গণহত্যার দিনলিপি : ইরান, ২০২৬ ।। পর্ব—১

এই বেনামি ডায়েরিটি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তেহরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ চলাকালে লেখা হয়েছিল। যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি প্রবাসী ইরানিদের একটি ওয়েবসাইটে বেনামে প্রকাশিত হয়। আট দিনের বর্ণনায় ডায়েরিটি তুলে ধরে সেই সময়ের অনিশ্চয়তা, বিভ্রান্তি ও অজানাকে—যখন মানুষের চোখের সামনে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছিল এক অকল্পনীয় বিভীষিকা।

৭ জানুয়ারি ২০২৬, রাত ৮টা

শহরজুড়ে এক অদ্ভুত স্তব্ধতা নেমে এসেছে। আমাদের রাস্তার সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাইরে কোথাও থেকে একটানা গুঞ্জনের মতো একটি শব্দ ভেসে আসছে। জানালা দিয়ে তাকিয়ে কিছুই বোঝা যায় না। আমি ছাদে উঠি। পাশের রাস্তাগুলোর আলোও নিভে আছে। এমনকি আমাদের বাড়ির সামনের ক্যাফেটিও বন্ধ। কিন্তু শব্দটির উৎস খুঁজে পাই না। আমি আবার ঘরে ফিরে এসে কয়েকজন বন্ধুকে ফোন করি। আর(R) জানায়, প্রতিদিন বিকেল চারটার দিক থেকেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কারও আর বাজারে বা দোকানে যাওয়ার আগ্রহ নেই।

আমি এম(M)-কে ফোন করি। সে বলে, আজ রাতে শহরের পশ্চিমাংশে আপাতত বিশেষ কিছু ঘটছে না। তবে দুপুরে যখন সে জোমহুরি সড়ক ও ফেরদৌসি স্কয়ারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তুরস্কের দূতাবাসে পৌঁছানোর আগেই সে দেখেছিল, রাস্তায় হঠাৎ ভিড় বেড়ে গেছে। এখানে-সেখানে সিমেন্টের ব্লক ছড়িয়ে পড়ে ছিল। বিআরটি বাস চলাচলের জন্য রাস্তার মাঝখানে বসানো লোহার বেড়াগুলোও উপড়ে ফেলা হয়েছে। ১ চারপাশের সবগুলো শপিং সেন্টারই বন্ধ ছিল।

টি(T) আমাকে জানাল, একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সে খবর পেয়েছে যে বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেট সংযোগ ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন করা শুরু হবে। বি(B) বলল, “যেভাবেই হোক, বাচ্চাদের যেন ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত রাখা যায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে ওরা ভীষণ অস্থির হয়ে পড়বে।” আমি বললাম,“আশা করতে তো দোষ নেই! লোকটা প্রকাশ্যেই আহ্বান জানিয়েছে—জেনজি প্রজন্মকে রাস্তায় নেমে আসতে বলেছে। সে বলেছে, তার সমস্ত আশা এই কিশোর-তরুণদের ওপর নির্ভর করে। আর তুমি চিন্তা করছ আমার বাচ্চারা ইন্টারনেট পাবে কি না!”
সে বলল,“হ্যাঁ। তবে আশা করি তুমি তোমার রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে জানো। কারণ মানুষকে তো রেজা পাহলভি হত্যা করে না। যাই হোক, কাল রাতের আড্ডায় আমি আসতে পারব না।”
আমি বললাম,“আমি কি তোমাকে বিরক্ত করেছি? কাল এসো। আমরা তর্ক করব না। সবাই একসঙ্গে থাকি। সব ক্যাফে বন্ধ। একা একা এই উদ্বেগের মধ্যে থাকলে আমরা পাগল হয়ে যাব।”
“আমি এলে বরং একে অপরকে আরও পাগল করে তুলব। তা ছাড়া সেখানে গিয়ে আটকে পড়তে পারি, তখন আর বাড়ি ফেরা হবে না।”
 “তোমার কি মনে হয় কাল পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠবে?”
“উত্তপ্ত হবেই। তারানেহ যেমন বলেছিল, বিপ্লব আসলে এমনই—একসময় সে নিজেই তোমার দরজায় এসে কড়া নাড়ে।”২ 
 “তারানেহ এই কথাটি ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বলছিলেন।”

