শীতের মৌসুমে ফুলকপির নানা পদ রান্না হয় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই। তবে সাধারণ তরকারি বা ভাজা নয়, এবার স্বাদবদলে বানিয়ে ফেলতে পারেন সর্ষে-পোস্তের মশলায় ফুলকপির ভাপা। নারকেলের মিষ্টি স্বাদ, সর্ষের ঝাঁজ আর কাঁচামরিচের গন্ধে এই পদ হয়ে উঠবে আরও সুস্বাদু। সবচেয়ে বড় কথা, রান্নায় পেঁয়াজ-রসুনের প্রয়োজন নেই। অল্প কিছু উপকরণ দিয়ে বাড়িতেই সহজে তৈরি করা যায় এই পদ। গরম ভাতের সঙ্গে একবার খেলে বারবার বানাতে ইচ্ছে করবে। রইল প্রণালী।
উপকরণ
মাঝারি আকারের একটি ফুলকপি বড় টুকরো করে কেটে নিন। লাগবে আড়াই টেবিল চামচ সর্ষে বাটা, দুই টেবিল চামচ পোস্ত বাটা, চার টেবিল চামচ নারকেল কোরা, দেড় চা চামচ কাঁচামরিচ বাটা, এক চা চামচ আদা বাটা, চার-পাঁচ টেবিল চামচ সর্ষের তেল, এক চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, এক চা চামচ কাশ্মীরি মরিচের গুঁড়ো, পাঁচ-ছটি চেরা কাঁচামরিচ, স্বাদমতো লবণ ও সামান্য চিনি। সঙ্গে লাগবে এক চা চামচ ঘি।
প্রণালী
প্রথমে ফুলকপির টুকরোগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন। একটি পাত্রে হালকা গরম পানিতে সামান্য লবণ দিয়ে ফুলকপি দুই থেকে তিন মিনিট ভাপিয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। এতে ফুলকপি কিছুটা নরম হয়ে যাবে।
এবার একটি বড় পাত্রে সর্ষে বাটা, পোস্ত বাটা, নারকেল কোরা, কাঁচামরিচ বাটা, আদা বাটা, হলুদ গুঁড়ো, কাশ্মীরি মরিচের গুঁড়ো, লবণ, চিনি এবং দুই টেবিল চামচ সর্ষের তেল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মসৃণ মশলার মতো হয়ে এলে একটি ঢাকনাযুক্ত স্টিলের পাত্রের তলায় কিছুটা মশলা ছড়িয়ে দিন।
তার উপর ভাপিয়ে রাখা ফুলকপির টুকরোগুলি সাজিয়ে দিন। বাকি মশলা ফুলকপির গায়ে ভালো করে মাখিয়ে দিতে হবে, যাতে প্রতিটি টুকরোয় মশলা লাগে। উপর থেকে চেরা কাঁচামরিচ, ঘি এবং বাকি সর্ষের তেল ছড়িয়ে পাত্রের ঢাকনা বন্ধ করে দিন।
এবার একটি কড়াইয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে তার মধ্যে একটি স্ট্যান্ড বসান। স্ট্যান্ডের উপর ফুলকপিসহ পাত্রটি রেখে কড়াইয়ের ঢাকনা বন্ধ করে দিন। মাঝারি আঁচে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভাপিয়ে নিন। রান্না হয়ে গেলে আঁচ বন্ধ করে কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন। তারপর পাত্রের ঢাকনা খুলুন।
তৈরি নিরামিষ ফুলকপির ভাপা। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন সর্ষে-পোস্তের ঝাঁজে ভরপুর এই সুস্বাদু পদ।