চুলের রঙে ভাইরাল হ্যাক কতটা কার্যকর, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

যুবসমাজের মধ্যে চুলে রং করার প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সঠিক শেড নির্বাচন এবং তা যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করাও এখন রং করার প্রক্রিয়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চুলের বিশেষজ্ঞ শৈলেশ মুল্যার মতে, বর্তমান ভোক্তারা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি পরীক্ষামূলক হলেও অনলাইনে দেখা ট্রেন্ড অনুসরণ করলেই ভালো ফল পাওয়া যায় না; এর জন্য প্রয়োজন গভীর বোঝাপড়া ও সঠিক পদ্ধতি।

এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গোদরেজ প্রফেশনালের ন্যাশনাল টেকনিক্যাল হেড মুল্যা চুলের রঙের ট্রেন্ড, স্যালন কেয়ার, আফটারকেয়ার রুটিন এবং চুলের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।

তিনি মনে করেন, ঘরে বসে চুল রং করার পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সৌন্দর্যবিষয়ক ট্রেন্ডের ব্যাপক বিস্তারের ফলে মানুষ এখন নিজেদের চেহারা নিয়ে বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।

মুল্যা বলেন, “আমার মনে হয় জেনারেশন জেড এখন অনেক বেশি পরীক্ষামূলক, যা ইতিবাচক। তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি না ভেবে বর্তমানেই বাঁচে। তাই এই মানসিকতাই তাদের নতুন কিছু চেষ্টা করতে উৎসাহিত করছে।”

আগে চুল রং করা মূলত পাকা চুল ঢাকার জন্য ব্যবহৃত হলেও এখন এটি আত্মপ্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে বিকশিত হয়েছে।

তার মতে, এখন তরুণরা ত্বকের রং, চোখের রং এবং সামগ্রিক চেহারার সঙ্গে কোন শেড মানানসই হবে সে বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন। তিনি বলেন, “আগে আমরা ব্লন্ড রঙের দিকে বেশি ঝুঁকতাম, এখন আবার ব্রুনেট শেডে ফিরে আসছে—বিশেষ করে ব্রাউন রঙের নানা শেড ও গ্লসি ফিনিশ নিয়ে বেশি পরীক্ষা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, অনেক ট্রেন্ড পশ্চিমা দেশ থেকে এলেও ভারতীয়রা এখন সেগুলো শুধু অনুকরণ না করে নিজেদের মতো করে মানিয়ে নিচ্ছে।

মুল্যা উল্লেখ করেন, অ্যাশ ব্লন্ড বা শ্যাম্পেন শেড সবার জন্য মানানসই নাও হতে পারে, তাই ব্যক্তিগত পরামর্শ বা কনসালটেশনের গুরুত্ব বাড়ছে। তার মতে, সবচেয়ে বড় ভুল হলো দক্ষ পেশাদারের পরামর্শ ছাড়া চুলের রং নির্বাচন করা।

তিনি বলেন, “একজন দক্ষ আর্টিস্ট খুঁজে পাওয়া জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি।” হেয়ারস্টাইলিস্টদের পারিবারিক চিকিৎসকের সঙ্গে তুলনা করে তিনি জানান, বিশ্বস্ত পেশাদাররা ক্লায়েন্টের জীবনধারা, পছন্দ, ত্বকের রং ও চুলের ইতিহাস বুঝে আরও ভালো পরামর্শ দিতে পারেন।

তার পরামর্শ, অনুপ্রেরণার ছবি সঙ্গে রাখা যেতে পারে, তবে চূড়ান্ত লুক অবশ্যই পেশাদারের মাধ্যমে কাস্টমাইজ করা উচিত। অনেকেই স্যালন থেকে বের হওয়ার পর আফটারকেয়ারে উদাসীন হয়ে পড়েন, যা রঙের স্থায়িত্বে বড় প্রভাব ফেলে।

তিনি বলেন, “চুলের রং ধরে রাখার জন্য যে যত্ন দরকার, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—যা অনেকেই ভুলে যান।” তিনি আরও যোগ করেন, “রং যদি ৬০ শতাংশ হয়, বাকি ৪০ শতাংশই রক্ষণাবেক্ষণ।”

তিনি পরামর্শ দেন, রঙ করা চুলের জন্য বিশেষায়িত পণ্য ব্যবহার করতে এবং পেশাদারদের দেওয়া রুটিন অনুসরণ করতে। বাজেটের কারণে প্রিমিয়াম পণ্য না হলেও একই ধরনের পুষ্টি ও আর্দ্রতা প্রদানকারী বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া দই, লেবু, কলা ইত্যাদি ঘরোয়া হ্যাক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এসব দাদি-নানির টোটকা কোনও কাজ করে না, আপনি যদি সত্যিই ফল চান।”

তার মতে, এসব ঘরোয়া উপায়ে কার্যকর ফলের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও ফর্মুলেশন থাকে না। তেল ব্যবহারের প্রচলিত ধারণাকেও তিনি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, “তেল আসলে শুধু লুব্রিক্যান্টের মতো কাজ করে।”

মুল্যা ব্যাখ্যা করেন, তেল মূলত মাথার ত্বকে ম্যাসাজের সময় ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করে। চুল গজানোর উপকারিতা মূলত ম্যাসাজের ফলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ার কারণে হয়, তেলের কারণে নয়।

তিনি আরও বলেন, “বাইরের যত্নের চেয়ে খাদ্যাভ্যাস বেশি ফল দেয়।”

ভবিষ্যতের প্রবণতা নিয়ে তিনি মনে করেন, প্রাকৃতিক ও ব্যক্তিগতকৃত শেডই আগামী দিনে জনপ্রিয় হবে।

তিনি বলেন, “আমরা যা দিচ্ছি তা আরও স্বাভাবিক, আরও বাস্তব জীবনের মতো।” সদ্য উন্মোচিত ভাইব কালেকশন এই পরিবর্তনের প্রতিফলন, যেখানে তিনটি মুড—চাওস মোড, সফট লঞ্চ এবং মেইন ক্যারেক্টার—তৈরি করা হয়েছে।

চুলের মেকওভার নিয়ে তার মূল বার্তা, সঠিক রং নির্বাচন করা, আফটারকেয়ারে বিনিয়োগ করা এবং অনলাইন ট্রেন্ড বা ঘরোয়া টোটকার ওপর অন্ধভাবে নির্ভর না করা।

সূত্র: এনডিটিভি, এএনআই, গোদরেজ প্রফেশনালের বিশেষজ্ঞ