৮ জানুয়ারি ২০২৬, সন্ধ্যা ৬টা

ভিপিএনগুলো একের পর এক অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। একমাত্র যে ভিপিএনটি এখনও কাজ করছে, সেটি হলো সেই পেইড ভিপিএন যেটি আমরা বাচ্চাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য চালু রেখেছি। নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা ভেবে নিজেদের মোবাইল ফোনে সেটি ব্যবহার করার সাহস করিনি। সাইফন (Psiphon) প্রায় আর সংযোগই পাচ্ছে না। আরাক শহর থেকে খবর আসছে। শাজান্দেও মানুষ রাস্তায় নেমেছে। আবদানান, মালেকশাহী এবং ইরানের মানচিত্রজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আরও শত শত শহরের বাসিন্দারা—যাদের অনেকগুলোর নামই আমি আগে কখনও শুনিনি—কয়েকদিন ধরেই রাজপথে অবস্থান করছেন। আমি এস(S)-কে ফোন করি। সে বলে, “ইসফাহানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে ।” সে তখনও রাস্তায়, মানুষের ভিড়ের মধ্যেই আছে।

আমি ওভেনের তাপমাত্রা ঠিক করে ওয়ার্মার মোডে সেট করি। আমি টেবিলটা আগেই সাজিয়ে ফেলেছি। আমি আমার পরিবারকে বলি যে আমি কিছু জিনিসপত্র আনতে বাইরে যাচ্ছি। 
বি(B) কিছুটা ব্যঙ্গের সুরে বলে,“শুভকামনা। তুমি তো জানো যে দু'ঘণ্টা পরেই আমাদের বাড়িতে মেহমান আসছে, তাই না?” আমাদের সবার ওপরই সে বিরক্ত। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমি আর আমার বন্ধুরা যে অবিরাম তর্কে জড়িয়ে আছি, তাতে সে একরকম হাঁপিয়ে উঠেছে।
“এখনো তো সাতটাও বাজেনি। দেখবে, ফিরতে বেশি সময় লাগবে না।”
আমি বেরিয়ে পড়ি। তাখ্তে তাভুস সড়কে ঢুকতেই দেখি সব ক্যাফে বন্ধ। বাদামের দোকানটিও আলো নিভিয়ে দিচ্ছে। আমি বিক্রয়কর্মীকে জিজ্ঞেস করি,“আজ এত তাড়াতাড়ি দোকান বন্ধ করছেন?” 
“হ্যাঁ, বন্ধ করছি। আপনিও কি বের হচ্ছেন?”
“কিছু জিনিস কিনতে বেরিয়েছি। আপনি কোন দিকে যাচ্ছেন?”
“দোকানের সবাই ভ্যালি-এ আসর সড়কের দিকে গেছে।”

আমি গাড়ি চালিয়ে হাফেজ সড়কের ট্রাফিক সিগন্যালের দিকে এগোই। সব গয়নার দোকান বন্ধ। ফুটপাতজুড়ে মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। হাফেজ ওভারপাসের কাছে পৌঁছাতেই ভিড় বাড়তে শুরু করে। দল বেঁধে তরুণেরা, অসংখ্য তরুণী, পরিবার, নারী-পুরুষ আর চারদিকে শুধু শিশু, শিশু, আর শিশু। যেন পুরো শহরই ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছে। 

করিম খান সড়ক ও ভ্যালি-এ আসর চত্বরের সংযোগস্থলে এসে দেখি জনতার ঢল এতটাই বেশি যে মানুষের শরীর একে অন্যের সঙ্গে মিশে গেছে। চত্বরের ওপর সেই বিশাল বিলবোর্ডটি দাঁড়িয়ে আছে যেটি সাধারণত কোনো না কোনো সরকারি প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত হয়। আর তার নিচে, যেখানে অন্যান্য দিনেও পুলিশ ও স্পেশাল ফোর্সকে পাহারা দিতে দেখা যায়, আজ রাত সেখানে তাদের কোনো চিহ্ন নেই।

গাড়িগুলোর ভেতরে বসা মানুষদের উত্তেজনা যেন সামলানো যাচ্ছে না; একের পর এক হর্ন বাজছে। পথচারীরা হাঁটছে—নিঃশব্দে, ঘন স্রোতের মতো, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। কেউ কোনো স্লোগান দিচ্ছে না এখনো। 

