পা মচকে গেলে ঠান্ডা সেঁক, না কি গরম?

হঠাৎ পা মচকে গেলে কিংবা দীর্ঘক্ষণ হাঁটাহাঁটির পর পায়ে ব্যথা ও ফোলা দেখা দিলে অনেকেই বুঝতে পারেন না, ঠান্ডা সেঁক দেবেন, না কি গরম। অথচ আঘাতের ধরন ও সময় অনুযায়ী সেঁক বেছে নেওয়া জরুরি। ভুল সময়ে গরম সেঁক দিলে নতুন আঘাতের ফোলা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই জেনে নিন, কখন ঠান্ডা সেঁক উপকারী আর কখন গরম সেঁকে মিলতে পারে স্বস্তি।

নতুন আঘাতে ঠান্ডা সেঁক

পা মচকে যাওয়া, হঠাৎ পেশিতে টান লাগা কিংবা আঘাতের পরপরই ব্যথা ও ফোলা দেখা দিলে ঠান্ডা সেঁক উপকার দিতে পারে। ঠান্ডা তাপমাত্রা সাময়িকভাবে ব্যথা কমাতে এবং ফোলা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

যেভাবে দেবেন: বরফ সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না। পাতলা তোয়ালে বা কাপড়ে মুড়ে ১৫–২০ মিনিট পর্যন্ত ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন। প্রয়োজনে কয়েক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে আবার সেঁক দেওয়া যায়। ত্বক অসাড় হয়ে গেলে বা অস্বস্তি হলে সেঁক সরিয়ে নিন।

আঘাতের পর পায়ে ভর দেওয়া কমান এবং সম্ভব হলে পা কিছুটা উঁচুতে রাখুন। প্রথম দু-এক দিন ফোলা থাকলে গরম সেঁক, গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখা বা জোরে মালিশ করা এড়িয়ে চলুন।

কখন গরম সেঁক দেবেন?

পুরনো বা দীর্ঘস্থায়ী পেশির ব্যথা, পেশির আড়ষ্টতা কিংবা ঘাড়, কাঁধ ও কোমরের টান ধরার মতো সমস্যায় গরম সেঁক আরাম দিতে পারে। উষ্ণতা পেশি শিথিল করতে এবং নড়াচড়ায় স্বস্তি পেতে সাহায্য করে।

যেভাবে দেবেন: হালকা গরম তোয়ালে বা গরম জলের ব্যাগ কাপড়ে মুড়ে ১৫–২০ মিনিট ব্যবহার করতে পারেন। তাপমাত্রা যেন সহনীয় থাকে। নতুন আঘাতের ফোলা না কমা পর্যন্ত গরম সেঁক ব্যবহার না করাই ভালো। ডায়াবেটিসজনিত অনুভূতির সমস্যা বা ত্বকে অসাড়তা থাকলে পোড়ার ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ সতর্ক থাকুন।

পা মচকে গেলে আরও যা করবেন

ব্যথা বাড়ায় এমন কাজ ও হাঁটাহাঁটি সাময়িকভাবে কমিয়ে দিন। ব্যথা সহনীয় হলে এবং চিকিৎসকের নিষেধ না থাকলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক নড়াচড়ায় ফিরুন। ব্যথা কমানোর জন্য পায়ের ওপর জোর দিয়ে হাঁটবেন না। ফোলা বা ব্যথা বাড়তে থাকলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে পরামর্শ নিন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে বা কয়েক পা হাঁটতে না পারলে, তীব্র ব্যথা বা বেশি ফোলা দেখা দিলে, পায়ের আকৃতি বদলে গেলে কিংবা পা নীলচে বা অসাড় হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। আঘাতের পর ব্যথা ও ফোলা না কমলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। গুরুতর মচকানো ও হাড় ভাঙার লক্ষণ অনেক সময় কাছাকাছি হতে পারে।

মনে রাখা দরকার, নতুন আঘাত ও ফোলায় প্রথমে ঠান্ডা সেঁক এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা পেশির আড়ষ্টতায় গরম সেঁক বেশি উপযোগী হতে পারে। তবে সেঁকই সব সমস্যার সমাধান নয়। ব্যথার তীব্রতা ও আঘাতের ধরন বুঝে ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।