ভূরিভোজে পেটের গোলমাল এড়াবেন কীভাবে?

পূজা বা কোনও উৎসব-অনুষ্ঠানে খাওয়াদাওয়ার তালিকায় থাকে নানা পদের আয়োজন। সকালে লুচি-তরকারি, দুপুরে মাংস, সন্ধ্যায় ফুচকা কিংবা চটপটি, আবার রাতে রেস্তরাঁয় জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। উৎসবের আনন্দে খাবারের পরিমাণ ও সময়ের দিকে খেয়াল রাখা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু টানা কয়েক দিন এমন অনিয়ম চললে দেখা দিতে পারে গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা হজমের সমস্যা। তাই পছন্দের খাবার খাওয়ার পাশাপাশি পেটের সুস্থতার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

উৎসবের সময় খাওয়াদাওয়ায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই অস্বস্তির ঝুঁকি কমানো যায়। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে না থেকে নিয়মিত সময়ে খাবার খান। একবারে অনেকটা না খেয়ে পরিমাণ বুঝে খান এবং খাবারের পরপরই শুয়ে পড়বেন না। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।

সকালের খাবারে রাখুন সহজপাচ্য পদ

প্রতিদিনের নাশতায় লুচি বা পরোটা থাকতেই পারে, তবে তার সঙ্গে হালকা ও পুষ্টিকর খাবারও বেছে নিতে পারেন। ভাতের মাড় বা পাতলা ভাত খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটিও রাখা যায়। তবে ঘরে তৈরি খাবার দীর্ঘক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় রেখে গাঁজিয়ে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। ভুল পদ্ধতিতে গাঁজানো খাবারে ক্ষতিকর জীবাণু তৈরি হতে পারে। তাই খাবার তৈরির পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন।

গ্যাস হলে চা নয়, অভ্যাসে বদল আনুন

খাওয়ার পর পেট জ্বালা বা গ্যাস হলে অনেকে লবঙ্গ-চায়ের মতো ঘরোয়া উপায়ের ওপর ভরসা করেন। তবে লবঙ্গ-চা খেলেই গ্যাসের সমস্যা সেরে যাবে কিংবা ওষুধের প্রয়োজন হবে না এমন প্রমাণ নেই। কারও কারও ক্ষেত্রে চা বা মসলাযুক্ত পানীয় অস্বস্তি বাড়াতেও পারে। বারবার গ্যাস হলে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ খাওয়ার বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

জোয়ান-বিটলবণ খাওয়ার আগে সতর্ক থাকুন

খাওয়ার পর পেট ভার লাগলে অনেকেই জোয়ান ও বিটনুন খান। জোয়ানে থাকা থাইমল নিয়ে হজমে সহায়তার কিছু ধারণা প্রচলিত থাকলেও, এই মিশ্রণ সব ধরনের পেটের সমস্যার নির্ভরযোগ্য সমাধান নয়। বিটলবণেও সোডিয়াম থাকে, তাই উচ্চ রক্তচাপ বা চিকিৎসকের দেওয়া লবণ কম খাওয়ার পরামর্শ থাকলে এ ধরনের মিশ্রণ এড়িয়ে চলুন।

খাওয়ার পর একটু হাঁটুন

ভুরিভোজের পরই শুয়ে পড়ার অভ্যাস থাকলে তা বদলান। আরাম করে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে খাবারের পর অস্বস্তি কমাতে সুবিধা হয়। রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে শেষ করার চেষ্টা করুন। যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, তাদের এই অভ্যাস বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে।

পানি পান করুন, খাবার বাছুন বুঝেশুনে

উৎসবের ব্যস্ততায় পানি পান কমে গেলে শরীরে পানির ঘাটতি হতে পারে। তাই নিয়মিত পানি পান করুন। পাশাপাশি ফল, সবজি ও আঁশসমৃদ্ধ খাবারও রাখুন খাদ্যতালিকায়। বাইরের খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন এবং দীর্ঘক্ষণ খোলা অবস্থায় থাকা খাবার এড়িয়ে চলুন।

উৎসবের আনন্দে পছন্দের খাবার উপভোগ করতেই পারেন। তবে একসঙ্গে অতিরিক্ত খাওয়া, অনিয়মিত সময়ে খাবার গ্রহণ এবং খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তমিশ্রিত পায়খানা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।