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পেরিয়ে গেছে। আমি ভ্যালি-এ আসর সড়ক ধরে গাড়ি চালিয়ে এগোই। কোরুশ স্টোরের পুরোনো ভবনের ঠিক সামনে, জারতোশ্ত সড়কের ট্রাফিক সিগন্যালের কাছে, স্পেশাল ফোর্সের অসংখ্য মোটরসাইকেল ফুটপাতে ও পেট্রোল পাম্পের পাশে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের সামনে একদল সাদা পোশাকের লোক অপেক্ষা করছে। দেখতে তারা ভ্যালি-এ আসর সড়কের দোকানের কর্মচারীদের মতো—তরুণ, লম্বা এবং বলিষ্ঠ। কিন্তু তারা সাধারণ মানুষ নয়, কারণ তারা স্পেশাল ফোর্সের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই গল্প করছে।

কালো পোশাক পরা এক লম্বা লোক দল থেকে বেরিয়ে আসে। সে আমার সামনে থাকা প্রাইড গাড়িটির উইন্ডশিল্ডে টোকা মেরে রাগান্বিত কণ্ঠে চিৎকার করে ওঠে,“এগিয়ে যাও! এগিয়ে যাও!”সে একটি ব্যাটন বের করে বলে,“হয় গাড়ি চালাও, না হলে তোমার উইন্ডশিল্ড ভেঙে ফেলব!”এরপর সে আবার স্পেশাল ফোর্সের সারিতে গিয়ে দাঁড়ায়। মোটরসাইকেলের প্রথম সারির ইঞ্জিনগুলো একটানা গর্জন করতে থাকে, তাদের শব্দ চারপাশের বাতাস ভরিয়ে তুলেছে। আমি ভ্যালি-এ আসর সড়ক ধরে উত্তরের দিকে এগোই। ভিড়টি হেঁটে স্কয়ারের দিকে যাচ্ছে। তারা স্লোগান দিচ্ছে। এখনো তারা ফাতেমি সড়কে পৌঁছায়নি বলে তারা স্পেশাল ফোর্সের সদস্যদের দিকে নজর দেয়নি।
“তিন দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর মৃত্যু হোক—মোল্লারা, বামপন্থিরা এবং মুজাহেদিনরা!” 
“স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক!” “স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক!” ফাতেমি সড়কের ট্রাফিক সিগন্যালের কাছে, অন্ধকার ফুটপাতগুলোতে জনতার ভিড় আরও বাড়ছে।
“বাদশাহ দীর্ঘজীবী হোন! বাদশাহ দীর্ঘজীবী হোন! পাহলভি ফিরে আসবেন!”

স্পেশাল ফোর্সের মোটরসাইকেলগুলো উত্তর দিকে চলতে শুরু করে। মনে হয়, এগুলো সেই মোটরসাইকেলগুলোই, যেগুলোকে আমি পেট্রোল পাম্পের সামনে দেখেছিলাম। তারা ফুটপাতের ওপর উঠে যায়। জনতা দৌড়ে রাস্তায় নেমে আসে। গাড়িগুলো হর্ন বাজাতে থাকে। যানজট বাড়তে থাকে। আমি উত্তর দিকে গাড়ি চালিয়ে ভ্যালি-এ আসর সড়ক থেকে তাখ্তে তাভুস সড়কে মোড় নিই। এখানে তেমন কিছু ঘটছে না। মির্জা-য়ে শিরাজি সড়কে স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা অপেক্ষা করছে। আমি বাড়ির দিকে ফিরে যাই।
আমাদের পার্কিং গ্যারেজে ঢুকতেই আমার মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক চলে যায়।

আমি যখন অ্যাপার্টমেন্টের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকি, তখন রাত সাড়ে আটটা। বাচ্চাসহ একজন অতিথি আমাদের এখানে আসার জন্য আগেই চলে গেছেন, এ ছাড়া আর কেউ আসেনি। তখনই বুঝতে পারি, মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেটও বন্ধ। এমনকি এসএমএসও পাঠানো যাচ্ছে না।

আরও পাঁচজন অতিথি এসে পৌঁছালেন। পুরো পাড়া যেন উত্তেজনায় টগবগ করছে। জানালা দিয়ে ‘বাদশাহ দীর্ঘজীবী হোন! বাদশাহ দীর্ঘজীবী হোন!’ স্লোগান শোনা যাচ্ছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বাচ্চারা এমন একটা কাজ করছে যা তারা সাধারণত করে না : তারাও বড়দের সাথে আড্ডা দিতে চলে এসেছে। 

