সন্তান জন্মের ছ’সপ্তাহেই র‍্যাম্পে, কীভাবে তৈরি হলেন বারবারা?

সন্তান জন্মের মাত্র ছ’সপ্তাহ পর ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেটের ফ্যাশন শোয়ে হেঁটে নজর কেড়েছেন হাঙ্গেরির সুপারমডেল বারবারা পালভিন। হালকা গোলাপি রঙের ছোট পোশাকে তাঁর র‍্যাম্পে হাঁটার মুহূর্তটি ২০২৬ সালের অন্যতম চর্চিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। দর্শকদের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি স্বামী ডিলান স্প্রাউসকেও তাঁকে উৎসাহ দিতে দেখা যায়।

বারবারার এই উপস্থিতিকে অনেকেই নারীর আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে দেখেছেন। তবে সন্তান জন্মের মাত্র ছ’সপ্তাহের মধ্যে কীভাবে র‍্যাম্পে হাঁটার জন্য প্রস্তুত হলেন তিনি, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

‘পিপল’ পত্রিকাকে বারবারা জানান, শোয়ের পরের দিনই তাঁর প্রসবের ছ’সপ্তাহ পূর্ণ হবে। আমেরিকায় অনেক নারীকে এই সময়ের মধ্যেই কাজে ফিরতে হয় বলে মনে করেন তিনি। নিজেকে ভালো লাগছে জানিয়ে বারবারা বলেন, ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেটের দল তাঁকে এই শোয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে, যা তাঁর কাছে অনুপ্রেরণার।

বারবারার প্রস্তুতির খুঁটিনাটি জানিয়েছেন তাঁর প্রশিক্ষক ড্যান অ্যাডেয়ার। এই নিয়ে তৃতীয়বার ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেটের শোয়ের জন্য মডেলকে তৈরি করলেন তিনি। তবে এ বার পরিস্থিতি ছিল কিছুটা আলাদা। গত বছর বারবারার এন্ডোমেট্রিওসিসের অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তার ওপর শোয়ের কয়েক সপ্তাহ আগে পায়ের হাড়ও ভেঙে যায় তাঁর। এ বছর ঠিক একই তারিখে সন্তানের জন্ম দেন মডেল।

ড্যানের কথায়, প্রসবের পর সুস্থ হয়ে ওঠার পাশাপাশি শরীরচর্চা করে আগের মতো প্রস্তুতি নেওয়া বারবারার কাছে সহজ ছিল না। প্রশিক্ষকের পক্ষেও তাঁকে তৈরি করা ছিল চ্যালেঞ্জের। তবে চিকিৎসকেরা শরীরচর্চার অনুমতি দেওয়ার পরই ধীরে ধীরে অনুশীলন শুরু করেন তিনি। কোনও কঠিন বা অস্বাভাবিক পদ্ধতি নয়, মূলত পেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম এবং নিয়মিত হাঁটার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। শোয়ের দিন যত এগিয়ে এসেছে, ততই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি লসিকা প্রবাহে সহায়ক মালিশও করিয়েছেন বারবারা।

শরীরচর্চার পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দিয়েছিলেন মডেল। তাঁর খাদ্যতালিকায় ছিল পুষ্টিকর খাবার এবং পেশির গঠন মজবুত রাখতে প্রয়োজনমতো প্রোটিন। শরীরে শক্তি বজায় রাখার দিকেও খেয়াল রাখা হয়েছিল।

ড্যান জানিয়েছেন, প্রস্তুতির পথ মোটেই সহজ ছিল না। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিরাপদ ও পরিকল্পিতভাবেই সব কিছু করা হয়েছে। এমনও দিন গিয়েছে, যখন ক্লান্তি ও মানসিক চাপ থাকা সত্ত্বেও জিমে হাজির হয়েছেন বারবারা। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।

তবে বারবারার এই প্রস্তুতিকে অন্য সদ্য মায়েদের জন্য কোনও মাপকাঠি হিসেবে দেখার পক্ষপাতী নন মডেল নিজেই। ইনস্টাগ্রামে তিনি জানিয়েছেন, প্রত্যেক নারীর প্রসব-পরবর্তী অভিজ্ঞতা আলাদা। তাই এই সময়ে একে অপরের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেটের দল তাঁর প্রসব-পরবর্তী শারীরিক অবস্থাকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। এমনকি র‍্যাম্পে হাঁটার পোশাকে স্তন্যপানের প্যাড সেলাই করে বসাতে হয়েছিল বলে মজাও করেছেন বারবারা।