মুখে বরফ ঘষলেই ছোট হবে ওপেন পোরস, সত্যি নাকি মিথ?

সমাজমাধ্যম খুললেই চোখে পড়ে নানা রকম রূপচর্চার কৌশল। তার মধ্যে অন্যতম মুখে বরফ ঘষা। দাবি, নিয়মিত এই পদ্ধতি মেনে চললে নাকি ত্বকের ওপেন পোরস ছোট হয়ে যায়, মুখে আসে বাড়তি উজ্জ্বলতা। কিন্তু সত্যিই কি বরফের ছোঁয়ায় গায়েব হতে পারে ত্বকের ছিদ্র? নাকি সাময়িক স্বস্তির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে ত্বকের ক্ষতির আশঙ্কা?

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখে বরফ ঘষলে পোরসের আকার স্থায়ীভাবে ছোট হয় না। ঠান্ডার প্রভাবে ত্বকের রক্তনালি সাময়িকভাবে সংকুচিত হয়। ফলে মুখের ফোলা ভাব কমতে পারে, ত্বক কিছুটা টানটান দেখায়। সেই কারণেই পোরস তুলনায় ছোট মনে হয়। তবে এই পরিবর্তন সাময়িক।

ত্বকের পোরস বা ছিদ্র আসলে চুলের গোড়া এবং তেল গ্রন্থির স্বাভাবিক মুখ। এর আকার নির্ভর করে বংশগত বৈশিষ্ট্য, ত্বকের ধরন, তেল উৎপাদন এবং বয়সের ওপর। তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত তেল ও মৃত কোষ জমলে পোরস আরও স্পষ্ট দেখাতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে কোলাজেন কমে গেলেও পোরসের উপস্থিতি বেশি চোখে পড়ে।

মুখে বরফ ঘষলে কী ক্ষতি হতে পারে?

বরফ সরাসরি মুখে লাগালে বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব ও শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বরফের সংস্পর্শে থাকলে ত্বকে কোল্ড বার্ন বা ঠান্ডাজনিত ক্ষতও হতে পারে। যাদের রোসেশিয়া বা ত্বকের অন্য কোনও সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বরফ ব্যবহার করলে উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে। তাই সরাসরি মুখে বরফ ঘষা এড়িয়ে চলাই ভালো।

ওপেন পোরসের যত্ন নেবেন কীভাবে?

ত্বকের পোরসের উপস্থিতি কম চোখে পড়ার জন্য নিয়মিত পরিচর্যা জরুরি। দিনে দু’বার মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমলে স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত প্রসাধনী কাজে আসতে পারে। তবে ত্বকের ধরন বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তা ব্যবহার করা ভালো।

রেটিনয়েড ত্বকের গঠন ও কোলাজেনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই ধরনের উপাদান ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিদিন নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

মুখের ফোলা ভাব কমাতে বরফ ব্যবহার করতে চাইলে সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না। নরম কাপড়ে বরফ মুড়ে অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করুন। অস্বস্তি, জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করুন। ভাইরাল রূপচর্চার কৌশল মেনে চলার আগে নিজের ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন বুঝে নেওয়াই ভালো।