বিদেশে থাকা আমার বোনের পাঠানো শেষ মেসেজটির উত্তর হোয়াটসঅ্যাপে ডেলিভার না হয়ে মাঝপথেই আটকে আছে। সে বলেছিল, আমি বাবা-মায়ের বাড়ি পৌঁছালে যেন তাকে ফোন করি। আমি লিখেছিলাম, “কাল ফোন করব” এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ও জানিয়ে দিয়েছিলাম। 

রাস্তা থেকে একটি পরিচিত কণ্ঠস্বর ভেসে আসে। সে চিৎকার করছে,“স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক, সে রাজা হোক বা মোল্লা।” সামনের ভবনের একটি জানালা থেকে যেন তার জবাব আসে,“তিন দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর মৃত্যু হোক...” আমি জেড(Z)-এর কণ্ঠ চিনতে পারি। সে আবার স্লোগান দেয়,“নারী, জীবন, স্বাধীনতা!” সামনের ভবন থেকে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা ধ্বনি ভেসে আসে,“বাদশাহ দীর্ঘজীবী হোন! বাদশাহ দীর্ঘজীবী হোন!”আমাদের ফ্ল্যাটের বিপরীত পাশের প্রতিবেশী আর(R) বলে,“ভ্যালি-এ আসর চত্বরে তারা গুলি চালাচ্ছিল না, কিন্তু ফেলেস্তিন চত্বরে বাতাসজুড়ে ছররা উড়ছিল। আমার টায়ারে কিছু একটা আটকে গিয়েছিল, কিন্তু তাতে টায়ারটা পাংচার হয়নি। ওটা একটা অদ্ভুত, কাঁটাযুক্ত বল। ওরা হর্ন বাজানো গাড়িগুলোর দিকে এগুলো ছুড়ছিল।” 

সব ধরনের টেলিফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শুধু মোবাইল ফোন নয়, ল্যান্ডলাইনও কাজ করছে না। অন্য অতিথিরা এসে পৌঁছানোর অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই। এস(S), যে আগের বিক্ষোভগুলোর সময় কারাবন্দি হয়েছিলেন, তার সন্তানকে আমাদের কাছে রেখে আর(R)-এর সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে যান। তারা গাড়ি চালিয়ে ঘুরে দেখতে চায়, শহরে কী ঘটছে। তখন প্রায় রাত দশটা। জানালার বাইরে থেকে ভেসে আসা স্লোগানগুলো এখন ক্ষীণ হয়ে এসেছে। আমরা ছাদে উঠে যাই। হাফেজ সড়কের দিক থেকে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করি,“ওরা কি সতর্ক করার জন্য আকাশে গুলি ছুড়ছে?” কেউ একজন জবাব দেয়,“এটা তো একটানা গুলির শব্দ! কীসের সতর্কতামূলক গুলি?” 

টিয়ার গ্যাসের গন্ধে আমাদের গলা ও চোখ জ্বালা করতে থাকে। আমরা আবার অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে ফিরে আসি। কিন্তু ভেতরেও সেই গন্ধ টের পাওয়া যায়। হয়তো আমাদের নিচের রাস্তাতেই টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়েছে; গন্ধটা এতটাই প্রকট। আমি জানালাগুলো বন্ধ করে দিই। ওভেনটাও বন্ধ করি। আমার স্বামী, আমি আর বাচ্চাদের ছাড়া সবাই বাইরে চলে গেছে। তখন রাত সাড়ে এগারোটা। হঠাৎ ডোরবেল বাজে। দুজন অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথি এসে হাজির। এন(N) পানি চায়। আমার স্বামী বলে,“পানি ব্যবহার কোরো না। এতে চোখের জ্বালা আরও বেড়ে যায়।”অতিথিরা চোখের জ্বালা কিছুটা কমানোর আশায় বারান্দায় গিয়ে সিগারেট ধরায়। তারা বলে,“আমরা বুঝতে পারলাম, ভ্যালি-এ আসরের দিকে আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের বাড়ির দিকে যাওয়ার রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা এদিকে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

