বর্ষাকালে ঠান্ডা লাগা যেন খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। একটানা বৃষ্টি, ভেজা পরিবেশ কিংবা হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনে অনেকেরই শুরু হয় সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ও জ্বর। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রথমেই ভরসা করেন গরম পানির ওপর। কেউ সারাদিন উষ্ণ পানি পান করেন, কেউ আবার ধোঁয়া ওঠা চা বা গরম স্যুপে খোঁজেন স্বস্তি।
কিন্তু খুব গরম পানি কি সত্যিই দ্রুত সুস্থ করে তোলে? নাকি এ ধারণার পেছনে রয়েছে কিছু ভুল বোঝাবুঝি?
ঠান্ডা লাগলে শরীরে কী ঘটে
সর্দি-কাশি বা গলার সংক্রমণ হলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে গলা ও নাকের ভেতরের টিস্যুতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। ফলে গলা ব্যথা, খুসখুসে ভাব, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
এ সময় শরীর জীবাণুকে আটকে রাখতে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা (মিউকাস) তৈরি করে। একই সঙ্গে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাড়তি শক্তি ব্যয় হওয়ায় ক্লান্তি, অবসাদ কিংবা জ্বরও দেখা দিতে পারে।
যদি এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান না করা হয়, তবে শ্লেষ্মা আরও ঘন হয়ে যায়, ফলে নাক বন্ধ ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।
খুব গরম নয়, পান করুন ঈষদুষ্ণ পানি
চিকিৎসকদের মতে, ঠান্ডা লাগলে খুব গরম নয়, বরং ঈষদুষ্ণ পানি পান করাই সবচেয়ে উপকারী।
অতিরিক্ত গরম পানি গলার সংবেদনশীল টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে। এতে গলার জ্বালা ও খুসখুসে ভাব আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি মুখ ও গলার ভেতরের টিস্যু পুড়েও যেতে পারে।
অন্যদিকে, হালকা গরম পানি গলার অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি নাকের ভেতরে জমে থাকা শ্লেষ্মা কিছুটা পাতলা হয়ে নাক বন্ধের সমস্যাও কমাতে পারে।
দ্রুত আরাম পেতে কী করবেন
ঠান্ডা লাগলে শরীরকে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের বিকল্প নেই। সারা দিনে অল্প অল্প করে ঈষদুষ্ণ পানি পান করলে শরীর আর্দ্র থাকে এবং সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াও সহজ হয়।
এর পাশাপাশি কিছু অভ্যাস উপকার দিতে পারে—
- হালকা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে পান করা।
- ভেষজ চা পান করা।
- কুসুম গরম লবণপানি দিয়ে গার্গল করা।
- গরম পানির ভাপ নেওয়া, যা নাকের বন্ধভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া।
কী খাবেন
ঠান্ডা লাগলে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। শাকসবজি, মাছ বা মুরগির পাতলা ঝোল শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও তরল সরবরাহ করে। পাশাপাশি ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল এবং অন্যান্য ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
মনে রাখুন
গরম বা ঈষদুষ্ণ পানি সাময়িকভাবে গলার অস্বস্তি কমাতে এবং শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করলেও এটি কোনো ওষুধ নয়। এটি সর্দি-কাশির সংক্রমণ সারিয়ে তোলে না। যদি জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তীব্র গলা ব্যথা বা অন্যান্য গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।