ইদানীং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শোনা যাচ্ছে বেশি। দগ্ধ অনেককে হাসপাতালে নেওয়ার পরও দেখা যায় দীর্ঘসময় তারা বেশ ঝুঁকিতে থাকেন। অন্যসব দুর্ঘটনায় রোগীর অবস্থা দ্রুত আঁচ করা গেলেও আগুনে পোড়াদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয় না। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানালেন, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।
বেশি ঝুঁকি
ডা. সামন্ত লাল সেন জানালেন, বাকি শরীর অক্ষত থাকলেও কারও যদি শুধু শ্বাসনালী আগুনে দগ্ধ হয়, তবে সরাসরি তা ফুসফুস আক্রান্ত করে। এই পোড়া সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। শ্বাসনালী পুড়লে ৯৭ ভাগ রোগীই মারা যায়। এর কারণ, আমরা যে শ্বাস নেই তা শ্বাসনালী হয়ে ফুসফুসে ঢোকে। বাতাসে থাকা ছোট ছোট উপাদান চামড়ায় বা ত্বকে ঢুকতে পারে না। কিন্তু চামড়া পুড়ে গেলে তা সহজেই ফুসফুসে ঢুকে পড়তে পারে। এতে শরীরের অন্যান্য অংশে সংক্রমণ দেখা দেয় দ্রুত।
কতটুকু পুড়লে বিপদজনক?
ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, শিশুদের শরীরের ১০ শতাংশ এবং প্রাপ্তবয়ষ্কদের ১৫ শতাংশ অংশ পুড়ে গেলে আমরা সেটাকে ঝুঁকিপূর্ণ ধরে চিকিৎসা দিয়ে থাকি। শ্বাসনালী অক্ষত থাকলে কোনও ব্যক্তির শরীর ৪০ শতাংশ দগ্ধ হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়। তবে এটাও নির্ভর করে রোগীর বয়সের ওপর। বয়ষ্কদের পোড়া কম হলেও মৃত্যুর শঙ্কা বেশি থাকে।
ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, রক্তচাপের রোগীদের জন্য আগুনে পোড়া বিপদজনক উল্লেখ করে ডা. সামন্ত বলেন, এসব রোগে শরীরে এমনিতেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
শরীরের ১৫ শতাংশ বেশি পুড়লেই রোগীর অবস্থা খারাপের দিকে যেতে শুরু করে। ৩০ শতাংশের বেশি হলে তাকে একসটেনসিভ ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৪০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেলে সে রোগীকে শঙ্কটাপন্ন বলে ধরে নেই। এর বেশি পরিমাণ পুড়লে আমাদের এখানকার আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যতোটা সম্ভব চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করি।
কতোভাবে পুড়ে
ডা. সামন্ত লাল বললেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, গ্যাস থেকে লাগা আগুন, বিদ্যুৎ থেকে সৃষ্ট আগুন, এবং রাসায়নিক বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে আসে।
এ ছাড়া গরম পানিতে শরীরের কোনও অংশ পুড়ে গেলে তা চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা যায়। তবে ওটা দীর্ঘমেয়াদী হবে। এ ছাড়া অন্যান্য আগুনের ঘটনাতেও ক্ষত সারতে সময় লাগেব। প্রতিনিয়ত চিকিৎসার ফলোআপে থাকতে হয়। তবে এ ধরনের ঘটনায় ক্ষত পুরোপুরি কখনই যায় না।
আগুনে পুড়লে যা করবেন, যা করবেন না
ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, শরীরে আগুন লাগলে যতো দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার পানি ঢালতে হবে ক্ষতস্থানে। যতো বেশি পানি ঢালা সম্ভব হবে ক্ষতির পরিমাণ ততো কমানো সম্ভব। এক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা একটাই- পানি। পরে দ্রুত হাসপাতালে আনতে হবে।
এ সময় ক্ষতস্থানে অন্য কিছু লাগানো যাবে না। অনেকে টুথপেস্ট, লবণ, ডিমের সাদা অংশ বা পেঁয়াজের রসের জন্য ছোটাছুটি শুরু করে। এগুলো আগুনে পোড়া রোগীদের জন্য আরও ক্ষতিকারক। এগুলো দিলে সমস্যা বাড়ে। হাসপাতালে নেওয়ার পর এগুলো পরিষ্কার করতেও সময় নষ্ট হয়। আর উপাদানগুলো জমাট বেঁধে গেলে চামড়াও উঠে আসে। এতে ক্ষতের পরিমাণ আরও বাড়ে। যদি রোগীর মুখ বা চোখ পুড়ে যায়, তবে রোগীকে যতোক্ষণ সম্ভব সোজা করে বসিয়ে রাখতে হবে। এতে ফোসকা পড়া বা ফুলে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।