আমি এন(N)-এর গার্লফ্রেন্ডকে চিনি না। সে একটি কথাও বলছে না। সে ছররা গুলিতে আহত হয়েছে। তার পায়ে আঘাত লেগেছে। সে উদ্বিগ্ন যে বাচ্চারা যদি বুঝতে পারে কী ঘটছে, তাহলে ভয় পেয়ে যাবে। আমরা বাচ্চাদের একটি ঘরে পাঠিয়ে দিই। সে আমাদের শোবার ঘরে আসে এবং প্যান্ট খুলে ফেলে। তার গোড়ালিতে আঘাত লেগেছে; রক্ত ঝরছে। আমি বলি,“এস(S) একজন ডাক্তার। সে শিগ্‌গিরই ফিরে আসবে। কী করতে হবে, সে জানে। চিন্তা করো না।”
এন(N) তার গার্লফ্রেন্ডের পায়ে বাঁধার জন্য একটি ব্যান্ডেজ চায়।

আমি বলি,“তুমি কি নিশ্চিত, ক্ষতের ভেতরে আর কোনো গুলি রয়ে যায়নি? এস(S) আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই কি ভালো হবে না?”
এস(S) এবং আর(R)-এর এখনো কোনো খোঁজ নেই। হয়তো তারা রাস্তায় কোথাও আটকে পড়েছে। বাইরে থেকে গুলির শব্দ ভেসে আসছে। বাচ্চারা ভীষণ ভয় পেয়েছে। আমরা শোবার ঘরের দরজা বন্ধ করে রেখেছি, যাতে তারা আমাদের বিছানায় শুয়ে থাকা আহত তরুণীটিকে দেখতে না পায়।
অবশেষে জানালা দিয়ে দেখি, এস(S) এবং আর(R) গাড়ি পার্ক করছে। আমি দ্রুত দরজার দিকে ছুটে যাই এবং এন(N)-এর গার্লফ্রেন্ডের আহত হওয়ার কথা তাদের জানাই। এস(S) বলে,“ভাগ্য ভালো, গুলিটা তার মাথায় লাগেনি।”

আমি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করি,“ওরা কি মানুষের মাথা লক্ষ্য করেও গুলি করেছে?”
“ওখানে নরক নেমে এসেছে। বোজর্গমেহর, ফেলেস্তিন ও ভেসালের মোড়ে রাস্তাজুড়ে শুধু রক্ত। তারা উন্মাদের মতো গুলি চালাচ্ছিল।”
তারা ওপরে উঠে আসে। কিউ(Q)-ও এসে পৌঁছায়। সে গাড়ি অনেক দূরে পার্ক করে গলিপথ ধরে হেঁটে এখানে এসেছে। এস(S) পরীক্ষা করে বলে, এন(N)-এর বান্ধবীর পায়ের ক্ষত গুরুতর নয়। সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে। এরপর সে যে হাসপাতালে কাজ করে, সেখানে যোগাযোগ করবে যাতে মেয়েটির এক্স-রে করানো যায়। ক্ষতের ভেতরে কোনো গুলি রয়ে গেছে কি না, তা তখন বোঝা যাবে। কারোই রাতের খাবার খেতে ইচ্ছে করছে না। আমি বাচ্চাদের ঘরে কিছু খাবার নিয়ে যাই। তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে ট্যাবলেট। তারা অফলাইন গেম খেলছে।

মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে। বাইরে আর কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে না। অতিথিরা বাড়ি ফিরতে চায়। আর(R) শহরের উত্তরাঞ্চলের দিকে যাচ্ছে। আমরা একে অপরের ল্যান্ডলাইন নম্বর আদান-প্রদান করি। গত কয়েক বছরে আমরা কেউই কাউকে ল্যান্ডলাইনে ফোন করিনি, তাই কারও কাছেই অন্যের নম্বর নেই। এস(S) এবং তার সন্তান রাতটা আমাদের সাথেই থেকে যায়। বাকিরা সবাই চলে যায়। তারা বলে, বাড়ি পৌঁছেই ফোন করবে।

