মাত্র একটি জিনিসেই ঘষাঘষি ছাড়াই মেকআপ উঠবে নিমিষে

মেকআপের পর দিন শেষে ত্বক পরিষ্কার করা জরুরি। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী ফাউন্ডেশন, কাজল বা লিকুইড লিপস্টিক তুলতে গিয়ে ত্বকে বারবার ঘষাঘষি করতে কারওই ভালো লাগে না। এই ঝামেলা কমাতেই রূপচর্চার জগতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ক্লিনজিং বাম। মাখনের মতো নরম এই প্রসাধনী ত্বকের ওপর জমে থাকা মেকআপ, অতিরিক্ত তেল ও ময়লা সহজেই গলিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। তবে প্রশ্ন হলো, ত্বকের জন্য এটি কতটা উপকারী এবং কারা ব্যবহার করবেন?

ক্লিনজিং বাম কী: নামে ‘বাম’ হলেও এটি দেখতে অনেকটা ঘন ক্রিম বা মাখনের মতো। মুখে লাগিয়ে আলতো হাতে মাসাজ করলে বামের তেলভিত্তিক উপাদান মেকআপকে গলিয়ে দেয়। এরপর ভেজা কাপড়, তুলা বা পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলেই মেকআপ অনেকটাই উঠে আসে।

ক্লিনজিং বামের ব্যবহার অবশ্য একেবারে নতুন নয়। লন্ডনের ফেসিয়ালিস্ট ও ভেষজবিদ ইভ লোম ১৯৮৫ সালে নিজের ব্র্যান্ডের মাধ্যমে এমন একটি ফেসিয়াল বাম বাজারে আনেন। লবঙ্গ ও ইউক্যালিপ্টাস তেলসহ বিভিন্ন ত্বকবান্ধব তেলের সমন্বয়ে তৈরি সেই পণ্য পরবর্তী সময়ে ক্লিনজিং বামের জনপ্রিয়তার ভিত্তি তৈরি করে।

পরবর্তীতে কোরিয়ান বিউটি ব্র্যান্ডগুলোর হাত ধরে বিশ্বজুড়ে এর জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে। বিশেষ করে ডাবল ক্লিনজিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হওয়ার পর ক্লিনজিং বাম রূপচর্চার রুটিনে আলাদা জায়গা করে নেয়।

কেন এত জনপ্রিয়: বর্তমান সময়ের ফাউন্ডেশন, মাসকারা, লিপস্টিক বা আই মেকআপ আগের তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী। ফলে শুধু পানি বা সাধারণ ফেসওয়াশ দিয়ে সেগুলো পরিষ্কার করা কঠিন। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে ত্বকে শুষ্কতা বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

সূর্যমুখী তেল, জোজোবা অয়েল, গ্রেপসিড অয়েল, কোকো বাটার বা শিয়া বাটারের মতো উপাদান বিভিন্ন ক্লিনজিং বামে ব্যবহার করা হয়। মুখে আলতো করে মাসাজ করলেই মেকআপ নরম হয়ে আসে, ফলে ত্বকে বেশি চাপ দিতে হয় না।

ডাবল ক্লিনজিং রুটিনেও এটি প্রথম ধাপ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। প্রথমে তেলভিত্তিক ক্লিনজার দিয়ে মেকআপ ও সানস্ক্রিন পরিষ্কার করে, পরে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া হয়।

ত্বকে কী কী সুবিধা দিতে পারে: ক্লিনজিং বামের অন্যতম সুবিধা হলো, এটি মেকআপ পরিষ্কার করার পাশাপাশি ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলে না। বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে এটি আরামদায়ক হতে পারে।

সম্ভাব্য সুবিধা: এর সম্ভাব্য সুবিধাগুলো হলো এটি দীর্ঘস্থায়ী মেকআপ সহজে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ত্বকে অতিরিক্ত ঘষাঘষির প্রয়োজন কমায়। ত্বককে তুলনামূলক নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। ডাবল ক্লিনজিংয়ের প্রথম ধাপ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বকের শুষ্কতা কম অনুভূত হতে পারে। ভ্রমণের সময় ব্যবহার করা তুলনামূলক সুবিধাজনক, কারণ তরল ক্লিনজারের মতো ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম।

ব্যবহার পদ্ধতি: প্রথমে শুকনো হাতে অল্প পরিমাণ ক্লিনজিং বাম নিয়ে শুকনো মুখে  লাগান। এরপর আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো হাতে পুরো মুখে মাসাজ করুন। চোখ ও ঠোঁটের মেকআপ পরিষ্কার করার সময় বিশেষভাবে কোমল হতে হবে।

মাসাজ করার সঙ্গে সঙ্গে বাম মেকআপ গলিয়ে দেবে। এরপর ভেজা নরম কাপড় বা পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। ডাবল ক্লিনজিং করলে এরপর মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।

সবার জন্য কি উপযোগী: ক্লিনজিং বাম জনপ্রিয় হলেও সবার ত্বকে এটি একইভাবে মানাবে এমন নয়। বিশেষ করে অতিরিক্ত তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে কোনও কোনও ক্লিনজিং বাম ভারী বা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তাই নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য বেছে নেওয়া জরুরি।

আর ক্লিনজিং বাম ব্যবহার করার পর মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করাও গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকে বামের অবশিষ্টাংশ থেকে গেলে তা অস্বস্তি বা সমস্যা তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, মেকআপ তুলতে বারবার ঘষাঘষি না করে সহজে ত্বক পরিষ্কার করতে চাইলে ক্লিনজিং বাম হতে পারে রূপচর্চার রুটিনের একটি কার্যকর সংযোজন। তবে ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক পণ্য বেছে নেওয়াই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।