১৯৪৬ সালের মে মাসে ব্রিটিশ দর্শন ও নন্দনতাত্ত্বিক সাময়িকী ‘পোলেমিক’-এর ৩য় সংখ্যায় প্রকাশিত হয় জর্জ অরওয়েলের প্রবন্ধ “জেমস বার্নহ্যাম অ্যান্ড দ্য ম্যানেজারিয়াল রেভোলিউশন”। পরবর্তীকালে প্রবন্ধটি ১৯৪৬ সালে সোশ্যালিস্ট বুক সেন্টার কর্তৃক “সেকেন্ড থটস অন জেমস বার্নহ্যাম” শিরোনামে পুস্তিকা বা প্যামফ্লেট আকারে ছাপা হয়। এই প্রবন্ধে মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেমস বার্নহামের লেখা বিভিন্ন রচনা নিয়ে আলোচনা করেন জর্জ অরওয়েল। প্রবন্ধটি মূলত জেমস বার্নহ্যামের ১৯৪১ সালের ‘দ্য ম্যানেজারিয়াল রেভোলিউশন’ গ্রন্থের একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ। বার্নহ্যাম যুক্তি দিয়েছিলেন, পুঁজিবাদের পতন ঘটছে, কিন্তু সমাজতন্ত্র তার স্থান নেবে না। পরিবর্তে, তিনি তত্ত্ব দিয়েছিলেন, সমাজ একটি গোষ্ঠীশাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা ‘ব্যবস্থাপকদের’ দ্বারা শাসিত হবে—এই ব্যবস্থাপকরা হলেন ব্যবসায়িক নির্বাহী, প্রযুক্তিবিদ এবং আমলা, এরাই উৎপাদনের মাধ্যমসমূহকে নিয়ন্ত্রণ করেন।
প্রবন্ধে অরওয়েল বার্নহ্যামের ক্ষমতা-পূজার প্রবণতার সমালোচনা করেন। জেমস বার্নহ্যামের মতে, বর্তমানে যে পক্ষই জিতছে (যেমন নাৎসি জার্মানি বা সোভিয়েত ইউনিয়ন) তারাই অনিবার্যভাবে চিরকাল শাসন করবে। অরওয়েল এই মার্কিন তাত্ত্বিককে অভিযুক্ত করেন, তিনি এমন ধারণা পোষণ করার ফলে নিজ রাজনৈতিক বিচারবুদ্ধির অন্ধত্বকে প্রকাশ করেছেন। অরওয়েল বার্নহ্যামের এই বিশ্বাসের বিরোধিতা করে বলেন, ইতিহাস কেবলই একগুচ্ছ নির্মম প্রতারণা, যেখানে জনসাধারণকে সর্বদা নতুন প্রভুরা চালিত করে ও দাসত্বে আবদ্ধ করে।
সমালোচনা সত্ত্বেও অরওয়েল বার্নহ্যামের মূল তত্ত্বের সাথে একমত ছিলেন, বিশ্ব একটি গোষ্ঠীশাসনিক সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যার বৈশিষ্ট্য হলো অর্থনৈতিক ও শিল্প ক্ষমতার ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীকরণ। অরওয়েলের জীবনীকার এবং সমালোচকরা—যেমন ক্রিস্টোফার হিচেন্স এবং মাইকেল শেলডেন উল্লেখ করেন, এই প্রবন্ধটি অরওয়েলের ডিস্টোপিয়ান সাহিত্যের বিকাশে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিল। তার শ্রেষ্ঠ রচনা ‘নাইনটিন এইটি-ফোর’ উপন্যাসে অরওয়েল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট হিসেবে বার্নহ্যামের প্রযুক্তি-শাসিত ক্ষমতার তত্ত্ব এবং বিশ্বকে বিশাল, অজেয় পরাশক্তিতে বিভক্ত করার ধারণাকে ব্যবহার করেন।
প্রবন্ধটিতে অরওয়েল স্বীকার করেন সাধারণ প্রবণতা “প্রায় নিশ্চিতভাবেই গোষ্ঠীশাসন” এবং “শিল্প ও আর্থিক ক্ষমতার ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীকরণ”-এর দিকে গেছে। কিন্তু তিনি বার্নহ্যামের “ক্ষমতা-পূজা”র প্রবণতার সমালোচনা করেন এবং তা থেকে উদ্ভূত বিশ্লেষণের ব্যর্থতাগুলো সম্পর্কে মন্তব্য করেন। অরওয়েলের জীবনীকার মাইকেল শেল্ডেন বলেন: “অরওয়েল যখন আক্রমণাত্মক সমালোচনা লিখতেন, তখনই তিনি সেরাটাই দিতেন। বার্নহ্যামকে নিয়ে লেখা তার বিতর্কিত প্রবন্ধটি ক্ষমতা-পূজার সমগ্র ধারণাটির একটি অসাধারণ সমালোচনা।”
