অনিয়মিত মলত্যাগ, পেট ফাঁপা, বদহজম কিংবা হঠাৎ পেটে মোচড় দেওয়ার মতো সমস্যা অনেকেরই নিত্যদিনের সঙ্গী। বিশেষ করে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস থাকলে খাবারের প্রতি বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্যতালিকায় ছাতু রাখা কতটা উপকারী হতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে অনেকের।
ছাতু সাধারণত শুকনো খোলায় ভাজা ছোলা বা ছোলার ডাল গুঁড়ো করে তৈরি করা হয়। এতে কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন, চর্বি ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। ফলে পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর একটি উপাদান হতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্যে কিছুটা সহায়ক হতে পারে
ছাতুতে থাকা খাদ্যআঁশ মল নরম রাখতে সহায়তা করতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করার সঙ্গে খাদ্যআঁশযুক্ত খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে উপকার পাওয়া যেতে পারে। নিয়মিত মলত্যাগে সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য তাই পরিমিত ছাতু খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
পেটের স্বাস্থ্যে খাদ্যআঁশের ভূমিকা
খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ছাতুর মতো আঁশযুক্ত খাবার অন্ত্রে উপকারী জীবাণুর জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তবে প্রত্যেকের হজমক্ষমতা এক নয়। কারও ক্ষেত্রে বেশি আঁশ উল্টো পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
আইবিএস থাকলে সাবধানতা জরুরি
আইবিএসের ক্ষেত্রে কোন খাবার উপকারী আর কোনটি সমস্যা বাড়ায়, তা ব্যক্তি ভেদে আলাদা হতে পারে। ছোলা ও ছোলাজাতীয় খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই আইবিএস থাকলে ছাতু খাওয়ার পর শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, সেটি লক্ষ্য করা জরুরি।
কীভাবে খেলে ভালো?
ছাতু খাওয়ার সহজ উপায় হলো পানিতে মিশিয়ে পাতলা শরবত তৈরি করা। অল্প পরিমাণ ছাতু স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা হালকা গরম পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। স্বাদ অনুযায়ী সামান্য লেবুর রস বা লবণ যোগ করা যায়, যদি সেগুলো আপনার জন্য সহনীয় হয়।
তবে একসঙ্গে বেশি ছাতু খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে ঘন করে মিশিয়ে বড় পরিমাণে খেলে কারও কারও হজমে অস্বস্তি হতে পারে।
ছাতু কি পেটের রোগের চিকিৎসা?
এখানেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ছাতু পুষ্টিকর খাবার এবং কিছু ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু এটি কোনো পেটের রোগের ওষুধ নয়। আইবিএস, দীর্ঘদিনের বদহজম বা বারবার পেটে ব্যথার কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
পেটে তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, মলে রক্ত, অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া, বারবার বমি কিংবা দীর্ঘদিন মলত্যাগের সমস্যা থাকলে শুধু ঘরোয়া খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
ছাতু সহজলভ্য ও পুষ্টিকর একটি খাবার। পরিমিত পরিমাণে এবং পর্যাপ্ত পানির সঙ্গে খেলে খাদ্যআঁশের চাহিদা পূরণে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে পেটের সমস্যার সমাধান হিসেবে ছাতুকে একমাত্র ভরসা করা ঠিক নয়। নিজের শরীরের সহনশীলতা বুঝে খাদ্যতালিকায় রাখুন এবং দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।