গলায় রাজকীয় মুক্তো আর পায়ে আটপৌরে জুতো, এ কেমন ফ্যাশন দিবস?

গলায় রাজকীয় মুক্তোর মালা, পায়ে আটপৌরে কেডস—ফ্যাশনের এমন অদ্ভুত অথচ নজরকাড়া সংমিশ্রণ ঘিরেই ‘চাঙ্কস-এন-পার্লস ডে’। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের পরিচিত সাজ থেকে অনুপ্রাণিত এই দিবসে স্নিকার্স ও মুক্তোর গয়নায় নিজেদের সাজিয়ে তোলেন অনেকে। তবে এটি কেবল ফ্যাশনের উদ্‌যাপন নয়, রাজনীতিতে নারীদের সাফল্য, নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ারও একটি উপলক্ষ।

ক্যাজুয়াল স্নিকার্সের সঙ্গে মুক্তোর গয়নার এই সমন্বয় ফ্যাশনের পাশাপাশি নারীদের সাফল্য ও নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কমলা হ্যারিস যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী, প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তাঁর এই পথচলা বহু নারীকে অনুপ্রাণিত করেছে।

চাঙ্কস-এন-পার্লস দিবসের ইতিহাস

২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি কমলা হ্যারিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথগ্রহণের দিন তাঁকে সম্মান জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে নারীরা মুক্তোর মালা ও কনভার্স স্নিকার্স পরে উদ্‌যাপনে অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে এই সাজের ছবি। পরে এই ফ্যাশনধারাকে ঘিরে নির্দিষ্ট দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয়। দিবসটির উদ্যোক্তা হিসেবে লাটাঙ্গা রেনির নাম উল্লেখ করা হয়।

মুক্তোর সঙ্গে কমলা হ্যারিসের সম্পর্ক তাঁর ছাত্রজীবনের স্মৃতি বহন করে। হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি আলফা কাপ্পা আলফা সরোরিটির সদস্য হন। এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ২০ জন নারী ‘টুয়েন্টি পার্লস’ নামে পরিচিত। সংগঠনটির ঐতিহ্যেও মুক্তোর বিশেষ স্থান রয়েছে।

অন্যদিকে, চাক টেলর স্নিকার্স হ্যারিসের পরিচিত পোশাকের অন্যতম অনুষঙ্গ। নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁকে প্রায়ই এই জুতোর সঙ্গে মুক্তোর মালা পরতে দেখা যেত। আরামদায়ক জুতো ও মার্জিত গয়নার এই মিশেল তাঁর নিজস্ব স্টাইলকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দিন?

চাঙ্কস-এন-পার্লস ডে-র তাৎপর্য পোশাকের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। রাজনীতি ও নেতৃত্বে নারীদের অগ্রগতি, তাঁদের অর্জন এবং সমান সুযোগের গুরুত্ব তুলে ধরারও একটি উপলক্ষ এটি। হ্যারিসের ঐতিহাসিক সাফল্যকে স্মরণ করে অনেকেই নারীদের নেতৃত্বে অংশগ্রহণের পক্ষে নিজেদের সমর্থন জানান।

স্নিকার্স ও মুক্তোর গয়নার সমন্বয় এখানে স্বকীয়তা, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার প্রতীক। এর মাধ্যমে প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে ব্যক্তিত্ব প্রকাশের বার্তাও উঠে আসে।

কীভাবে উদ্‌যাপন করবেন?

পছন্দের চাক টেলর স্নিকার্সের সঙ্গে মুক্তোর মালা, কানের দুল কিংবা অন্য গয়না মিলিয়ে সাজতে পারেন। ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে এই সমন্বয় তৈরি করবে স্বতন্ত্র লুক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ভাগ করে নিতে পারেন।

বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনলাইনে ছোট আয়োজন করা যায়। সেখানে সবাই নিজেদের সাজ দেখাতে পারেন। পাশাপাশি ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য নারী নেত্রীদের নিয়ে কুইজ কিংবা ভার্চুয়াল ফ্যাশন শোর আয়োজনও করা যেতে পারে।

নিজেকে অনুপ্রাণিত করেছেন এমন নারীদের জীবন ও কাজের কথা তুলে ধরুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, ব্লগ কিংবা আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের সাফল্য ও সংগ্রামের গল্প অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। কমলা হ্যারিসের পথচলার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রের নারী নেত্রীদের অবদানও আলোচনায় আনতে পারেন।

রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। নারী প্রার্থীদের কাজ সম্পর্কে জানা, তাঁদের উদ্যোগকে সমর্থন করা কিংবা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করা সংগঠনের পাশে দাঁড়ানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ।

স্থানীয় নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য কিনতে পারেন, তাঁদের পরিচালিত দোকান বা রেস্তরাঁয় যেতে পারেন। এতে তাঁদের ব্যবসার প্রসার ও আর্থিক স্বাবলম্বিতার পথ সুগম করতে সহায়তা মিলবে।

দিনটির ভাবনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আঁকতে পারেন ছবি, তৈরি করতে পারেন হাতে বানানো গয়না কিংবা ছোট ভিডিও। নিজের তৈরি কাজ অনলাইনে ভাগ করে অন্যদেরও উদ্‌যাপনে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে পারেন।

রাজনীতিতে নারীদের ইতিহাস, তাঁদের সংগ্রাম ও সাফল্য সম্পর্কে জানতে নারীদের জীবনী পড়তে পারেন কিংবা তথ্যচিত্র দেখার আয়োজন করতে পারেন। বন্ধুদের নিয়ে পাঠচক্র বা আলোচনা সভা করলেও বিষয়টি সম্পর্কে জানার সুযোগ বাড়বে।

চাঙ্কস-এন-পার্লস ডে একদিকে ফ্যাশনের স্বতন্ত্র প্রকাশ, অন্যদিকে নারীদের অর্জন ও নেতৃত্বকে স্মরণ করার উপলক্ষ। স্নিকার্স ও মুক্তোর সাজের মধ্য দিয়ে দিনটি মনে করিয়ে দেয়, নিজস্বতা বজায় রেখেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।