যেখানে সারা বিশ্বে স্কিন কেয়ারের ক্ষেত্রে সানস্ক্রিনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেখানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক মানুষ এখনও সানস্ক্রিন ব্যবহারে আগ্রহ দেখান না। অথচ রোদ ও গরমের প্রকোপ এই অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি।
এর কারণ জানতে চাইলে ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত সামিয়া জামান জানান, বাংলাদেশের মানুষের ত্বকের ওপর রোদের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানার ঘাটতি রয়েছে। এ দেশে সারা বছরই রোদ পড়ার কারণে অনেকেই মনে করেন প্রাকৃতিকভাবে এখানে কোনও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি নেই। তবে অনেকেই তীব্র রোদের কারণে ত্বকের নানা সমস্যাতেও ভোগেন। অনেকে একে কেবল ‘বিউটি প্রোডাক্ট’ হিসেবে বিবেচনা করেন এবং শুধু মেয়েদের জন্য প্রযোজ্য ভাবেন। অথচ বাস্তবে সানস্ক্রিন রোদ থেকে ত্বককে রক্ষা করার একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস– বয়স, লিঙ্গ বা ত্বকের রঙ নির্বিশেষে সবার জন্যই প্রযোজ্য।
পাশাপাশি এখানে মূল সমস্যা হিসেবে কাজ করে সানস্ক্রিনের দাম। কারণ বাজারে মানসম্মত সানস্ক্রিন সরবরাহ যেমন পর্যাপ্ত নয়, তেমনই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দামটাও চড়া। অনেকের পক্ষেই নিয়মিত বিদেশি ব্র্যান্ডের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।
ঢাকার বিভিন্ন বিপণিবিতান এবং কসমেটিকসের জন্য জনপ্রিয় কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ঘুরে দেখা যায়, ৫০ থেকে ৮০ গ্রামের এক একটিসানস্ক্রিন বিক্রি হচ্ছে আটশ’ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায়। যেহেতু সানস্ক্রিন একটি নিত্য ব্যবহার্য পণ্য, প্রতিদিন বাইরে বের হওয়ার আগে ব্যবহার করতে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন, সেই হিসেবে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার আসলেও খরচের ব্যাপার অনেকের জন্য।
এ বিষয়ে রাজধানীর একটি বিপণিবিতানের বিক্রয়কর্মী জানান, মূলত বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন মানসম্মত সানস্ক্রিন সবই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। আমদানি সংক্রান্ত নানা শুল্ক এবং অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত সব সানস্ক্রিনের দাম অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া দেশীয় প্রতিষ্ঠানের তৈরি দেশে উৎপাদিত মানসম্মত সানস্ক্রিনের অভাবের কথাও ওই বিক্রয়কর্মী উল্লেখ করেন।
তবে বাজার ঘুরে বিভিন্ন দোকানে নানা ধরনের মোড়কে নানা নামের সানস্ক্রিন পাওয়া যায় কম দামে। যদিও কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতারা জানান, এসব ‘নন-ব্র্যান্ড’ সানস্ক্রিন আসলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এবং সানস্ক্রিনের মতো পণ্যের যে ধরনের মান হওয়া প্রয়োজন, তার কোনোটিই এসব ক্ষেত্রে মানা হয় না।
একই বিপণিবিতানের আরেক কর্মী জানান, তাদের ক্রেতাদের মধ্যে আগের চেয়ে ত্বকের যত্ন নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। এখন অনেকেই সানস্ক্রিনের খোঁজ করেন, কেনার পরিমাণও বেড়েছে। তবে এখনও বাজারে প্রচলিত বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর সানস্ক্রিনের যে দাম, সেটি বেশিরভাগ ক্রেতার নাগালের বাইরে বলেই জানালেন ওই বিক্রয়কর্মী। যদি বাংলাদেশে ডার্মাটোলজিস্ট-রেকমেন্ডেড, সাশ্রয়ী মূল্যে সানস্ক্রিন তৈরি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ বেশি আগ্রহ দেখাবে– এমনটা মনে করেন তিনি।