পুরান ঢাকার ব্যস্ত অলিগলির ভেতরে এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে গেলে মনে হয় সময় যেন একটু ধীরে চলে। বিউটি বোর্ডিং তেমনই একটি জায়গা। অনেকেই সেখানে যান বিখ্যাত ভর্তা-ভাত আর দেশি খাবারের স্বাদ নিতে। কিন্তু শুধু খেয়ে চলে এলে জায়গাটির আসল গল্প জানা হবে না। কারণ, বিউটি বোর্ডিং শুধু খাবারের জায়গা নয়, এটি ঢাকার ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ ও জীবন্ত স্মারক।
বিউটি বোর্ডিংয়ের ইতিহাস শুরু ব্রিটিশ আমলে। তখন এর নাম ছিল ‘রয়েল হোটেল’। দেশভাগের পর নতুন নামে যাত্রা শুরু করে বিউটি বোর্ডিং। ধীরে ধীরে এটি লেখক, কবি, সাংবাদিক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের প্রিয় আড্ডার জায়গা হয়ে ওঠে।
এখানে আড্ডা দিয়েছেন বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান কবি শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, নির্মলেন্দু গুণসহ অনেক সাহিত্যিক। মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নানা আলোচনা, পরিকল্পনা ও বিতর্কের সাক্ষী ছিল এই বোর্ডিংয়ের ছোট্ট উঠান আর খাবারঘর। দেয়ালে টাঙানো ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায়, কত স্মৃতি জমে আছে এই পুরোনো ভবনের ইট-কাঠে।
খাবার পরিবেশনের ধরনও বিউটি বোর্ডিংয়ের আলাদা আকর্ষণ। এখানে রেস্তোরাঁর সেই ঝাঁ-চকচকে সাজসজ্জা নেই। একেবারে সাধারণ পরিবেশে পরিবেশন করা হয় ভাত, ভর্তা, মাছ, মাংসসহ নানা দেশি খাবার। অনেকের কাছে এই সরল পরিবেশই বিউটি বোর্ডিংয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
বিউটি বোর্ডিংয়ে গেলে শুধু খাবার খেয়ে চলে আসবেন না। পুরোনো ভবনের স্থাপত্য, বারান্দা, উঠান আর দেয়ালে টাঙানো ছবিগুলো সময় নিয়ে দেখুন। সুযোগ পেলে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলুন। তাদের কাছ থেকে জায়গাটির অনেক অজানা গল্প জানতে পারবেন। আর সম্ভব হলে দুপুরের ভিড়ের সময় এড়িয়ে গেলে আরও শান্ত পরিবেশে পুরো জায়গাটি ঘুরে দেখা যাবে।
পুরান ঢাকার এই এলাকায় ঘুরতে গেলে একই দিনে আহসান মঞ্জিল, বাহাদুর শাহ পার্ক, আর্মেনিয়ান চার্চ ও চকবাজারও দেখে আসতে পারেন। এতে এক সফরেই ইতিহাস, ঐতিহ্য, সুস্বাদু খাবার আর সংস্কৃতির ভিন্ন স্বাদ মিলবে।