অমর একুশে বইমেলা ২০২৬

উপন্যাস নিয়ে আমার চিন্তাগুলো বইয়ে থাকছে : কুমার চক্রবর্তী

উমামা জামান মিম: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?

কুমার চক্রবর্তী: আমার নতুন বইটি গদ্যের ওপর, নাম ‘উপন্যাস চিন্তা’।

প্রশ্ন: বইটি নিয়ে পাঠকদের কিছু বলুন।

উত্তর: উপন্যাস নিয়ে আমার যে গদ্য ভাবনা বা চিন্তাগুলো আছে, সেগুলোই এই বইয়ে থাকছে। সারা পৃথিবীতে সাহিত্যের প্রধান মাধ্যম হিসেবে উপন্যাস যেভাবে প্রচলিত, তার উৎপত্তি, বিকাশ ও বিবর্তনের সম্ভাবনার ওপর এখানে আলোকপাত করা হয়েছে। আমাদের সমাজে উপন্যাস নিয়ে অনেক ভাবনা থাকলেও তাতে প্রায়ই মৌলিকত্বের অভাব দেখা যায়। অনেক সময় একে কেবল ইউরোপ-কেন্দ্রিক মাধ্যম হিসেবে দেখার চেষ্টা করা হয়; সেই সত্যের পাশাপাশি আরো যে নানাবিধ সত্য জড়িয়ে আছে, আমি সেগুলোই লেখার চেষ্টা করেছি।

প্রশ্ন: শুরু থেকেই মেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছিল—এমন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইভেন্টের প্রতি কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা আছে বলে মনে করেন?

উত্তর: আমাদের একুশের বইমেলা বাঙালির মনস্তত্ত্ব ও অস্তিত্বের সাথে জড়িয়ে আছে। মেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠা পাঠকদের মনে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। এখন মেলা হলেও তাতে আগের মতো পূর্ণ আবহ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। মেলা শুরু হতে দেরি হওয়ায় এর চিরাচরিত তাৎপর্য অনেকাংশেই সীমাবদ্ধ হয়ে থাকবে। বিষয়টি অনেকটা ‘দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর’ মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশ্ন: সময় কমিয়ে আনা ও রমজানের কারণে মেলায় কেমন প্রভাব পড়বে?

উত্তর: রমজানে মেলা আগেও হয়েছে। তবে মেলা দেরিতে শুরু হওয়ায় এটি পূর্ণ প্রাণশক্তি পাবে না। এর ফলে প্রকাশক ও পাঠকদের মধ্যে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। প্রকাশকরা এখানে পুঁজি বিনিয়োগ করেন, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মেলা না চললে তাদের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এছাড়া ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে গরম ও ধুলাবালি শুরু হয়, যা মফস্বল থেকে আসা পাঠকদের উপস্থিতিকে সীমাবদ্ধ করে দেবে। ফলে মেলাটি অনেকটা ‘মেলার খাতিরে মেলা’ হতে যাচ্ছে।

প্রশ্ন: গত বছর মেলা নিয়ে অনেকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল—এ বছর এমন কিছু আশঙ্কা আছে?
উত্তর: গত বছরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আশঙ্কা তো থেকেই যায়। তবে আয়োজক প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বা সরকার যদি বিগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করে, তবে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার কথা নয়। ব্যবস্থাপনা উন্নত হলে এসব ঠেকানো কঠিন হবে না।

প্রশ্ন: একটি সুন্দর বইমেলা আয়োজন করতে কী কী পদক্ষেপ নিলে ভালো হয়?

উত্তর: প্রধান কাজ হলো গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা ও বইয়ের উপস্থিতি নিশ্চিত করা। পাঠকদের স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে নজর দিতে হবে, বিশেষ করে ধুলাবালি মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি যাতে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা না হয়। এছাড়া শৃঙ্খলার পাশাপাশি বইয়ের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে পারলে মেলার মান বাড়ানো সম্ভব।

প্রশ্ন: মেলায় এবং সারা বছর যত বই প্রকাশিত হয়, তার ডিজিটাল ডেটাবেইজ কি বাংলা একাডেমি বা কোনো কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করতে পারে?

উত্তর: ডিজিটাল ডেটাবেইজ তৈরি করা বাংলা একাডেমির দায়িত্ব এবং এটি করা অত্যন্ত জরুরি। তারা উদ্যোগ নিলে অবশ্যই এটি সম্ভব।

প্রশ্ন: বইমেলায় পাঠক-লেখক সম্পর্ক বা যোগাযোগের বর্তমান বাস্তবতা কী?

উত্তর: পাঠক ও লেখকের সম্পর্কের উন্নয়নে বিভিন্ন বইয়ের ওপর আলোচনা এবং সরাসরি কথোপকথনের ব্যবস্থা রাখা গেলে ভালো হয়।

প্রশ্ন: প্রচুর বই ছাপা হচ্ছে, কিন্তু বইয়ের মান ও সম্পাদনা নিয়ে প্রকাশকরা কতটা সচেতন?

উত্তর: অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশকরা সচেতন নন। বর্তমানে অনেক বই ‘কাস্টমার বই’ হিসেবে প্রকাশিত হয়, অর্থাৎ লেখকের নিজস্ব উদ্যোগে ছাপা হয়। ফলে প্রকাশকদের নিজস্ব নির্বাচন বা গুণগত মান যাচাইয়ের জায়গাটি অনেক সময় বজায় থাকে না। একারণে মানসম্মত বই সেভাবে আসছে না।