আজকাল শিশুরা খুব ডিভাইস নির্ভর হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা। কিন্তু বিবেচনায় নিতে হবে শিশুর বাস্তবতাও। একজন অভিভাবক বলছেন, তার ছেলের বয়স ১১। দুজনে কর্মজীবী। তারপরও তারা চেষ্টা করেন, যাতে ছেলে একা না থাকে। কিন্তু সে ভিডিও গেমে দীর্ঘ সময় কাটায়। এখন সে বাড়ির বাইরেও যেতে চায় না তেমন। বেশিরভাগ গেম দেশের বাইরের প্লেয়ারদের সঙ্গে অনলাইনে খেলা যায়। এত ছোট বয়সে কারোর দ্বারা ক্ষতির সম্মুখীন না হয়, সেই মনিটরিং তারা করেন। কিন্তু তার স্ক্রিন টাইম কমাবে কীভাবে? এ বিষয়ে মনোচিকিৎসক ডা. আতিকুল হক কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
১. হঠাৎ বন্ধ না করে ‘ধীরে ধীরে কমানো’
হঠাৎ করে গেম খেলা বন্ধ করে দিলে বা ডিভাইস কেড়ে নিলে শিশুদের মধ্যে জেদ বা আক্রমণাত্মক আচরণ তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিদিনের খেলার সময় থেকে ১৫-২০ মিনিট করে কমাতে শুরু করুন। একটি নির্দিষ্ট সময় (যেমন-পড়ার পর এক ঘণ্টা) বেঁধে দিন।
২. একটি ‘ডিজিটাল চুক্তি’ করুন
ছেলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি লিখিত রুটিন বা চুক্তি তৈরি করুন। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে– কখন গেম খেলা যাবে এবং কখন যাবে না; শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু কাজ (যেমন-নিজের ঘর গোছানো, পড়া শেষ করা) পূর্ণ হলে সে গেম খেলার ‘বোনাস’ সময় পাবে; নিজেও এই নিয়মগুলো মেনে চলুন (যেমন-ডাইনিং টেবিলে বা শোয়ার ঘরে ফোন ব্যবহার না করা)।
৩. বিকল্প বিনোদনের ব্যবস্থা করা
গেম তাকে যে আনন্দ বা ‘ডোপামিন রাশ’ দেয়, সেটি অন্য কিছুতে খুঁজে পেতে সাহায্য করুন।
খেলাধুলা: তাকে কোনও স্পোর্টস ক্লাবে (ক্রিকেট, ফুটবল বা সাঁতার) ভর্তি করে দিতে পারেন। বাইরে যাওয়ার জন্য তাকে সরাসরি চাপ না দিয়ে বরং বন্ধুর মতো সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে বের হন।
শখ: ছবি আঁকা, মিউজিক ইনস্ট্রুমেন্ট বা সাইক্লিংয়ের মতো কাজে তাকে উৎসাহিত করুন।
৪. স্ক্রিন টাইমকে ‘ফ্যামিলি টাইম’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করুন
আপনারা যখন অফিস থেকে ফেরেন, তখন মানসম্মত সময় কাটানো জরুরি। রাতে একসঙ্গে বোর্ড গেম (লুডু, দাবা বা মনোপলি) খেলতে পারেন; ছুটির দিনে তাকে সঙ্গে নিয়ে রান্না করা বা ঘরের ছোটখাটো কাজ করা তাকে ব্যস্ত রাখবে।
৫. গেমের ভেতরের সামাজিকতাকে বাস্তব সামাজিকতায় আনা
সে যেহেতু অনলাইনে অন্যদের সঙ্গে খেলে, তার মানে সে সামাজিক যোগাযোগ পছন্দ করে। তার স্কুলের বন্ধুদের বাসায় দাওয়াত দিন বা বন্ধুদের সঙ্গে পার্কে খেলার ব্যবস্থা করুন। যখন সে বাস্তবে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ পাবে, তখন ভার্চুয়াল জগতের আকর্ষণ কিছুটা কমবে।
৬. প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ
নিরাপত্তার পাশাপাশি স্ক্রিন টাইম লিমিট করার জন্য বিভিন্ন অ্যাপ (যেমন- Google Family Link) ব্যবহার করতে পারেন। এতে নির্দিষ্ট সময় পর গেম বা ইন্টারনেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে; যা আপনাদের অনুপস্থিতিতেও কাজ করবে।
একটি ছোট টিপস: সে কোনও গেমটি খেলছে বা সেখানে তার অর্জন কী, তা নিয়ে মাঝে মাঝে আগ্রহ দেখান। এতে সে মনে করবে না যে, আপনারা তার আনন্দের বিরোধী, বরং আপনাদের প্রতি তার বিশ্বাস বাড়বে এবং সে আপনাদের কথা শুনতে বেশি আগ্রহী হবে।
উল্লেখ্য, আপনার পরিবার, আপনার নিজের মনের যেকোনও বিষয়ে পরামর্শের জন্য আমাদের জানাতে পারেন info@banglatribune.com এই ঠিকানায়। সপ্তাহে একদিন ডা. আতিকুল হক আপনাদের প্রশ্নের উত্তর নিয়ে হাজির হবেন বাংলা ট্রিবিউনে।
লেখক: মনোরোগ চিকিৎসক