ক্রিমি, মোলায়েম ও সুস্বাদু এক টুকরো চিজকেক মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে এর আবেদন আলাদা। আজ চিজকেক দিবস। এই দিনটি উদযাপনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জনপ্রিয় এই ডেজার্টের স্বাদ উপভোগ করা এবং এর নানা বৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়া।
সাধারণ বেকড চিজকেক থেকে শুরু করে টক-মিষ্টি কি লাইম চিজকেক, সমৃদ্ধ স্বাদের চকোলেট চিজকেক কিংবা নানা ধরনের নতুন ফিউশন চিজকেক- পছন্দের তালিকা বেশ দীর্ঘ। তাই মিষ্টিপ্রেমীদের জন্য আজকের দিনটি হতে পারে চিজকেক উপভোগের বিশেষ উপলক্ষ।
চিজকেক দিবসের ইতিহাস
প্রথম চিজকেক দিবস উদযাপন শুরু হয় ১৯৮৫ সালে। তবে ২০০১ সালের পর ইন্টারনেটের মাধ্যমে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি দিবসে পরিণত হয়।
চিজকেকের ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। ধারণা করা হয়, প্রাচীন গ্রিসে প্রায় ২০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে এর প্রাথমিক রূপ তৈরি হয়েছিল। তখন এটি নরম চিজ দিয়ে তৈরি করা হতো এবং বর্তমানের চিজকেকের সঙ্গে এর অনেক পার্থক্য ছিল।
বিশ্বজুড়ে চিজকেকের নানা রূপ
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিজকেক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী এর রূপ বদলেছে।
ইতালিতে ঐতিহ্যগতভাবে চিজকেকে ব্যবহার করা হয় রিকোটা চিজ। জার্মানি ও পোল্যান্ডে জনপ্রিয় কোয়ার্ক চিজের ব্যবহার দেখা যায়। আর আমেরিকান চিজকেকের বিশেষত্ব হলো ক্রিম চিজ।
কীভাবে উদযাপন করবেন চিজকেক দিবস
চিজকেক দিবস উদযাপন করা খুব সহজ। পছন্দের কোনও বেকারি থেকে চিজকেক কিনে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে খেতে পারেন। চাইলে ঘরেই তৈরি করতে পারেন নিজের পছন্দের চিজকেক।
চিজকেক তৈরির পদ্ধতি রেসিপির ওপর নির্ভর করে সহজ বা কিছুটা কঠিন হতে পারে। ঐতিহ্যবাহী চিজকেকে সাধারণত ক্রিম চিজ, সাওয়ার ক্রিম ও ডিম ব্যবহার করা হয়। এরপর কম তাপমাত্রায় ধীরে ধীরে বেক করা হয়, যাতে চিজকেকের ওপর ফাটল না ধরে।
তবে বর্তমানে জনপ্রিয় হয়েছে নো-বেক চিজকেক। এতে ওভেনের পরিবর্তে ফ্রিজে রেখে ক্রিম চিজ, হুইপিং ক্রিমসহ অন্যান্য উপকরণ সেট করা হয়। ডিম ছাড়াই তৈরি এই চিজকেকও স্বাদে অনন্য।
চিজকেকে আনুন নতুন স্বাদ
ঐতিহ্যবাহী নিউইয়র্ক-স্টাইল চিজকেকের জনপ্রিয়তা থাকলেও অনেকেই নতুন স্বাদের চিজকেক তৈরি করতে পছন্দ করেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো চকোলেট চিপ কুকি ডো চিজকেক। এতে চকোলেট চিপ কুকির স্বাদের সঙ্গে মিশে যায় মোলায়েম চিজকেকের স্বাদ।
এ ছাড়া রয়েছে—
চকলেট-কোটেড স্ট্রবেরি চিজকেক: স্ট্রবেরি ফ্লেভারের চিজকেকের ওপর চকলেট গানাশের আস্তরণ দিয়ে তৈরি এই ডেজার্টটি চকলেট ও স্ট্রবেরিপ্রেমীদের জন্য দারুণ আকর্ষণীয়।
নাটার বাটার পিনাট বাটার চিজকেক: পিনাট বাটার ও নাটার বাটার কুকির সমন্বয়ে তৈরি এই চিজকেকের ওপর থাকে সুস্বাদু পিনাট বাটার সস।
ক্যানোলি চিজকেক: ইতালীয় স্বাদের এই চিজকেকে ব্যবহার করা হয় রিকোটা ও মাসকারপোন চিজ, সঙ্গে থাকে ছোট ছোট চকোলেট চিপস।
আয়োজন করুন চিজকেক পার্টি
চিজকেক দিবসকে আরও আনন্দময় করতে বন্ধু, পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে আয়োজন করা যেতে পারে ছোট্ট চিজকেক পার্টি।
এ ক্ষেত্রে রাখা যেতে পারে নানা ধরনের টপিংস। যেমন— চেরি, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, তাজা ফল, চকোলেট, ক্যারামেল, পিনাট বাটার সস, বিভিন্ন বাদাম, ভাজা নারকেল, চকোলেট চিপস, স্প্রিঙ্কলস কিংবা ক্যান্ডি।
নিজের পছন্দ অনুযায়ী চিজকেক সাজানোর এই আয়োজন হয়ে উঠতে পারে আনন্দের একটি মুহূর্ত।
আসল চিজকেকের খোঁজে নিউইয়র্ক
চিজকেকের প্রকৃত জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও নিউইয়র্কবাসীদের দাবি, আসল নিউইয়র্ক-স্টাইল চিজকেকের স্বাদ নিতে হলে যেতে হবে নিউইয়র্কেই।
১৯০০ সালের শুরুর দিকে নিউইয়র্কে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সরল ও খাঁটি স্বাদের এই চিজকেক। অতিরিক্ত উপকরণ ছাড়াই তৈরি এই ধরনটির ঐতিহ্য এখনও ধরে রাখা হয়েছে।
উপকরণ ও তৈরির পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকলেও চিজকেক আজ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ডেজার্ট। মিষ্টি, মোলায়েম ও বৈচিত্র্যময় এই খাবারটি যুগের পর যুগ ধরে মানুষের মন জয় করে চলেছে।