প্রাক্তন ট্রটস্কিপন্থী এবং দর্শনশাস্ত্রের অধ্যাপক জেমস বার্নহ্যাম (১৯০৫-১৯৮৭) দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদকে প্রত্যাখ্যান করে ১৯৪০ সালে যৌক্তিক অভিজ্ঞতাবাদকে গ্রহণ করেন। ১৯৪১ সালে তিনি “দ্য ম্যানেজারিয়াল রেভোলিউশন” প্রকাশ করেন। এই গ্রন্থে বার্নহ্যাম দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে পুঁজিবাদের বিকাশের উপর তার পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে, পুঁজিবাদের পরিবর্তে উদীয়মান নতুন সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে তত্ত্ব প্রদান করেন। তিনি নাৎসি জার্মানি, স্তালিনবাদী রাশিয়া এবং ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ও তাঁর “নিউ ডিল”-এর অধীনে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে অনেক মিল খুঁজে পান। বার্নহ্যাম উপলব্ধি করেন, একটি নতুন সমাজের উদ্ভব ঘটেছে যেখানে “ব্যবস্থাপক” নামক একটি শাসক শ্রেণি সমস্ত ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছে। ১৯৪৩ সালে “দ্য ম্যাকিয়াভেলিয়ানস” নামক একটি বইয়ে বার্নহ্যাম তার তত্ত্বকে আরও বিকশিত করেন এবং যুক্তি দেন, এই উদীয়মান নতুন অভিজাত শ্রেণিকে কিছু গণতান্ত্রিক অনুষঙ্গ—যেমন রাজনৈতিক বিরোধিতা, একটি স্বাধীন গণমাধ্যম এবং নিয়ন্ত্রিত “অভিজাতদের আবর্তন” প্রভৃতি ধরে রাখতে হবে।
অরওয়েলের প্রবন্ধটি ১৯৪৬ সালের মে মাসের “পোলেমিক” সাময়িকীর তৃতীয় সংখ্যায় “সেকেন্ড থটস অন জেমস বার্নহ্যাম” শিরোনামে এবং বিভিন্ন প্রবন্ধ-সংকলনে প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধটি ১৯৪৬ সালের গ্রীষ্মকালে সোশ্যালিস্ট বুক সেন্টার কর্তৃক মুদ্রিত একটি পুস্তিকায় ‘জেমস বার্নহ্যাম অ্যান্ড দ্য ম্যানেজারিয়াল রেভোলিউশন’ শিরোনামে এবং শিকাগোর ‘ইউনিভার্সিটি অবজারভার’ সাময়িকীর ১৯৪৭ সালের গ্রীষ্মকালীন সংখ্যায় “জেমস বার্নহ্যাম” শিরোনামেও প্রকাশিত হয়। অরওয়েল ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত আরও একটি প্রবন্ধে বার্নহ্যামের গ্রন্থটি নিয়ে পুনরায় আলোচনা করেন: “বার্নহ্যাম'স ভিউ অব দ্য কনটেম্পোরারি ওয়ার্ল্ড স্ট্রাগল”।
এই ধারণাটির পূর্বাভাস অনেক বিখ্যাত রচনাতেই বর্ণিত হয়েছে। ফরাসি-ইংরেজ লেখক এবং ইতিহাসবিদ হিলারি বেলোকের “দ্য সার্ভাইল স্টেট” গ্রন্থের কথা বলা যেতে পারে। “দ্য সার্ভাইল স্টেট” গ্রন্থটি ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের আগে লেখা হয়। ১৯১২ সালে হিলারি বেলোকের লেখা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গ্রন্থ “দ্য সার্ভাইল স্টেট” মূলত পুঁজিবাদের ইতিহাস, পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র উভয়ের সমালোচনা এবং এমন সব ঘটনাপ্রবাহের তিরস্কার হিসেবে কাজ করে যা বেলোকের মতে এক ধরনের সর্বগ্রাসী শাসন নিয়ে আসবে, যাকে তিনি “দাস রাষ্ট্র” বলে অভিহিত করেছেন। “দাস রাষ্ট্র” হলো এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে সর্বহারা শ্রেণি– যাদেরকে উৎপাদনের উপকরণ থেকে বঞ্চিত নাগরিক সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়– নির্দিষ্ট আইনের মাধ্যমে সেই একই উপকরণের অধিকারীদের জন্য কাজ করতে বাধ্য থাকে। বেলোক বিশ্বাস করতেন, পুঁজিবাদ মৌলিকভাবে অস্থিতিশীল এবং তাই এটি একটি অস্থায়ী অবস্থা হিসেবে কাজ করে। তিনি পুঁজিবাদকে মধ্যযুগে উদ্ভূত সম্পত্তি ও সামাজিক রীতিনীতির স্বাভাবিক বিকাশের একটি ব্যাঘাত হিসেবে দেখতেন।
