প্লাস্টিক আবৃত কাগজের কাপে গরম চা–কফি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক-আবৃত কাগজের কাপে গরম চা বা কফি পান করা কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে গবেষণার ফল প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

২০২১ সালে ‘জার্নাল অব হ্যাজার্ডাস ম্যাটেরিয়ালস’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, প্লাস্টিক-আবৃত কাগজের কাপে ৮৫–৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রায় ১০০ মিলিলিটার গরম পানীয় ১৫ মিনিট রাখা হলে কাপের ভেতরের পলিথিন আবরণ থেকে প্রায় ২৫ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পানীয়তে নির্গত হতে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, এর সঙ্গে সাব-মাইক্রন আকারের বিপুল সংখ্যক আরও ক্ষুদ্র কণা এবং কিছু ভারী ধাতু পানীয়তে চলে আসতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)’-এর এক বছরব্যাপী সাম্প্রতিক গবেষণায় দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। পরীক্ষায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। সর্বোচ্চ মাত্রা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেল টুথপেস্টে।

গবেষণাটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই) ল্যাবরেটরি’-তে সম্পন্ন হয়।

দুই গবেষণার ফলাফল সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ একটির হিসাব এক কাপ গরম পানীয়ে নির্গত কণার সংখ্যা, আর অন্যটির হিসাব প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে শনাক্ত কণার সংখ্যা। তবে উভয় গবেষণাই দৈনন্দিন ব্যবহৃত পণ্যের মাধ্যমে মানুষের মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসার বিষয়টি সামনে এনেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান। তবে অপ্রয়োজনীয় সংস্পর্শ কমাতে প্লাস্টিক-আবৃত ডিসপোজেবল কাপের পরিবর্তে কাচ, সিরামিক বা স্টেইনলেস স্টিলের মগ ব্যবহার করা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকজাত পণ্যের ব্যবহার কমানো হতে পারে একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।