চিত্রশিল্পী সুশান্ত কুমার অধিকারীর সাক্ষাৎকার

সুশান্ত কুমার অধিকারীর জন্ম ১৯৭২ সালের ২৩ জানুয়ারি, নড়াইলে। প্রাচ্য চিত্রকলার কাঠামো ও উপাদানকে আশ্রয় করে তিনি মিথ, স্মৃতি ও সমষ্টিগত চেতনাকে সমকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সংলগ্ন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএফএ এবং বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতন থেকে এমএফএ ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগে অধ্যাপনা করছেন।

তার শিল্পকর্ম বাংলাদেশ, ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগাল ও জাপানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়েছে। তার একক প্রদর্শনীর মধ্যে MINDSCAPE (কলাকেন্দ্র, ঢাকা),  Banalata (বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, ঢাকা) এবং আন্তর্জাতিক অনলাইন একক প্রদর্শনী উল্লেখযোগ্য। তিনি ১৯তম এশীয় শিল্প বিয়েনালে বাংলাদেশ (২০২২)-এর গ্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে ২০২৪ সালে তাঁর রচিত ‘বাংলার আধুনিক চিত্রকলায় মিথ : অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে রশীদ চৌধুরী’ গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

প্রশ্ন: আপনার শিল্পীজীবনের শুরু সম্পর্কে জানতে চাই। ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ কখন থেকে?
উত্তর:
শুরুটা বলা মুশকিল, শৈশব-কৈশোরে বাবা, বড়োভাই, বোন সবার গান-বাজনা-ছবি আঁকা দেখেছি, শিখেছি এবং বলা যায়, একটা সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গে বেড়ে ওঠাই শিল্পী হওয়ার পেছনে বড়ো ভূমিকা রেখেছে। হয়ত শিল্পবোধ বা ভাবনা-চিন্তা তখনই মনের গভীরে সূচিত হয়েছে।

প্রশ্ন: আপনার শৈল্পিক যাত্রায় কোনো শিল্পী বা ঐতিহ্যিক কিছু ভূমিকা রেখেছে?

উত্তর: এই প্রশ্নের উত্তর দীর্ঘ। সংক্ষেপে বললে, এই রকম নিশ্চয়ই রয়েছে। চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান বাঁশি বাজাতেন, আমাদের বাবা সুরেন্দ্রনাথ অধিকারী মৃদঙ্গ, দোতারা প্রভৃতি লোকবাদ্য ও গান করতেন। বাবার ইচ্ছে ছিল, আমরা সংগীত ও বাদ্যচর্চায় নাম-খ্যাতি অর্জন করি, কিন্তু এস এস সুলতান আমার বড়োভাই বলদেব অধিকারীকে ছবি আঁকায় উদ্বুদ্ধ করেন। ফলে বাড়িতে গান-বাজনার সঙ্গে চিত্রচর্চা করার এই মাধ্যমটিও যুক্ত হয়ে যায়। এস এম সুলতান বাবার বন্ধু স্থানীয় হওয়ায় আমরা ভাইবোনেরা তাঁকে কাকু বলে সম্বোধন করতাম। বড়োভাই তাঁর কাছে ছবি আঁকা শিখতেন। সেসব দেখে আমরাও উদ্বুদ্ধ হতাম, আঁকতাম, বড়োভাইও দেখিয়ে দিতেন। কাকু বাড়িতে এলে বাবা কখনো আমার আঁকাগুলো দেখাতে কাছে ডাকতেন। এভাবে গ্রাম্য পরিবেশে আমাদের পরিবারের নন্দনচর্চা চলতে থাকে। পরবর্তীসময়ে বড়োদাকে বাবা খুলনা মহেশ্বরপাশায় অবস্থিত শশিভূষণ আর্ট কলেজে ভর্তির জন্য নিয়ে যান। আর্ট কলেজের ছবি আঁকা, থাকা ইত্যাদি খরচের হিসেব জেনে বড়োদার ইচ্ছে পূরণে বাবা অসমর্থ হন। বড়োদা স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পেয়ে আমাকে আর্ট কলেজে ভর্তির চিন্তা করেন এবং সেইমতো উৎসাহ ও চর্চার সুযোগ দেন। এইসব মিলিয়ে শৈশব-কৈশোরের প্রভাব ও আবহ আমার মধ্যে এখনো কাজ করে চলেছে।

প্রশ্ন: তাহলে বলা যেতে পারে, পুরো পরিবারের ছবি আঁকার পেছনে এস এম সুলতানের প্রভাব আছে। আপনার শিল্পভাবনায় এস এম সুলতানের কোন দিকটি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে বলে মনে করেন?

