বায়ুদূষণে রুক্ষ হচ্ছে চুল? যত্ন নিন ৫ ঘরোয়া মাস্কে

বায়ুদূষণের প্রভাব শুধু ফুসফুস বা ত্বকেই সীমাবদ্ধ নয়, ক্ষতি হতে পারে চুলেরও। বাতাসে ভেসে থাকা ধুলোবালি ও ক্ষতিকর রাসায়নিক কণা চুলে জমে কিউটিকলের ক্ষতি করতে পারে। ফলে চুল হয়ে উঠতে পারে রুক্ষ, নিষ্প্রাণ। দূষণের পাশাপাশি জলদূষণ এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনও চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই শীত পড়ার আগেই চুলের যত্নে বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি।

চুলের শুষ্কতা কমাতে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে ঘরোয়া উপাদানে তৈরি কয়েকটি মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, এগুলি চুলের পরিচর্যায় সহায়ক হতে পারে, দূষণের ক্ষতি পুরোপুরি ঠেকানোর বিকল্প নয়।

টক দই ও মধুর মাস্ক: টক দই চুল পরিষ্কারে সাহায্য করতে পারে, আর মধু আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক। চার চামচ টক দইয়ের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে চুলে লাগান। ২০-৩০ মিনিট রেখে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।

ডিম ও অলিভ অয়েলের মাস্ক: ডিমে রয়েছে প্রোটিন, আর অলিভ অয়েল চুলের শুষ্কতা কমিয়ে নরম রাখতে সাহায্য করে। একটি ডিম ফেটিয়ে তাতে দু’চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে চুলে লাগান। ১৫-২০ মিনিট পর ঠান্ডা বা হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন।

অ্যালোভেরা ও নারকেল তেলের মাস্ক: অ্যালোভেরা জেল মাথার ত্বকে আরাম দিতে পারে। নারকেল তেল চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। চার চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে দু’চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে চুল ও মাথার ত্বকে লাগান। ২০-৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। মাথার ত্বকে অস্বস্তি বা চুলকানি হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।

কলা ও মেথির মাস্ক: পাকা কলা চুলের শুষ্কতা কমিয়ে নরম করতে সাহায্য করে। অন্য দিকে, মেথি চুলের পরিচর্যায় বহুল ব্যবহৃত একটি উপাদান। একটি পাকা কলা ভালো করে চটকে তার সঙ্গে দু’চামচ মেথিগুঁড়ো মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট রাখুন। তারপর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন, যাতে চুলে কলা বা মেথির অংশ লেগে না থাকে।

গ্রিন টি ও লেবুর রসের মাস্ক: গ্রিন টি-তে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এক কাপ গ্রিন টি তৈরি করে ঠান্ডা করে নিন। তাতে এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগান। ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। তবে মাথার ত্বক সংবেদনশীল হলে বা শুষ্কতা, চুলকানি কিংবা ক্ষত থাকলে লেবুর রস ব্যবহার না করাই ভালো।

যে কোনও ঘরোয়া মাস্ক ব্যবহারের আগে হাতে বা ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নিন। অ্যালার্জি বা জ্বালাভাব হলে ব্যবহার করবেন না। চুলের ধরন অনুযায়ী মাস্ক বেছে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা, বাইরে গেলে মাথা ঢেকে রাখা এবং চুলে ধুলোবালি জমতে না দেওয়ার অভ্যাসও উপকারী।