ঘন, কালো, ঝলমলে চুলের আকাঙ্ক্ষা কমবেশি সবারই। চুলের যত্নে কেউ ভরসা রাখেন দামি প্রসাধনীতে, কেউ আবার ফিরে যান ঘরোয়া উপায়ে। বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা আরোরা ও তাঁর বোন আমৃতা আরোরার চুলের যত্নের চর্চা ঘিরে আলোচনায় এসেছে তাঁদের মায়ের হাতে তৈরি ভেষজ তেলের কথা। তাঁদের পারিবারিক চুলের যত্নের রুটিনে রয়েছে কয়েকটি পরিচিত উপাদানের মিশ্রণ।
নারকেল তেল, ক্যাস্টর অয়েল, কালোজিরে, মেথি আর জবাফুল- সহজে পরিচিত এই উপকরণগুলো দিয়েই তৈরি হয় ঘরোয়া তেলটি। তবে চুল পড়া বন্ধ করা কিংবা অকালে চুল পাকা ঠেকানোর ক্ষেত্রে এই তেল কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই।
কী কী লাগবে এই তেল তৈরি করতে?
ঘরেই তেলটি তৈরি করতে প্রয়োজন এক কাপ নারকেল তেল, আধা কাপ ক্যাস্টর অয়েল, আধা কাপ কালোজিরের তেল, এক চামচ কালোজিরে, এক চামচ মেথির দানা, একটি গোটা পেঁয়াজবাটা এবং কয়েকটি তাজা জবাফুল।
কী ভাবে তৈরি করবেন?
প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্রে নারকেল তেল, ক্যাস্টর অয়েল ও কালোজিরের তেল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এরপর তাতে কালোজিরে, মেথির দানা, পেঁয়াজবাটা এবং জবাফুলের পাপড়ি যোগ করুন। সব উপকরণ মিশিয়ে অল্প আঁচে গরম করুন। তেল বেশি গরম হয়ে ধোঁয়া উঠতে দেবেন না।
এরপর চুলা বন্ধ করে তেলটি সম্পূর্ণ ঠান্ডা হতে দিন। পরিষ্কার কাপড় বা সূক্ষ্ম ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে শুকনো, পরিষ্কার পাত্রে রাখুন। যেহেতু মিশ্রণে পেঁয়াজবাটা ও তাজা ফুলের মতো জলীয় উপাদান রয়েছে, তাই ঘরে তৈরি তেল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ না করাই ভালো। অল্প পরিমাণে তৈরি করুন এবং দুর্গন্ধ, রং বা গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে ব্যবহার করবেন না।
কোন উপাদানের কী ভূমিকা?
নারকেল তেল চুলের কাণ্ডে প্রোটিনের ক্ষয় কমাতে সহায়তা করে। ক্যাস্টর অয়েল ঘন হওয়ায় চুলে মসৃণ অনুভূতি দেয়। মেথি, কালোজিরে ও জবাফুল দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া চুলের পরিচর্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ব্যবহারের আগে সতর্কতা
মাথার ত্বকে তেল ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় লাগিয়ে দেখে নিন। চুলকানি, জ্বালা বা লালচে ভাব হলে ব্যবহার বন্ধ করুন। পেঁয়াজ বা অন্য উপাদানে সংবেদনশীলতা থাকলে বিশেষ সতর্ক থাকুন। অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার ত্বকে সমস্যা বা অল্প বয়সে দ্রুত চুল পাকার ঘটনা দেখা দিলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
মালাইকা-আমৃতার চুলের যত্নের আলোচনায় ঘরোয়া তেলের এই রেসিপি কৌতূহল জাগায়। তবে সুন্দর চুলের জন্য শুধু তেল নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পুষ্টি, কোমলভাবে চুলের পরিচর্যা এবং প্রয়োজন হলে সঠিক চিকিৎসাও গুরুত্বপূর্ণ।