উত্তর:
বিষয়টি চিহ্নিত করা বা ভেবে দেখা হয়নি কখনো। শিল্পী ও শিল্প-ভাবময় যে জগৎ, সেই জগতে প্রবেশের স্বপ্ন ও তার মধ্যে সাঁতার কাটতে কাটতে অজান্তেই তিনি উৎসাহ জুগিয়েছেন অথবা প্রভাবিত করেছেন।  

.
প্রশ্ন: আপনার কাজের মধ্যে প্রাচ্যরীতির প্রভাব সুস্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। প্রাচ্যরীতির প্রতি আগ্রহ কখন জন্মে?

উত্তর:
শোনো, আমি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য রীতি ভেবে ছবি আঁকি এমন নয়। আমি আমাকে অর্থাৎ আমার ভেতরে যা অনুভব করি, যেভাবে অনুভব করি তাই প্রতিফলিত হয় আমার কাজে। আর হবে না কেন? সংস্কৃতির যে জল-হাওয়ায় আমার শিল্পচর্চার পথ পরিক্রমা, তা তো প্রাচ্যভাবনায় বিশ্বসংস্কৃতি চিন্তাযুক্ত স্বাভাবিকভাবে হয়ে যাওয়া। যেমন, সুলতান কী আদর্শ ছবিতে এঁকেছেন? আমি তাঁর ছবি দেখে বেড়ে উঠেছি। খুলনা আর্ট কলেজে পড়াকালে সরাসরি দেশের মানুষ ও পরিপার্শ্ব চর্চা করেছি। ঢাকা চারুকলায় প্রাচ্যকলা বিভাগে অবনীন্দ্রনাথের বেঙ্গল স্কুল শৈলীর চর্চা করেছি। বিশ্বভারতী-শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্র-দর্শনের ভাবনা আর নন্দলালের পরিবর্তিত ধারায় শিক্ষা গ্রহণ করেছি। তাই প্রাচ্যরীতির আগ্রহ কবে থেকে জন্ম নিয়েছে এই উত্তরে বলতে পারি, প্রাচ্য শৈলী সেই শৈশব-কৈশোরেই জন্ম নিয়েছে। যেদিন সুলতানের বাঁশি আর আমাদের বাবার মৃদঙ্গধ্বনি আমার কর্ণকুহরে প্রবেশ করে শিল্পবোধ ও চিন্তার বীজ সেদিন গঠিত হয়েছিল।

প্রশ্ন: আপনি যেমনটা বললেন, কোনো রীতি ভেবে ছবি আঁকেন না—এই স্বভাবজাত ধারণাটি কি আপনার কাছে এক ধরনের আদর্শিক অবস্থান?

উত্তর:
ভেবে দেখিনি। হতে পারে।

প্রশ্ন: আপনি শান্তিনিকেতনে পড়তে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। শান্তিনিকেতন ও চারুকলার মধ্যে আপনার শিল্পভাবনায় কী ধরনের পার্থক্য ও সমন্বয় ঘটেছে?

উত্তর: নিশ্চয়ই। শান্তিনিকেতন তো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম নয়, ওটা স্থানের নাম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম হলো ‘বিশ্বভারতী’, সঙ্গে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটি নেই। গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আদর্শ হলো বিশ্ব-জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্র। বৃক্ষশোভিত নির্মল পরিবেশে জ্ঞান-সাধনা হলো ঐ প্রতিষ্ঠানের আদর্শ। ঢাকার চারুকলা এবং খুলনা আর্ট কলেজে অ্যাকাডেমিক শিক্ষা অর্জনে আর বিশ্বভারতী আমার অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগে অর্থাৎ সৃজন-চিন্তার মনোজগতকে সমৃদ্ধ করেছে। পার্থক্য নিরূপণ নয়, সমন্বয়ই মূখ্যত ঘটেছে।

প্রশ্ন: প্রাচ্যরীতির শৈল্পিক উপাদান রং, রেখা, প্রতীক আপনার ছবির মধ্যে কীভাবে প্রকাশ পায়? প্রতীক ও চিহ্নের ব্যবহার আপনার ছবির মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে কি না?

