গরমে মাথা ঠান্ডা রাখার অনেক উপায় আছে। কেউ এসির নিচে বসেন, কেউ আইসক্রিম খান, আর কেউ সরাসরি বন্ধুর মাথায় জলবেলুন ছুড়ে মারেন! তাই যদি আজ হঠাৎ দেখেন কেউ হাতে এক বালতি জল আর একগাদা ছোট ছোট বেলুন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ভয় পাবেন না। সম্ভবত সে জলবেলুন দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জলবেলুনের বয়স-সীমা নেই। পাঁচ বছরের শিশুর কাছে যেমন এটি আনন্দের, তেমনি চল্লিশ বছরের কাকু বা অফিসফেরত বাবাও একবার জলবেলুন হাতে পেলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবার স্কুলজীবনে ফিরে যেতে পারেন।
জলবেলুন যুদ্ধ—বন্ধুত্বের সবচেয়ে ভেজা পরীক্ষা
জাতীয় জলবেলুন দিবস উদযাপনের সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হলো জলবেলুন যুদ্ধ। পরিবার, বন্ধু, কাজিন, প্রতিবেশী যাকে পারেন ডাকুন। তবে আগে থেকেই একটা নিয়ম করে নিন, খেলা শেষে কেউ যেন ‘তুই আগে মারলি’ বলে সম্পর্ক নষ্ট না করে।
যুদ্ধ শুরু করার আগে প্রচুর জলবেলুন বানিয়ে রাখুন। কারণ প্রথম পাঁচ মিনিটেই বোঝা যাবে, আপনি যতগুলো বানিয়েছেন, তার অন্তত দ্বিগুণ দরকার ছিল। সাঁতারের পোশাক থাকলে ভালো, না থাকলেও এমন পোশাক পরুন, যা ভিজে গেলে পরে আফসোস করতে না হয়।
শুধু যুদ্ধ কেন? খেলুন আরও মজার গেম
জলবেলুন মানেই শুধু ছোড়াছুড়ি নয়। জুটি বেঁধে খেলতে পারেন জলবেলুন টস, যেখানে বেলুন ফাটলে শুধু পানি নয়, জয়ের স্বপ্নও গড়িয়ে পড়ে।
চাইলে খেলতে পারেন হট পটেটো। তবে এখানে আলুর বদলে থাকবে জলভর্তি বেলুন। গান থামার সঙ্গে সঙ্গে যার হাতে বেলুন, তার ভাগ্যে কী আছে, সেটা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই জানা যাবে।
রিলে রেসেও জলবেলুন যোগ করলে প্রতিযোগিতা যেমন বাড়ে, তেমনি হাসির রোলও ওঠে। তবে খেলা শেষে ফেটে যাওয়া বেলুনের টুকরো অবশ্যই কুড়িয়ে ফেলুন। পরিবেশকে পরিষ্কার রাখা যেন দিনের শেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘গেম’ হয়।
জলবেলুন নিয়ে কিছু মজার তথ্য
জাপানে ইয়ো-ইয়ো সুরি নামে সুতা বাঁধা এক ধরনের জলবেলুন বেশ জনপ্রিয়, যা ইয়ো-ইয়োর মতো লাফিয়ে খেলতে হয়। জলবেলুন সাধারণ বেলুনের চেয়ে ছোট হয়, যাতে সহজে লক্ষ্যভেদ করা যায়। অর্থাৎ, আপনার পালানোর সুযোগও কম। অনেকে জলবেলুন অনেক দূরে ছোড়ার জন্য বিশেষ ওয়াটার বেলুন লঞ্চার বা স্লিংশট ব্যবহার করেন। তবে সাবধান, খেলার আনন্দ যেন দুর্ঘটনায় পরিণত না হয়।
জলবেলুনের জন্মও এক মজার দুর্ঘটনা
প্রায় ৭০ বছর আগে ব্রিটিশ উদ্ভাবক এডগার এলিংটন ল্যাটেক্স আর তুলা দিয়ে জলরোধী মোজা বানানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার সময় মোজাটি পানি ধরে রাখতে পারল না। রাগে সেটি মাটিতে ছুড়ে মারতেই সেটি ফেটে গেল।
অনেকেই এমন হলে পরীক্ষাই বন্ধ করে দিতেন। কিন্তু এলিংটনের মাথায় তখন উল্টো নতুন আইডিয়া এলো। ভাবলেন, ‘এটা তো দারুণ খেলনা হতে পারে!’ সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নিলো জলবেলুনের ধারণা, যা পরে গরমের দিনের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনোদনগুলোর একটি হয়ে ওঠে।
জলবেলুন দিবসের শুরু
যদিও জলবেলুনের ইতিহাস বেশ পুরোনো, জলবেলুন দিবস চালু হয় ২০১৯ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের নিউমার্কেটের একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প এই দিবসের প্রচলন করে।
উদ্দেশ্য একটাই, গরমের দিনে একটু ভিজে নেওয়া, একটু হাসাহাসি করা, আর প্রমাণ করা যে মাঝে মাঝে বড়দেরও ছোটদের মতো দুষ্টুমি করা একেবারেই দোষের নয়। তবে একটি কথা মনে রাখবেন, জলবেলুন ছোড়ার আগে লক্ষ্য ঠিক করুন, আর খেলা শেষে ফেটে যাওয়া বেলুনগুলো কুড়িয়ে পরিবেশটাও পরিষ্কার রাখুন। তাহলেই উদযাপন হবে আনন্দের, নিরাপদও।