হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে শুধু ব্যায়াম বা ওষুধের দিকে নজর দিলেই হয় না, প্রতিদিনের খাবারের দিকেও গুরুত্ব দিতে হয়। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবারের বদলে ফল, সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
বাজারে সহজেই পাওয়া যায় এমন কয়েকটি ফল নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাসও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
আপেল
আপেলে রয়েছে দ্রবণীয় খাদ্যআঁশ, বিশেষ করে পেকটিন। খাদ্যআঁশযুক্ত খাবার স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
আপেল খাওয়ার সময় সম্ভব হলে ভালোভাবে ধুয়ে খোসাসহ খাওয়া যায়। এতে বাড়তি খাদ্যআঁশ পাওয়া যায়। তবে যাদের নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ঠিক করবেন।
ডালিম
বেদানায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনল। এসব উপাদান নিয়ে হৃদ্স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে গবেষণা হয়েছে। ফল হিসেবে ডালিম খাওয়া যায়, তবে শুধু এটি খেলেই হৃদ্রোগের ঝুঁকি দূর হবে এমন ধারণা ঠিক নয়।
ডালিমের রসের পরিবর্তে গোটা ফল খেলে খাদ্যআঁশও পাওয়া যায় এবং অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ঝুঁকি কমে।
কমলা
কমলায় ভিটামিন সি, খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে। হৃদ্স্বাস্থ্যবান্ধব খাদ্যতালিকায় এটি সহজেই রাখা যায়।
তবে ফলের রসের বদলে গোটা কমলা খাওয়াই ভালো। গোটা ফলে থাকা খাদ্যআঁশ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং রসের তুলনায় চিনি দ্রুত বেশি পরিমাণে গ্রহণের ঝুঁকি কম থাকে।
বেরিজাতীয় ফল
স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি ও রাস্পবেরির মতো বেরিজাতীয় ফলে রয়েছে খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাসের অংশ হিসেবে এগুলোও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
তাজা বা হিমায়িত বেরি খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি চিনি মেশানো পণ্য এড়িয়ে চলা ভালো।
অ্যাভোকাডো
অ্যাভোকাডো অন্য অনেক ফলের তুলনায় আলাদা, কারণ এতে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে। পাশাপাশি এতে খাদ্যআঁশ ও পটাশিয়ামও পাওয়া যায়।
তবে অ্যাভোকাডোতে ক্যালোরির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। তাই হৃদ্স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এটি বেশি পরিমাণে খাওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমিত পরিমাণে সুষম খাবারের অংশ হিসেবে রাখাই ভালো।
ফল খেলেই কি হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমবে?
শুধু কয়েক ধরনের ফল খাদ্যতালিকায় যোগ করলেই হৃদ্রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, ধূমপান না করা এবং রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
ফল খাওয়ার ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য রাখা ভালো। মৌসুমি ও সহজলভ্য বিভিন্ন ফল পরিমিত পরিমাণে খেলে শরীর প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান পেতে পারে।
যাদের আগে থেকেই হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা বা অন্য কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় বড় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হৃদ্যন্ত্রের যত্ন শুরু হতে পারে প্রতিদিনের খাবারের প্লেট থেকেই। দামি বা বিদেশি খাবারের ওপর নির্ভর না করে পরিচিত ফল, শাকসবজি, পূর্ণশস্য ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার দিয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার ভালো ভিত্তি।