আর(R) বাড়ি পৌঁছেছে। সে জানায়, তাজরিশ চত্বরে সে যা দেখেছে, তা নিছক সহিংসতা নয়—প্রকাশ্য গণহত্যা। শহরের কেন্দ্রস্থলে যা দেখেছিল, তার চেয়েও ভয়াবহ।
জে(J)ও বাড়ি পৌঁছেছে। সে বলে,“আমাদের প্রতিবেশীরা চিৎকার করে কাঁদছে। তাদের ছেলেকে ফেলেস্তিন সড়কে হত্যা করা হয়েছে। ওখানে তার একটি কাচ কাটার দোকান ছিল।”
আমাদের নিজের রাস্তা থেকেও কান্নার শব্দ ভেসে আসছে। আমি আর এস(S) খালি পায়ে দৌড়ে বাইরে গেলাম। পাশের পুরোনো বাড়িটির সামনের উঠানের দরজা হাট করে খোলা। দরজার কাছে মাটিতে বসে আছে দুই তরুণ। তাদের একজনের কপালের পাশটা রক্তাক্ত। আমি তাদের মাকে চিনি; তিনি আমাদের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো ভবঘুরে বিড়ালগুলোকে নিয়মিত খাবার খাওয়ান।

“আমার আর আমার ভাইয়ের সামনেই তারা আমাদের মামাকে হত্যা করেছে। আমরা তার লাশও ফিরিয়ে আনতে পারিনি।” হাজি খানম, তাদের মা, উঠানের মাঝখানে বসে আছেন। মাথায় তার সেই পরিচিত হিজাবটিও নেই। তিনি বুকভাঙা আর্তনাদ করছেন। এস(S) ছেলেটির কপালের ক্ষত পরীক্ষা করার জন্য দরজার কাছে থেমে যায়। অন্য ছেলেটি মায়ের পায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। মা বিলাপ করতে করতে বলে চলেছেন,“আমি জানতাম ওরা হত্যা করবে। আমি জানতাম ওরা হত্যা করবে। তোমরা তাকে ফিরিয়ে আনলে না কেন?... আব্বাস! তুমি কেন তার লাশ ইয়াজিদের বাহিনীর হাতে ছেড়ে দিলে? ৩ আমার ভাইকে ওরা মেরে ফেলেছে, ম্যাডাই… ওরা তাকে মেরে ফেলেছে।”
আমি ছেলেটিকে তার মায়ের গা থেকে আলতো করে সরিয়ে দিই। মহিলাকে দেয়ালের সঙ্গে ঠেস দিয়ে বসাই। তারপর ছেলেটির দিকে ফিরে বলি,“যাও, ওনার জন্য একটু পানি নিয়ে আসো। আমাকে বলো, কী ঘটেছিল? তোমরা কোথায় ছিলে?”

“নেজাম আবাদ। ওরা ডানে-বামে যাকে পাচ্ছিল তাকেই মারছিল। শুধু মাথা আর বুকে লক্ষ্য করে গুলি করছিল। একটি গুলি আমার মামা আব্বাসের কপালের ঠিক মাঝখানে লাগে। আমাদের চোখের সামনেই তিনি মারা যান। তারা সবকিছু দিয়ে আক্রমণ করছিল। সবকিছু দিয়ে। একের পর এক গুলির ঝাঁক। ছুরি। সব রকমের অস্ত্র।”

হাজি খানম বিলাপ করতে থাকেন। আমরা তাকে ধরে তাদের বাড়ির ভেতরে নিয়ে যাই। তার স্বামী হাতে টেলিফোনের রিসিভার ধরে আছেন। তার কাঁধ কাঁপছে। তিনি তার বড় শ্যালকের ফোন নম্বর খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ল্যান্ডলাইন সংযোগ আবারও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমি হাজি খানমকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করি। বলি, হয়তো তার ভাই এখনো বেঁচে আছেন। তিনি বলেন,“আমরা আজ রাতেই তাকে খুঁজে বের করব। জাভাদ আল-আয়েম্মেহ মসজিদের বাসিজ বাহিনীতে একজন লোক আছে, যে আব্বাসের খদ্দের ছিল। আমি আজ রাতেই তাকে ফোন করব... আমরা তাকে খুঁজে বের করব। হয়তো তারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে।”

ছেলেদের একজন তার বাবাকে উদ্দেশ করে বলে,“বাবা, আপনি কি বুঝতে পারছেন? মামা আব্বাস মারা গেছেন। যে লোকটা গুলি চালাচ্ছিল, সে বারবার বলছিল যে আজ রাত শুধু উৎসবের প্রস্তুতি পর্ব। আসল উৎসব হবে কাল। তখন তারা ভারী মেশিনগান দিয়ে গুলি চালাবে।”

