বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিটনেসের সংজ্ঞাও বদলে যায়। তরুণ বয়সে শরীরের গড়ন, ওজন কিংবা দেখতে কেমন লাগছে এসব বিষয় যেখানে শরীরচর্চার বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে, বয়স ৫০ পেরোনোর পর সেখানে সুস্থ থাকা, শক্তি ধরে রাখা এবং দৈনন্দিন জীবন স্বাচ্ছন্দ্যে উপভোগ করাই হয়ে ওঠে বড় লক্ষ্য। এমন পরিবর্তনের কথাই সম্প্রতি জানিয়েছেন অভিনেত্রী ও মডেল লিসা রে।
পঞ্চাশের কোঠায় এসে ফিটনেস নিয়ে নিজের ভাবনার পরিবর্তন তুলে ধরে লিসা জানান, তরুণ বয়সের তুলনায় এখন তার শরীরচর্চার উদ্দেশ্য একেবারেই আলাদা। আগে ব্যায়ামের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল চেহারা, শরীরের গড়ন এবং নির্দিষ্ট পোশাকে নিজেকে মানানসই করে তোলার বিষয়টি। এখন তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো শক্তিশালী, সক্রিয় ও সুস্থ থাকা।
লিসার লক্ষ্য এমন একটি শরীর ধরে রাখা, যা তাকে দৈনন্দিন জীবনের পছন্দের কাজগুলো করতে সক্ষম রাখবে। নিজের স্যুটকেস নিজেই বহন করা, পাহাড়ে ওঠা কিংবা যখন ইচ্ছা নাচতে পারার মতো সক্ষমতাকেই তিনি এখন ফিটনেসের সাফল্য হিসেবে দেখেন। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত সক্রিয় থাকার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নিজের ফিটনেস ভাবনার পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেন লিসা। তিনি বলেন, “আমার ৫০-এর দশকে ফিটনেসের ধরনটা অনেক, অনেক বদলে গেছে। যদি এটাকে দুটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে হয়, তাহলে প্রথমটি হলো আগে আমি শরীরকে আরও বেশি পরিশ্রম করাতে পারাকে উদ্যাপন করতাম। এখন বরং শরীরের কথা আরও ভালোভাবে শুনতে পারাকেই গুরুত্ব দিই।”
ফিটনেসের ক্ষেত্রে নিয়মিততাকেও এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন লিসা। তার ভাষায়, “আর দ্বিতীয়টি হলো নিয়মিততা। এটি তখনই সহজ হয়ে আসে, যখন আপনি আগের যে শরীরটি ছিল, তার জন্য ব্যায়াম না করে সামনে যে জীবনটি এখনও বাঁচতে চান, তার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে শুরু করেন।”
অর্থাৎ, লিসার কাছে ফিটনেস এখন শুধু আয়নার সামনে নিজের চেহারা দেখার বিষয় নয়। বরং ভবিষ্যতের জীবনকে আরও স্বাধীন, সক্রিয় ও উপভোগ্য করে তোলার প্রস্তুতি। তিনি এমন একটি ভবিষ্যৎ চান, যেখানে নাচতে পারবেন, নতুন জায়গা ঘুরে দেখতে পারবেন, ভ্রমণ করতে পারবেন এবং নিজের ব্যাগ নিজেই বহন করতে পারবেন।
ভিডিওতে তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের সেই আমিকে আমি প্রস্তুত করছি, যে নাচতে থাকবে, নতুন নতুন জায়গা ও অভিজ্ঞতা খুঁজে বেড়াবে, ভ্রমণ করবে, নিজের ব্যাগ নিজেই বহন করবে এবং সম্ভব হলে কোনো হাড় না ভেঙেই জীবন উপভোগ করবে।”
মধ্যবয়সে ফিটনেস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লিসা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন, নিজের শরীরকে গ্রহণ করে নেওয়া। বয়সের সঙ্গে শরীর ও চেহারায় যে পরিবর্তন আসে, সেটিকে অস্বীকার না করে বরং তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
লিসার কথায়, “মধ্যবয়সের ফিটনেস নিয়ে আমরা একটি বিষয় যথেষ্ট আলোচনা করি না আর সেটি হলো গ্রহণ করে নেওয়া। গ্রহণ করা মানে হেরে যাওয়া নয়। আমি মেনে নিয়েছি, আমার শরীর বদলে গেছে। আমার মুখেরও পরিবর্তন হয়েছে। আমিও বদলে গেছি। এসব কোনো কিছুর সঙ্গেই আমি যুদ্ধ করছি না।”
নিজের শরীরের পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই না করে সেটিকে বুঝতে এবং তার প্রয়োজন অনুযায়ী চলতে চান লিসা। তিনি বলেন, “বরং এই শরীরের সঙ্গেই কাজ করছি, এর কথা আরও ভালোভাবে শুনছি, আরও গভীরভাবে ভালোবাসছি এবং জীবনের এই সেরা সময়টাকে নিজের মতো করে, প্রকাশ্যেই উপভোগ করছি।”
লিসার এই দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে তার নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতারও ভূমিকা রয়েছে। ২০০৯ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে তিনি মাল্টিপল মায়েলোমায় আক্রান্ত হন। এটি এক ধরনের বিরল রক্তের ক্যানসার। পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালে ক্যানসারটি আবার ফিরে এলে তাকে আরও চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনরুদ্ধারের সময় পেরিয়ে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে ফেরেন।
জীবনের এমন অভিজ্ঞতার পর ফিটনেস তার কাছে শুধু শরীরের গড়ন ঠিক রাখার বিষয় নয়, বরং জীবনকে নিজের মতো করে উপভোগ করার সক্ষমতা ধরে রাখার একটি মাধ্যম। তাই পঞ্চাশের কোঠায় এসে তার বার্তা যেন একেবারেই পরিষ্কার, শরীরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং জীবনের বাকি পথ আরও ভালোভাবে চলার জন্যই শরীরচর্চা।
সূত্র: এনডিটিভি