গরমে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ঘাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু কারও কারও ক্ষেত্রে বাইরে বেরোলেই মুখ, কপাল ও গলা দরদর করে ঘামতে থাকে। এতে ত্বক অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে, মেকআপ নষ্ট হয় এবং অনেক সময় আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব পড়ে।
অতিরিক্ত ঘাম যদি শুধু গরমের কারণে না হয়ে স্বাভাবিক পরিবেশেও হতে থাকে, তাহলে সেটি হাইপারহাইড্রোসিসের লক্ষণ হতে পারে। মাথা ও মুখেও এ ধরনের অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।
ত্বক রাখুন পরিষ্কার ও হালকা
অতিরিক্ত ঘামের সময়ে ভারী ক্রিম, তেলযুক্ত প্রসাধনী ও অতিরিক্ত মেকআপ মুখে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। বাইরে যাওয়ার আগে হালকা, ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। দিনের বেলায় অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
মুখে ঘাম জমলে বারবার ঘষে মুছে না দিয়ে নরম টিস্যু বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আলতো করে চেপে ঘাম শুষে নিতে পারেন। এতে ত্বকে অপ্রয়োজনীয় ঘর্ষণও কম হবে।
চন্দন-গোলাপজল, তবে সতর্কভাবে
চন্দনগুঁড়োর সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে হালকা প্যাক তৈরি করে কিছুক্ষণ মুখে রাখা যেতে পারে। এতে ত্বক সাময়িকভাবে সতেজ ও ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে।
তবে চন্দন বা গোলাপজল অতিরিক্ত ঘাম বন্ধ করে এমন নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। সংবেদনশীল ত্বক হলে নতুন কোনও উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
টমেটো-মধুর প্যাক
টমেটো ও মধু দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক ত্বকে সাময়িক সতেজ অনুভূতি দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রণের নির্ভরযোগ্য উপায় হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
ত্বকে জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে ব্রণপ্রবণ বা সংবেদনশীল ত্বকে ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারে সতর্ক থাকা জরুরি।
অ্যালোভেরা-গোলাপজল
অ্যালোভেরা জেল ত্বকে আর্দ্রতা ও শীতল অনুভূতি দিতে পারে। পরিষ্কার ত্বকে অল্প পরিমাণ অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এতে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল মিশিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখার প্রয়োজন নেই। ঘরে তৈরি প্রসাধনীতে সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
শসা ও গ্রিন টি—সতেজতার জন্য
শসার রস বা ঠান্ডা গ্রিন টি ত্বকে সাময়িক ঠান্ডা ও সতেজ অনুভূতি দিতে পারে। তবে এগুলো ঘামের চিকিৎসা নয়।
ঘরে তৈরি কোনও তরল বা সিরাম ফ্রিজে রেখে কয়েক দিন ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা উচিত। সংরক্ষণকারী উপাদান না থাকলে জীবাণু জন্মাতে পারে। তাই অল্প পরিমাণে তৈরি করে দ্রুত ব্যবহার করাই নিরাপদ।
অতিরিক্ত ঘাম কমাতে আসলে কী করবেন
ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রণে ডিওডোরেন্টের চেয়ে অ্যান্টিপার্সপির্যান্ট বেশি কার্যকর। অ্যান্টিপার্সপির্যান্ট ঘামের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে, যেখানে ডিওডোরেন্ট মূলত শরীরের দুর্গন্ধ ঢাকতে বা কমাতে ব্যবহৃত হয়।
এ ছাড়া গরমে ঢিলেঢালা ও বাতাস চলাচল করে এমন পোশাক পরা, অতিরিক্ত ঝাল খাবার ও যেসব বিষয় ঘাম বাড়ায় সেগুলো এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা উপকারী।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
গরমে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ঠান্ডা বা স্বাভাবিক পরিবেশেও যদি অস্বাভাবিকভাবে বেশি ঘাম হয়, ঘামের কারণে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়, রাতে ঘাম হয় কিংবা সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত ঘামের পেছনে কোনও শারীরিক সমস্যা বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকতে পারে।
প্রয়োজনে ডার্মাটোলজিস্ট অ্যান্টিপার্সপির্যান্ট, ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির পরামর্শ দিতে পারেন। মুখে অতিরিক্ত ঘামের ক্ষেত্রেও চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে।
সুতরাং, শুধু ঘরোয়া ফেসপ্যাকের ওপর নির্ভর না করে ত্বক পরিষ্কার ও হালকা রাখুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং ঘাম অস্বাভাবিক মাত্রায় হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।