এর অনেক আগে ১৮৯৯ সালে ইংরেজ কথাসাহিত্যিক এইচ. জি. ওয়েলস রচিত ডিস্টোপিয়ান কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস “দ্য স্লিপার অ্যাওয়েকস” গ্রন্থেও এই ধারণাটির পূর্বাভাস ছিল। উপন্যাসের কাহিনী এগিয়ে যায় এমন একজন ব্যক্তিকে নিয়ে যিনি ২০৩ বছর ঘুমিয়ে থাকার পর একবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে দ্বাবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের সম্পূর্ণ পরিবর্তিত লন্ডন শহরে জেগে ওঠেন। জেগে উঠে তিনি দেখতে পান, তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। প্রধান চরিত্র জেগে উঠে তার স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়িত হতে দেখার পরই তার সামনে ভবিষ্যৎ তার সমস্ত ভয়াবহতা ও বিকৃতিসহ উন্মোচিত হয়।
এছাড়াও ১৯২০ সালে রুশ কল্পবিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য সমালোচনা এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গরচনার লেখক ইয়েভজেনি জামিয়াতিনের রচিত ক্লাসিক ডিস্টোপিয়ান সায়েন্স ফিকশন “উই” উপন্যাসে ভবিষ্যতের এমন এক সর্বগ্রাসী রাষ্ট্র “ওয়ান স্টেট”-এর গল্প বলা হয় যেখানে যুক্তি, গণিত এবং নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের নামে মানুষের সব ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, আবেগ ও স্বাতন্ত্র্য কেড়ে নেওয়া সমাজে কোনো মানুষের কোনো নাম নেই, তাদের কেবলমাত্র নির্দিষ্ট একটি “নম্বর” দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
আবার ১৯৩১ সালে রচিত এবং ১৯৩২ সালে প্রকাশিত অ্যালডাস হাক্সলির লেখা ডিস্টোপিয়ান “ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড” উপন্যাসে প্রযুক্তি-চালিত এক “ওয়ার্ল্ড স্টেট”-এর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানকার নাগরিকদের জিনগতভাবে তৈরি করা হয়, জন্ম থেকেই তাদের শর্তাধীন করা হয় এবং মাদকের মাধ্যমে নির্বোধ আনুগত্যে বাধ্য করা হয়। গল্পটি ভিন্নমতাবলম্বী ও এক বহিরাগতকে অনুসরণ করে। সে এই স্বৈরাচারী, আবেগহীন সমাজের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই উপন্যাসের পটভূমি মূলত একটি ভবিষ্যৎ বিশ্ব রাষ্ট্রে শুরু হয়। সেই রাষ্ট্রের নাগরিকদের পরিবেশগতভাবে বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসে তৈরি করা হয়েছে। উপন্যাসটি প্রজনন প্রযুক্তি, নিদ্রা-শিক্ষা, মনস্তাত্ত্বিক হেরফের এবং ক্লাসিক্যাল কন্ডিশনিং-এর মতো বিশাল বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির পূর্বাভাস দেয়, যা একত্রিত হয়ে একটি ডিস্টোপিয়ান সমাজ তৈরি করে। গল্পের নায়ক সেই সমাজকে চ্যালেঞ্জ জানায়। পরিশেষে এই প্রশ্নটি