উত্তর: আসলে প্রাচ্যরীতির উপাদান বা অন্যান্য যা বলা হচ্ছে তা ভাবনায় রেখে ছবি আঁকি না। স্বভাবগতভাবে যা আসে তাই অঁকি। বলতে পারো রবীন্দ্রনাথের, নজরুলের বাণীপ্রধান সঙ্গীতে যে ভাব-কথা রয়েছে, মূলত ওই ভাবের আদর্শ শুনতে শুনতে নিজকর্মে রং-রেখায় কীভাবে যেন প্রভাবিত করেছে।

প্রশ্ন: ঐতিহ্য, মিথ, প্রাচীন সাহিত্য আপনার আগ্রহের বিষয়বস্তু হিসেবে লক্ষ্য করা যায়। শিল্পীর দৃষ্টিকোণ থেকে মিথ বা পৌরাণিক চরিত্রের চিত্রায়ণ কীভাবে সমকালীন অর্থ বহন করতে পারে?

উত্তর: ঐতিহ্য, মিথ, সাহিত্য এগুলো আমার সৃজনকর্ম প্রকাশের সহায়ক উপাদান। যা চিত্রপটে সেতুস্বরূপ কাজ করে। এর বাইরে কি যাওয়ার উপায় থাকে? নজরুল ইসলাম গানে লিখেছেন--‘চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়’...অবতার শ্রীরামচন্দ্র যে জানকীর পতি...মহারাজ হরিশচন্দ্র...। এই চরিত্র বা কাব্য-ইতিহাসের মিথ চরিত্র শুধু ধর্মীয় অনুবর্তে সৃষ্টি হয়েছে তা তো নয়, এখানে ইহজাগতিক প্রাপ্তির নানা আকাঙ্ক্ষা থেকে মুক্ত হওয়ার উদাহরণস্বরূপ বলেছেন। আসক্ত থেকে মুক্তি বোঝাতে ঐ চরিত্র মূল ভাবনায় যুক্ত করে দিয়েছেন। এটা তো কোনো সম্প্রদায়ের জন্য নয়, সকলের জন্য। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিতেও অনেক উদাহরণ পাওয়া যাবে। আমার চিন্তাজগতের ভাব-উপাদান মূলত রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ প্রমুখজনের সাহিত্য-ভাব থেকে অনুপ্রাণিত।

প্রশ্ন: বনলতা সেন বা অন্যান্য পৌরাণিক চরিত্র চিত্রায়ণ করার সময় কোনো দর্শন বা সাংস্কৃতিক কাঠামো অনুসরণ করেছিলেন কি না?

উত্তর: ‘বনলতা’ শিরোনামে আমার একটা চিত্র-সিরিজ রয়েছে, বোধহয় সেই প্রসঙ্গ বলতে চেয়েছ। জীবনানন্দ দাশ তার সৃষ্টিতে একটা নারী চরিত্র রূপায়ণে বিভিন্ন স্থান ও প্রকৃতির সমন্বয়ে তুলে ধরেছেন। এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা জানি না যে এই কবিতার ভাববস্তুতে আপ্লুত হননি। এই ‘বনলতা’ সৌন্দর্যস্বরূপ বাঙালি আধুনিক জনমানসে স্থান করে নিয়েছে। আমি এই সময়ের জনমানসের বনলতাকে উসকে আরো পাঁচজনের মতো দাঁড় করাতে চেয়েছি। তাকে দেখিয়েছি একজন শিল্প শিক্ষার্থীরূপে—যে জীবনানন্দকে এঁকেছে, একজন মা—যে তার শিশু সন্তানকে নিয়ে জাপানি চিত্রশালায় ছবি দেখছে, একজন প্রেমিকা—যে নায়কের জন্য ট্রেনে করে নাটোরে ফিরছে, একজন রূপ-অহংকারী—যে ল্যুভর মিউজিয়ামে লিওনার্দোর বিখ্যাত সুন্দরী হিসেবে পরিচিত মোনালিসার পাশে সৌন্দর্যের তুলনা করতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কখনো পাশ্চত্যসৌন্দর্যের ডেভিড চরিত্রের অনুশীলন করছে। বনলতা ও সাহিত্যের অন্যান্য চরিত্রকে এভাবে এঁকে বাঙালির মনোজগতের বিরাজমান ভাবনাকে ভাঙতে চেয়েছি।

প্রশ্ন: এই সিরিজে বনলতা চরিত্রটিকে আপনি নানা ভূমিকায় দেখিয়েছেন। এই বহুরূপের ধারণাটি কি আপনার মতে, আধুনিক বাঙালি নারীর প্রতিচ্ছবি?

