কোষ্ঠকাঠিন্য খুবই পরিচিত একটি হজমের সমস্যা। মল শক্ত ও শুষ্ক হয়ে গেলে মলত্যাগে চাপ দিতে হতে পারে, ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে এবং স্বাভাবিকের তুলনায় কম ঘন ঘন মলত্যাগ হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এই সমস্যা সাময়িক, আবার কারও ক্ষেত্রে বারবার দেখা দিতে পারে।
খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশ রাখা, নিয়মিত পানি পান করা এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি কিছু হালকা যোগাসন শরীরকে সচল রাখতে, পেটের পেশিতে হালকা নড়াচড়া তৈরি করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। ফলে হজমপ্রক্রিয়া ও মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাস বজায় রাখতেও উপকার পাওয়া যেতে পারে।
তবে যোগাসন করার সময় শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে করতে হবে। কোনও আসনে ব্যথা বা অস্বস্তি হলে জোর না করে সঙ্গে সঙ্গে থেমে যেতে হবে।
পবনমুক্তাসন
চিৎ হয়ে শুয়ে দুই পা সোজা রাখুন। এবার একটি হাঁটু ভাঁজ করে বুকের দিকে নিয়ে এসে দুই হাত দিয়ে আলতো করে ধরে রাখুন। আরামবোধ করলে দুই হাঁটুও একসঙ্গে বুকের কাছে নিয়ে আসতে পারেন। কয়েকবার স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন।
এই আসনে পেটের ওপর হালকা চাপ তৈরি হয়। ফলে পেটে জমে থাকা গ্যাস ও পেট ফাঁপা কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে। পেটের অংশে হালকা মালিশের মতো প্রভাবও তৈরি হতে পারে। তবে হাঁটু কখনও জোর করে বুকের দিকে টেনে আনবেন না।
মার্জারী-বিতিলাসন
হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে থাকুন। হাত থাকবে কাঁধের ঠিক নিচে এবং হাঁটু কোমরের নিচে। শ্বাস নেওয়ার সময় পেট নিচের দিকে নামিয়ে বুক ও মাথা ধীরে ওপরে তুলুন। এরপর শ্বাস ছাড়ার সময় পিঠ গোল করে পেট ভেতরের দিকে টেনে নিন।
ধীরে ধীরে কয়েকবার এই নড়াচড়া করুন। মেরুদণ্ড ও পেটের এই ছন্দময় নড়াচড়া পেটের অংশকে সক্রিয় করতে এবং শরীরের পেশির টান কমাতে সাহায্য করতে পারে।
অর্ধ মৎস্যেন্দ্রাসন
মাটিতে পা সামনে ছড়িয়ে বা আরাম করে পা ক্রস করে বসুন। একটি হাঁটু ভাঁজ করে সেই পা বিপরীত পাশে রাখুন। এরপর ধীরে ধীরে ভাঁজ করা হাঁটুর দিকে শরীরের ওপরের অংশ ঘোরান। ভারসাম্য রাখতে হাত দিয়ে মাটিতে ভর নিতে পারেন। মেরুদণ্ড সোজা রাখুন এবং শরীর জোর করে মোচড়াবেন না।
এই আসনে পেটের অংশে হালকা চাপ ও চাপমুক্তির অনুভূতি তৈরি হয়। এটি হজমতন্ত্রকে কিছুটা সক্রিয় করতে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়ায় সহায়তা করতে পারে।
বালাসন
হাঁটু মুড়ে বসে ধীরে ধীরে নিতম্ব গোড়ালির দিকে নামিয়ে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিন। কপাল মাটিতে বা নরম কুশনের ওপর রাখুন। হাত সামনে ছড়িয়ে রাখতে পারেন কিংবা শরীরের দুই পাশে রাখতে পারেন। ধীরে ধীরে শ্বাস নিন এবং যতক্ষণ আরামদায়ক মনে হয়, ততক্ষণ এই অবস্থানে থাকুন।
বালাসন সরাসরি মলত্যাগে উদ্দীপনা তৈরি করে না। তবে এটি শরীরকে শিথিল করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ অনেক সময় হজম ও মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাসকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই শরীর ও মনকে শিথিল রাখাও হজমের জন্য উপকারী।
মালাসন
দুই পায়ের মধ্যে কোমরের চেয়ে কিছুটা বেশি দূরত্ব রেখে দাঁড়ান। ধীরে ধীরে হাঁটু ভাঁজ করে নিচে বসুন এবং যতটা সম্ভব পায়ের পাতা মাটিতে রাখুন। দুই হাতের তালু বুকের সামনে একসঙ্গে রাখুন এবং কনুই দিয়ে হাঁটুর ভেতরের দিকে আলতো চাপ দিন।
এই ভঙ্গিটি মলত্যাগের সময় শরীরের স্বাভাবিক অবস্থানের কাছাকাছি। ফলে শ্রোণি অঞ্চলের অবস্থান কিছুটা অনুকূল হতে পারে। একই সঙ্গে কোমর ও নিতম্বের পেশিতে হালকা টান তৈরি হয়।
ভুজঙ্গাসন
উপুড় হয়ে শুয়ে দুই হাত কাঁধের কাছাকাছি মাটিতে রাখুন। কনুই শরীরের কাছাকাছি রেখে ধীরে ধীরে বুকের ওপরের অংশ মাটি থেকে তুলুন। শরীরের নিচের অংশ মাটিতেই থাকবে। কোমর অতিরিক্ত বাঁকিয়ে গভীরভাবে পেছনের দিকে ঝুঁকবেন না।
এই আসনে পেটের অংশে হালকা টান তৈরি হয়, যা হজমের সঙ্গে যুক্ত অঙ্গগুলোর ওপর সামান্য উদ্দীপক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি শরীরের নড়াচড়া ও নমনীয়তা বাড়াতেও এটি সহায়ক হতে পারে। তবে পিঠ বা পেটে ব্যথা হলে সঙ্গে সঙ্গে আসনটি করা বন্ধ করুন।
বজ্রাসন
হাঁটু মুড়ে বসে গোড়ালির ওপর নিতম্ব রাখুন এবং মেরুদণ্ড সোজা রাখুন। দুই হাত আরাম করে উরুর ওপর রাখুন। এরপর ধীরে ও স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন। আরামদায়ক মনে হলে কয়েক মিনিট এই অবস্থানে থাকতে পারেন।
বজ্রাসন শরীর ও মনকে শিথিল করার একটি সহজ ভঙ্গি। ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। যাদের মানসিক চাপের কারণে মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাসে সমস্যা হয়, তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের শিথিলতা পরোক্ষভাবে হজমের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য বারবার হলে শুধু যোগাসনের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাস, পানি পান ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে, মলত্যাগের সময় রক্তপাত হলে, তীব্র পেটব্যথা হলে বা হঠাৎ করে মলত্যাগের অভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য ও পরামর্শ শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।
সূত্র: এনডিটিভি








