মুখের কালচে দাগছোপ নিয়ে চিন্তা? ব্যবহার করুন ঘরোয়া ৩ প্যাক

বয়সের ছাপ, অতিরিক্ত রোদে থাকা কিংবা ত্বকের নানা সমস্যার কারণে মুখে কালচে দাগছোপ দেখা দিতে পারে। ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতাও অনেক সময় কমে যায়। বাজারে দাগছোপ কমানোর নানা ক্রিম ও সিরাম পাওয়া গেলেও সেগুলো ব্যবহারের আগে উপাদান সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি। কারণ বাজারে পাওয়া যাওয়া বেশিরভাগ ক্রিম ও সিরামে থাকতে পারে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান। তবে ঘরোয়া উপাদানে ক্ষতির পরিমাণ কম থাকে। তাই কিছু ঘরোয়া উপাদান দিয়ে তৈরি প্যাক ত্বকের পরিচর্যায় ব্যবহার করতে পারেন। এমন তিনটি প্যাক সম্পর্কে চলুন জেনে নেওয়া যাক-

বেসন ও গোলাপজল

দুই টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে সামান্য গোলাপজল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। চাইলে এক চিমটে হলুদও মেশাতে পারেন। মুখ পরিষ্কার করে প্যাকটি লাগিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট। তারপর সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বেসনের প্যাক ত্বকের উপরিভাগের ময়লা পরিষ্কারে সাহায্য করে। তবে সংবেদনশীল ত্বকে হলুদ বা অন্য উপাদান ব্যবহারে অস্বস্তি হতে পারে। তাই আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নিন।

দুধ ও হলুদ

সামান্য দুধের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়। মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দুধের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের উপরিভাগের মৃত কোষ সরাতে সাহায্য করে। তবে কাঁচা দুধ ব্যবহারের বদলে পাস্তুরিত দুধ ব্যবহার করাই ভালো। হলুদে কারও কারও ত্বকে জ্বালা বা অ্যালার্জি হতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।

চন্দনের গুঁড়ো ও গোলাপজল

একটি পাত্রে চন্দনের গুঁড়োর সঙ্গে অল্প অল্প করে গোলাপজল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ঘষে না তুলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকে শীতল অনুভূতি দেয় এই প্যাক। তবে চন্দন বা গোলাপজলেও কারও কারও অ্যালার্জি হতে পারে।

মনে রাখবেন, মুখের কালচে দাগের কারণ এক এক জনের ক্ষেত্রে এক এক রকম। রোদে পোড়া, ব্রণের পরের দাগ কিংবা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ত্বকে পিগমেন্টেশন হতে পারে। দাগ কমাতে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। বাইরে বেরোনোর আগে অন্তত এসপিএফ ৩০-যুক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন লাগান এবং প্রয়োজনমতো আবার ব্যবহার করুন। দাগ দীর্ঘদিন থাকলে, বাড়তে থাকলে বা হঠাৎ দেখা দিলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।