুষ্ক লাগলে নিয়মিত ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন। দিনের বেলায় বাইরে বেরোলে সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না।
মনে রাখবেন, ত্বকের ‘ডিটক্স’ বলতে বিশেষ কোনও প্রসাধনী দিয়ে ত্বকের ভেতরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়াকে বোঝায় না। বরং ত্বককে কোমলভাবে পরিষ্কার রাখা, আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত প্রসাধনীর ব্যবহার থেকে বিরতি দেওয়াই মূল কথা। পূজার পর ত্বককে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে তাই তাড়াহুড়ো নয়, নিয়মিত যত্নই হোক আপনার ভরসা।