বাজারে চকচকে ও টাটকা দেখতে পাওয়া মাছই যে নিরাপদ এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দীর্ঘ সময় মাছ তাজা দেখাতে কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের আশঙ্কা থাকে। তাই মাছ রান্নার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। তবে শুধু ধোয়া বা ভিজিয়ে রাখলেই মাছের শরীর থেকে ফর্মালিন পুরোপুরি দূর হয়ে যায় না।
মাছ বাড়িতে আনার পর প্রথমেই পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর মাছের আঁশ, নাড়িভুঁড়ি ও অন্যান্য অখাদ্য অংশ ফেলে দিন। এরপর আবার পানি দিয়ে ধুয়ে রান্নার প্রস্তুতি নিন। মাছ কাটার সময় ব্যবহৃত ছুরি, কাটিং বোর্ড ও অন্যান্য সরঞ্জামও ভালোভাবে পরিষ্কার করে রাখুন।
অনেকে মাছকে লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখা বা চাল ধোয়া পানিতে ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে এসব ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফর্মালিন পুরোপুরি দূর হয় এমন কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। একইভাবে দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখলে মাছের স্বাদ ও কিছু পানিতে দ্রবণীয় পুষ্টি কমে যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মাছের উৎস সম্পর্কে সতর্ক থাকা। পরিচিত ও বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে মাছ কিনুন এবং অস্বাভাবিক চকচকে, অতিরিক্ত শক্ত বা দীর্ঘ সময়েও নষ্ট না হওয়া মাছ দেখলে সতর্ক থাকুন। সন্দেহজনক মাছ না কেনাই রাসায়নিকের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
মাছ রান্নার আগে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে সম্পূর্ণ সিদ্ধ বা রান্না করে খাওয়াই নিরাপদ অভ্যাস। আর মাছের মধ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি নিয়ে সন্দেহ থাকলে ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে সেটি না খাওয়াই ভালো।