উত্তর:
বলতে পারো, তবে আমি আধুনিক শব্দটাকে আমার এই ধারার কাজে ব্যবহার করতে চাই না, চাই হলো এই সময়ের। অর্থাৎ সমকালের দৃষ্টিতে।

প্রশ্ন: আপনার ছবিতে নারীর সৌন্দর্য কি কেবল নান্দনিক, নাকি তার সঙ্গে ক্ষমতা ও আত্মসচেতনার প্রশ্নও যুক্ত?

উত্তর:
সৌন্দর্য বা শুধু নান্দনিকতা নয়, চরিত্রগুলো আমাদের সমাজজীবনের অংশ হয়ে পরিপার্শ্বকে আবৃত করে রয়েছে।

প্রশ্ন: প্রাচ্যরীতি আধুনিক চিত্রকলায় কীভাবে প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী?

উত্তর: প্রসঙ্গটি বিস্তর আলোচনার বিষয়। সংক্ষেপে যদি বলি, আমাদের ধারণায় প্রাচ্যরীতি প্রাচীন কিছু এবং আধুনিক ভিন্ন কিছু। বড়োদাগে শিল্পকলাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিল্প, ইংরেজিতে ওরিয়েন্টাল আর অক্রিডেন্টার অথবা ওয়েস্টার্ন আর্ট। আর আধুনিক হলো একটা ক্ষণিক সময়কালের, কিছুদিন পরেই তা পুরাতন বা ওল্ড হয়ে যায়। আর হলো সমকাল যা সব সময়েই সময়ের সঙ্গে চলমান। আমি মনে করি, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে একই ধারায় শিল্প-সাহিত্য এগিয়ে চলেছে। এই রীতি হলো উপস্থাপনের মাধ্যম ও দৃষ্টিভঙ্গি। যিশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে এই দৃশ্য পাশ্চাত্যের শিল্পী এঁকেছেন, ঠিক একই দৃশ্য বাঙালি কোনো শিল্পী আঁকবেন। তিনি নিশ্চয়ই সেই নিদারুণ ভাবনাই তুলে ধরবেন তাতে যদি শিল্পভাষার মিশ্রণ হয়, তা কি প্রাচ্যশৈলীর অথবা পাশ্চাত্য শৈলীর পার্থক্য নিরূপণে রসিক-দর্শক মগ্ন হবেন নাকি শিল্প-রসবোধে সিক্ত হবেন। প্রাচ্য-পাশ্চাত্য-আধুনিক—এই ভাবনায় বদ্ধ না থেকে চিরকালীন যে ভাবাদর্শ সেটাই প্রাচ্য, সেটাই আধুনিক, সেটাই সময়োপযোগী। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথের এই গানের মতো—‘রবার যেটা সেটাই রবে’। 

.প্রশ্ন: প্রদর্শনীতে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া বা সমালোচনা কি আপনার শিল্পীসত্তাকে প্রভাবিত করে?

উত্তর: সাময়িক করে, স্থায়ীভাবে কোনো প্রভাবের কথা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না, তবে ভালো কিছু অনুপ্রাণিত করে।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে আপনার চিত্রকর্ম কোন ধরনের দিক বা অনুসন্ধান নিয়ে হাজির হবে?

উত্তর: সেটা বলা মুশকিল। পূর্বে জলরং-টেম্পারা, শুধু টেম্পারা মাধ্যম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যা এঁকেছিলাম, তা রসিক দর্শকের কাছে নতুনের সন্ধান দেখাতে পেরেছিলাম। স্বীকৃতিস্বরূপ বিজ্ঞজনের প্রশংসা ও দেশ-বিদেশের প্রদর্শনীতে গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছিলাম। সম্প্রতি কয়েক বছর ছাপচিত্র মাধমে ও বিষয় উপস্থাপনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। প্রদর্শনী হলে তা উপস্থাপনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। আশা করি এই ধারার শিল্পকর্ম বিজ্ঞজনের অনুসন্ধানী রসবোধে বটতলার ছাপাই ছবির ঐতিহ্যে অনুপ্রাণিত সমকালের দৃষ্টিতে রসসিক্ত হবেন।

প্রশ্ন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার সুস্বাস্থ্য ও সৃজনশীল জীবনের সাফল্য কামনা করছি।

উত্তর: তোমাকেও ধন্যবাদ।