এস(S) আমাদের বাসা থেকে আহত ছেলেটির জন্য কিছু বেটাডিন নিয়ে আসে। হাজ খানমকে শান্ত করার জন্য সে কিছু ক্লোরডায়াজেপক্সাইডও দেয়। ছেলেরা বাড়ির ভেতরে চলে যায়। আমরা গেট বন্ধ করে নিজেদের বিল্ডিংয়ে ফিরে আসি। আধা ঘণ্টাও পেরোয় না, এর মধ্যেই আমাদের রাস্তায় একের পর এক গাড়ি এসে থামে। কালো বোরকা পরা মহিলারা দৌড়ে প্রতিবেশীর বাড়ির দিকে ছুটে যায়। চারদিকে কান্না আর বিলাপের শব্দ। এক যুবতী আর্তনাদ করে ওঠে,“আব্বাস! আব্বাস! আমার আব্বাস!”
বাচ্চারা এখন ঘুমিয়ে পড়েছে। ফোনের লাইন এখনও বন্ধ। 
এস(S) বলে,“ছেলেটার কপাল ছররায় ভরে গেছে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।”
আমি সারারাত এক মুহূর্তও ঘুমাতে পারি না।

৯ জানুয়ারি ২০২৬

এস(S) তার বাড়িতে ফিরে যায়। আমি গাড়িতে উঠে আমার বাবা-মায়ের খোঁজ নিতে যাই। ভ্যালি-এ আসরের মোড়টা উপড়ে ফেলা বিআরটি বাসের বেড়া দিয়ে ভর্তি এবং চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এখনও কয়েকটি পোড়া মোটরসাইকেল আর একটা পুলিশের ভ্যান পড়ে আছে। আমার মা শোকে মুহ্যমান। তিনি আমাকে চা ঢেলে দেন। আমার মামাও সেখানে আছেন। তিনি বলেন, গত রাতে ইমাম হোসাইনের হাসপাতালটা কারবালার মতো লাগছিল। ৪ “ আমি ঠিক বর্ণনাও করতে পারছি না। একশ থেকে দুশো লোক। আমি নিশ্চিত নই। বু-আলি আর আল-গাদির হাসপাতালের অবস্থাও একই ছিল। শহরের পূর্ব দিকে ওরা শুধু হত্যাই করেছে। ওরা মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে। সবাই গুরুতর আহত ছিল; সবার শরীর রক্তাক্ত ছিল।”

আমার মা খুশি যে তার মেয়েদের মধ্যে অন্তত একজন ইরানে নেই; দুশ্চিন্তার একটা বিষয় কমে গেল। তিনি শুনেছেন যে তার বোনের সব ছেলেরা গত রাতে রাস্তায় ছিল। লাঠির আঘাতে তাদের একজনের কাঁধ ভেঙে গেছে। আমার ফুফুর জামাইয়ের এক চোখে ছররা গুলি লেগেছে। মা বলেন, “তোমার কি মনে আছে যে সে আহমাদিনেজাদকে ভোট দিয়েছিল? ৫ সেও গত রাতে রাস্তায় নেমেছিল। গত রাতে সবাই রাস্তায় ছিল।”

আমার মায়ের কাছে নেজাম আবাদ এলাকা, নাসিমশহরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে শোনা অনেক প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিবরণ আছে। তিনি বলেন,“শহরের দক্ষিণ দিকের খবর জানতে হলে আমার কাছেই আসবে। ভানাক স্কয়ারের আশেপাশে ওরা তেমন কাউকে মারে না। ৬ ওরা তাদের গুলিগুলো জমিয়ে রাখে গরিব ছেলেমেয়েদের জন্য—যাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই।”

