যোগের সাধনা নাকি পদকের লড়াই, কোন পথে এগোচ্ছে যোগব্যায়াম?

যোগব্যায়াম কি কেবল শরীর ও মনের প্রশান্তির চর্চা, নাকি এটি হতে পারে প্রতিযোগিতামূলক খেলাও? ভারতের যোগাসনকে অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ এই প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। সমর্থকেরা বলছেন, প্রতিযোগিতা যোগাসনের দক্ষতা ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, নম্বর আর পদকের প্রতিযোগিতায় যোগের আত্মিক দিকটি আড়ালে পড়ে যাবে।

ভারতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে ৭৯টি দেশের ৫২২ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। আয়োজনটি দর্শকদের সামনে যোগাসনের শারীরিক দক্ষতা, ভারসাম্য ও কঠিন ভঙ্গি ধরে রাখার ক্ষমতা তুলে ধরে। ভারত সরকারও যোগাসনকে অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

যোগাসন প্রতিযোগিতার সমর্থকদের মতে, এটি জিমন্যাস্টিকসের মতো শক্তি, নমনীয়তা, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষা। তবে এখানে কঠিন ভঙ্গি তৈরি করাই শেষ কথা নয়। নির্দিষ্ট সময় ধরে স্থির ও নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু যোগশিক্ষক দিব্যা কোহলির মতো সমালোচকেরা মনে করেন, যোগের মূল শিক্ষা হলো নিজের অহংকে অতিক্রম করা এবং বাইরের স্বীকৃতির ওপর নির্ভরশীল না হওয়া। শারীরিক ভঙ্গির কঠিনতার ভিত্তিতে নম্বর দেওয়া ও পুরস্কার নির্ধারণের ধারণাকে তিনি তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে, প্রতিযোগিতার সমর্থকেরা বলছেন, এতে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে যোগাসনকে প্রতিযোগিতামূলক খেলায় চর্চা করতে পারেন, আবার অন্যরা যোগের প্রচলিত ধ্যান ও আত্মিক অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারেন।

যোগাসনকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিষ্ঠা করতে হলে আরও অনেক দেশের স্বীকৃতি ও সংগঠিত কাঠামো প্রয়োজন। ফলে অলিম্পিকে এর অন্তর্ভুক্তি এখনো নিশ্চিত নয়।

বিতর্কের কেন্দ্রে তাই একটি প্রশ্নই রয়ে গেছে, প্রতিযোগিতা কি যোগের বিস্তার ঘটাবে, নাকি আত্মসচেতনতা ও অন্তর্গত প্রশান্তির চর্চাকে পদক জয়ের দৌড়ে পরিণত করবে?