তোলে, কৃত্রিমভাবে তৈরি সুখের জন্য আমাদের মানবতাকে বিসর্জন দেওয়াটা আদৌ যুক্তিযুক্ত কি না। এই উপন্যাসটি প্রায়শই জর্জ অরওয়েলের “নাইনটিন এইটি-ফোর” উপন্যাসের একটি পরিপূরক বা বিপরীত প্রতিরূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অরওয়েল মনে করেন, ভবিষ্যতের ঘটনাবলির গতিপথ নির্ধারণের চেষ্টার ক্ষেত্রে বার্নহ্যাম অন্যান্য অধিকাংশ চিন্তাবিদ থেকে ভিন্ন এবং ঘটনার পরবর্তী পর্যালোচনার আলোকে তিনি ১৯৪০ ও ১৯৪১ সালে বার্নহ্যামের করা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো চিহ্নিত করেন, যেগুলো ছিল:
জার্মানির যুদ্ধ জয় অবশ্যম্ভাবী।
জার্মানি ও জাপান বৃহৎ রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকা এবং নিজ নিজ অঞ্চলে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকা অবশ্যম্ভাবী।
ব্রিটেনের পরাজয়ের আগে জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়নকে আক্রমণ করবে না।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।
এরপর অরওয়েল বার্নহ্যামের “লেনিনের উত্তরাধিকারী” শিরোনামের একটি প্রবন্ধ উদ্ধৃত করেন। প্রবন্ধটিতে লেনিন ও স্তালিনের নীতির মধ্যে একটি ধারাবাহিকতার কথা বলা হয়েছে এবং “এক মহান ব্যক্তি” হিসেবে স্টালিনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে বলে মনে হয়। এখানেও বার্নহ্যাম ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করেন। অরওয়েল এই ধরনের ভুলের কারণ হিসেবে এই প্রত্যাশাকে চিহ্নিত করেছেন, ঘটনাপ্রবাহ ঠিক সেই পথেই চলবে যে পথে সেগুলোকে চলতে দেখা যাচ্ছে। অরওয়েলের যুক্তি হলো, এটি ক্ষমতার পূজা এবং কিছুটা ইচ্ছাপূরণের চিন্তারই ফল। অরওয়েল আরও উল্লেখ করেন, বার্নহ্যাম কমিউনিজম ও ফ্যাসিবাদ উভয়কেই গ্রহণ করার এবং সেগুলোকে প্রায় একই জিনিস হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার সাধারণ আমেরিকান অবস্থানটিই গ্রহণ করেছেন। অপরদিকে ইংরেজরা যদি বিশ্বাস করে, এ দুটি একই জিনিস তবে সেগুলোকে ভয়ংকর অশুভ শক্তি হিসেবে দেখে। আর যদি তা না হয়, তবে তারা পক্ষ নিয়ে নেয়।
রাজনীতি মূলত সকল যুগেই একই।
রাজনৈতিক আচরণ অন্যান্য ধরনের আচরণ থেকে ভিন্ন।
অরওয়েল এই ধারণাগুলো খণ্ডন করেন এবং উল্লেখ করেন, ঠিক যেমন নাৎসিবাদ নিজেই নিজেকে চূর্ণবিচূর্ণ করেছে, তেমনি রুশ শাসনব্যবস্থাও নিজেই নিজেকে ধ্বংস করবে। "বার্নহ্যাম যে বিশাল, অপরাজেয়, চিরস্থায়ী দাস সাম্রাজ্যের স্বপ্ন দেখেন বলে মনে হয়, তা কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না, অথবা প্রতিষ্ঠিত হলেও টিকে থাকবে না।”
অরওয়েল-গবেষক ক্রিস্টোফার হিচেন্সের মতে, “অরওয়েল সেই অল্প কয়েকজন ভাষ্যকারের মধ্যে একজন ছিলেন যিনি বার্নহ্যামের প্রচারের অশুভ প্রভাব উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন এবং সেগুলোকে এমন এক সমালোচনার আওতায় নিয়ে এসেছিলেন যা স্বয়ং বার্নহ্যামকেও অত্যন্ত বিরক্ত করে তুলেছিল।” অরওয়েল-গবেষক মাইকেল শেল্ডেন অরওয়েলের “নাইনটিন এইটি-ফোর” উপন্যাসের ওপর বার্নহ্যামের রচনা এবং অরওয়েলের বিশ্লেষণের প্রভাব দেখতে পেয়েছেন।