আমি বলি,“গত রাতে আর(R) তাজরিশ চত্বরে তোমার কথার ঠিক উল্টো দৃশ্য দেখেছে।”
আমার বাবা বলেন, “এটা আসলে ধনী-গরিবের বিষয় না। মি. বি(B) বলেছেন, সা’আদাত আবাদ স্কয়ারে-ও তারা গণহারে গুলি চালিয়েছে।৭” 
আমার মা বলেছেন যে গত রাতে নেজাম আবাদের সৈয়দ আল-শোহাদা মসজিদের সামনে লোকজনের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। তার পরিবারের এক সদস্য, যিনি একজন নার্স, আলি আবাদের সেলিম ইমার্জেন্সি কেয়ারে অন্তত চৌদ্দটি মৃতদেহ দেখেছেন। নাজি আবাদে যাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল, তাদের ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই আত্মীয় জানান, ক্লিনিকের কর্মীরা রক্তের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন; তিনি আরও বলেন, একজন লোক সেখানে এসেছিলেন, যার হাতে ছিল রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা কয়েকটি বিচ্ছিন্ন আঙুল। তিনি সঙ্গে করে এমন কিছু আহত বিক্ষোভকারীকে নিয়ে এসেছিলেন, যাদের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা করা হয়েছিল। 

আমার মা শুনেছেন বলা হয়, ২০২২ সালের সিয়াভাশ মাহমুদির ওপর চালানো গুলির ঘটনার পর থেকেই তরুণ প্রতিবাদকারীদের মধ্যে রাগ ও ক্ষোভ জমে ছিল। ৮ বাসিজ বাহিনী তাদের ওপর গুলি চালিয়েছিল, আর তরুণ বিক্ষোভকারীরা পাল্টা প্রতিরোধ করে দুজন বাসিজ সদস্যকে হত্যা করেছিল। আমার মা বলেন,“মানুষের আর হারানোর কিছু নেই যে তারা ভয় পাবে। ওখানে তারা বাসিজের নেতাকেই মেরে ফেলেছে।” 

আমার বাবা বলেন, “পাহলভীর উচিত তার প্রকাশ্য প্রতিবাদের ডাকের পরিণতির দায়ভার সামনে এসে নেওয়া। গণহত্যা। নিছক সহিংসতা।” আমি আশা করছিলাম যে সঙ্গে সঙ্গেই ওদের দুজনের মধ্যে মারামারি শুরু হয়ে যাবে। আমার মা টেবিলে চায়ের গ্লাসটা সজোরে নামিয়ে রেখে আমার দিকে ঘুরে বলেন, “আশেপাশের মোড়ে কি ভোটকেন্দ্র ছিল? মানুষের মাথা কি খারাপ হয়ে গিয়েছে যে তারা রাস্তায় নেমেছে? ওকে গিয়ে সেইসব মানুষদের বলতে বলো যারা আর সহ্য করতে পারছে না, তাদের বোঝাতে বলো যেন তারা পাহলভীর কথা না শোনে।” 

তাদের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো আর কাজ করছে না। মা জোর দিয়ে বলেন যেন আমি সূর্যাস্তের আগেই বাড়ি ফিরে যাই, যাতে বসে বসে বাবা আর তার ঝগড়া না দেখি। আমি রওনা দিই। ভ্যালি-এ আসর সড়কের পুরোটা জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি মোড়ে বড় বড় কালো সাঁজোয়া যান সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে।

আমি বাড়ি পৌঁছাই। হাজি খানমের দরজায় বেল বাজাই। কোনো সাড়া নেই। তাদের বাড়ির বাইরের দেয়ালে শোকের প্রচলিত চিহ্ন হিসেবে কোনো কালো কাপড় বা অন্য কিছু ঝোলানো নেই। আমি উপরে যাই। আমি আর(R)-কে ফোন করি। সে ইসফাহানের নাহাভান্দ থেকে খবর পেয়েছে। সে বলছে একটা গণহত্যা ঘটেছে। সে বলছে আজ রাতে সে তার গাড়িতে করে ভানাক স্ট্রিটের দিকে রাস্তায় বের হবে। সে আমাকে সব জানাবে বলে কথা দিয়েছে। আমিও বের হতে চাই, কিন্তু আমি জানি আমার পরিবার এই ধারণাটা ভালোভাবে নেবে না। আমি এল(L)-কে ফোন করি, যে গত রাতে আসেনি। সে বলে, “সাদেগিয়েহ এলাকাটা গত রাতে একটা প্রলয়ংকরী অবস্থায় ছিল। যেন একটা যুদ্ধক্ষেত্র।” সে বলে, কী হচ্ছে তা দেখতে সেও আজ রাতে বের হবে। মধ্যরাত পর্যন্ত আমি কারও কাছ থেকে আর কোনো খবর পাই না।