গ্রীষ্মের তীব্র রোদে বাইরে বেরোলেই ত্বকে দেখা দিতে পারে কালচে ছোপ, অসম রং কিংবা অতিরিক্ত পিগমেন্টেশনের সমস্যা। সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বকে মেলানিনের উৎপাদন বাড়তে পারে, যার ফলে ত্বকের কিছু অংশ তুলনামূলক গাঢ় দেখায়। শুধু প্রসাধনী ব্যবহার করলেই ত্বকের যত্ন সম্পূর্ণ হয় না। পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারের পাশাপাশি শরীরকে ভিতর থেকেও পুষ্টি দেওয়া জরুরি।
রোজের খাদ্যতালিকায় ফল, সবজি, বাদাম ও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান রাখার পাশাপাশি কয়েকটি সহজ পানীয়ও বেছে নিতে পারেন। তবে এগুলো পিগমেন্টেশন সারানোর চিকিৎসা নয়, বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই পান করা যেতে পারে।
ডাবের পানি ও চিয়া-বীজের শরবত: গরমে শরীর সতেজ রাখতে ডাবের পাানি বেশ উপযোগী। এর সঙ্গে যোগ করতে পারেন চিয়া-বীজ। এক গ্লাস ডাবের জলে এক টেবিল চামচ ভেজানো চিয়া-বীজ মিশিয়ে নিন। চাইলে কয়েকটি পুদিনাপাতা যোগ করতে পারেন। ঠান্ডা করে পান করলে মিলবে সতেজতার অনুভূতি। চিয়া-বীজে থাকা ফাইবারও খাদ্যতালিকায় পুষ্টির মাত্রা বাড়াতে পারে।
বিট, বেদানা ও শসার পানীয়: রঙিন এই পানীয়টি বানাতে এক কাপ বিটের টুকরো, এক কাপ বেদানা এবং এক কাপ শসা ব্লেন্ড করে নিন। প্রয়োজনমতো পানি মিশিয়ে ছেঁকে নিতে পারেন। এরপর কয়েকটি পুদিনাপাতা ও সামান্য পাতিলেবুর রস যোগ করুন। বিট, বেদানা ও শসার মতো উপাদান খাদ্যতালিকায় নানা ধরনের ভিটামিন, মিনারেল ও উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যোগ করতে পারে।
আনারস-পুদিনার ইনফিউজড ওয়াটার: খুব সহজেই তৈরি করা যায় এই পানীয়। এক কাপ আনারসের টুকরো এবং এক মুঠো পুদিনাপাতা একটি বড় পাত্রে পানির সঙ্গে দিয়ে ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর সারাদিন অল্প অল্প করে পান করতে পারেন। আনারসে রয়েছে ভিটামিন সি এবং ব্রোমেলিন নামের একটি এনজাইম। তবে এই পানীয়কে ত্বকের দাগছোপ দূর করার ওষুধ হিসেবে না দেখে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নেওয়াই ভাল।
কেশর-বাদামের দুধ: ত্বকের পাশাপাশি শরীরের সামগ্রিক পুষ্টির কথা মাথায় রেখে তৈরি করতে পারেন কেশর-বাদামের পানীয়। ৫-৬টি ভেজানো কাঠবাদাম বেটে নিন। এক গ্লাস হালকা গরম দুধ বা পছন্দের বাদামজাতীয় দুধে এক চিমটি কেশর ভিজিয়ে নিয়ে তার সঙ্গে বাদামবাটা মিশিয়ে দিন। বাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ই-সহ নানা পুষ্টি উপাদান। সন্ধ্যায় কিংবা সকালের নাস্তায় এই পানীয় খেতে পারেন।
তবে শুধু পানীয়ের উপর নির্ভর করে ত্বকের পিগমেন্টেশন কমানো সম্ভব নয়। বাইরে বেরোনোর আগে ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন, প্রয়োজনে টুপি বা ছাতা ব্যবহার এবং রোদে দীর্ঘ সময় থাকা এড়িয়ে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকে দাগছোপ দ্রুত বাড়তে থাকলে বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।









