সংসার সামলানো কি আদৌ কোনও কাজ? যারা দিনের পর দিন ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা, রান্না করা, সন্তানদের দেখাশোনা থেকে শুরু করে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের প্রয়োজন মেটাতে ব্যস্ত থাকেন, তাদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন কি হয়? অনেক সময়ই গৃহস্থালির কাজকে সহজ বা স্বাভাবিক দায়িত্ব বলে ধরে নেওয়া হয়। অথচ একটি সংসার সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে প্রয়োজন যথেষ্ট সময়, শ্রম, ধৈর্য ও পরিকল্পনা। গৃহিণী ও গৃহকর্তাদের এই নিরলস পরিশ্রমের স্বীকৃতি দিতেই পালিত হয় গৃহিণী দিবস বা হোমমেকার ডে।
প্রতি বছর ৩ নভেম্বর পালিত হয় এই দিবস। দিনটি মূলত তাদের সম্মান জানানোর উপলক্ষ, যারা সংসার ও পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন। শুধু নারীরাই নন, পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে ঘর সামলানো পুরুষদের অবদানও এই দিবসের মাধ্যমে স্বীকৃতি পায়।
বর্তমান সময়ে কর্মজীবনকে সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়। ফলে যারা ঘরে থেকে সংসার পরিচালনা করেন, তাদের কাজ অনেক সময় যথাযথ গুরুত্ব পায় না। অনেকের ধারণা, বাড়িতে থাকা মানেই অবসর কাটানো। কিন্তু বাস্তবে পরিবারের সবার খাবারের ব্যবস্থা করা, ঘর পরিষ্কার রাখা, শিশুদের পড়াশোনা ও যত্ন নেওয়া, বাজার করা এবং প্রতিদিনের অসংখ্য ছোট-বড় কাজ সামলানো মোটেও সহজ নয়। এসব কাজের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা বা ছুটিও থাকে না।
গৃহিণী দিবসের ইতিহাস
জাতীয় গৃহিণী দিবসের ইতিহাস সম্পর্কে খুব বেশি নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। অনলাইন সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে দিবসটির পরিচিতি বাড়তে শুরু করে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে গৃহস্থালির দায়িত্ব সামলানো ব্যক্তিরা অনলাইনে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ ভাগ করে নিতে শুরু করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিবসটি নিয়ে আলোচনা ও প্রচার বাড়ে। ২০১৩ সালে #NationalHomemakerDay হ্যাশট্যাগটি টুইটারে জনপ্রিয়তা পায়।
সময়ের সঙ্গে গৃহস্থালির কাজের ধরন বদলেছে। আধুনিক প্রযুক্তি অনেক কাজ সহজ করলেও সংসার পরিচালনার দায়িত্বের গুরুত্ব কমেনি। বরং পরিবার ও সমাজে গৃহিণী এবং গৃহকর্তাদের অবদান সম্পর্কে সচেতনতা বেড়েছে।
তাই গৃহিণী দিবস পরিবারের নেপথ্যে থাকা মানুষগুলোর শ্রম ও ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দেওয়ার উপলক্ষ। তবে তাদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা যেন শুধু ৩ নভেম্বরেই সীমাবদ্ধ না থাকে। বছরের প্রতিটি দিনই তাদের কাজের মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন।