তরুণদের মধ্যে ‘বুকসম্যাক্সিং’ ও ‘বুককেশন’ প্রবণতা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে বইপড়ুয়া হিসেবে জাহির করা এখন ট্রেন্ডি ও ফ্যাশনেবল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডেটিং অ্যাপ টিন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের প্রোফাইলে বইয়ের ছবি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নারীদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা আরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, “পড়াশোনা এখন নতুন করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।”
শুধু টিন্ডার নয়, বই-সংক্রান্ত কনটেন্টের বিশাল জগৎ তৈরি হয়েছে টিকটকে। ‘বুকটক’ নামে পরিচিত এই কমিউনিটিতে পাঠকেরা বইয়ের রিভিউ, আলোচনা ও সুপারিশ পরস্পরের মধ্যে শেয়ার করছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে বই ক্লাবের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বুক-ক্লাবভিত্তিক আয়োজন আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।
এই প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তারকারাও। বিশ্বখ্যাত পপ তারকা ডুয়া লিপা নিজস্ব বই ক্লাব পরিচালনা করেন। এমনকি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিনেতা ক্যালাম টার্নারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সূচনাও হয়েছিল দুজনের একই বই পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে।
বইপ্রীতির এই নতুন সংস্কৃতি শুধু পাঠেই সীমাবদ্ধ নয়। জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘রিডিং রিট্রিট’ বা বই পড়াকেন্দ্রিক অবকাশযাপন। অনেকে আবার প্রিয় উপন্যাসের পটভূমিতে ভ্রমণ করছেন। এই প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ‘বুককেশন’—অর্থাৎ বইকে কেন্দ্র করে ছুটি কাটানো। বিভিন্ন দেশে সাহিত্য উৎসব, রিসোর্টভিত্তিক বুকক্লাব ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরিযুক্ত হোটেলও ক্রমে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
তবে সমালোচকদের প্রশ্নও আছে। তাদের মতে, বই পড়ার এই উচ্ছ্বাসের বড় অংশই হয়তো সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের একটি উপায়। কারণ একই সময়ে পরিসংখ্যান বলছে, অবসরে বই পড়ার অভ্যাস সামগ্রিকভাবে কমছে। যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই দশকে আনন্দের জন্য বই পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ফলে ‘বুকসম্যাক্সিং’, ‘বুককেশন’ কিংবা ‘রিডিং রিট্রিট’-কে কেউ দেখছেন পাঠাভ্যাসের ইতিবাচক পুনর্জাগরণ হিসেবে, আবার কেউ মনে করছেন তা মূলত সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে বুদ্ধিদীপ্ত ও সংস্কৃতিমনস্ক হিসেবে তুলে ধরার একটি প্রবণতা।
ডিজিটাল বিভ্রান্তির এই যুগে বই আবার আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে এসেছে। মানুষ সত্যিই বই পড়ুক কিংবা শুধু বই হাতে ছবি তুলুক, বইকে ঘিরে নতুন এই আগ্রহ বই সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক খবর।
মূল: দ্য গার্ডিয়ান









