কোনও কাজ করার আগে একবার ভেবে দেখুন। সিদ্ধান্তটি কতটা যুক্তিসংগত, এর পরিণতি কী হতে পারে—এসব বিবেচনা করলেই অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। দৈনন্দিন জীবনে সাধারণ বুদ্ধি ও বিবেচনাবোধের গুরুত্ব মনে করিয়ে দিতে প্রতি বছর ৪ নভেম্বর পালিত হয় ‘নিজের সাধারণ বুদ্ধি কাজে লাগান’ দিবস।
জীবনের নানা ক্ষেত্রে সামান্য ভেবেচিন্তে কাজ করলেই বড় ভুল এড়ানো যায়। অথচ কখনও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, কখনও হঠকারিতা মানুষকে এমন কিছু করতে প্ররোচিত করে, যা পরে হাস্যকর কিংবা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। যেমন, একবার ডাক পরিষেবার একটি চিঠিতে বলা হয়েছিল, কেউ ইংরেজি না জানলে বা চিঠির বক্তব্য বুঝতে না পারলে স্থানীয় ডাকঘরে গিয়ে সাহায্য নিতে পারেন। কিন্তু যিনি চিঠির ভাষাই বুঝতে পারছেন না, তিনি যে ডাকঘরে যেতে হবে, সেটি বুঝবেন কী করে? আবার এক নারী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, তার প্রাক্তন সঙ্গী তাকে বার্তা পাঠাচ্ছেন। হাতের লেখা দেখেই তিনি নাকি প্রেরককে শনাক্ত করেছেন। এমন ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, কোনও কিছু করার আগে একটু চিন্তা করা কতটা জরুরি।
দিনটির সূচনা করেন বাড বিলানিচ। পেশাগত জীবন ও কর্মজীবনের পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত তিনি। তাঁর মতে, সাধারণ বুদ্ধি ও বাস্তববোধ সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এ বিষয়ে তিনি একাধিক বইও লিখেছেন।
সাধারণ বুদ্ধি বা বিবেচনাবোধের ধারণা অবশ্য বহু পুরনো। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল মানুষের পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের অনুভূতিকে একত্রে বোঝার ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। পরে রোমান চিন্তায় সাধারণ মানুষের প্রচলিত ধারণা ও উপলব্ধির সঙ্গে বিষয়টি যুক্ত হয়। সময়ের সঙ্গে সাধারণ বুদ্ধি বলতে দৈনন্দিন জীবনের সহজ, স্বাভাবিক ও যুক্তিসংগত বিষয় বোঝাতে শুরু করে। যেমন, মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য মাইক্রোওয়েভে ঢুকিয়ে দেওয়া যে বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের কাজে একটু বেশি সচেতন হওয়াই যথেষ্ট। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাড়াহুড়ো না করে পরিস্থিতি বুঝুন, সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে ভাবুন। আবেগ বা হঠকারিতার বশে কিছু করার আগে নিজেকে সময় দিন। অন্যের ভুল থেকেও শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ, অনেক সময় জটিল সমস্যার সমাধান লুকিয়ে থাকে সাধারণ বুদ্ধি আর একটু ভেবেচিন্তে কাজ করার মধ্যেই।