বিখ্যাত ছোটোগল্প ‘দ্য গিফট অব দ্য ম্যাজাই’-এর লেখক ও. হেনরির আসল নাম ছিল উইলিয়াম সিডনি পোর্টার। আজ তিনি বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ছোটোগল্পকার। তার নামে প্রতিবছর দেওয়া হয় ‘ও. হেনরি প্রাইজ ফর ফিকশন’। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, তার সাহিত্যিক জীবনের শুরু হয়েছিল একেবারে ভিন্ন কারাগার থেকে।
ও. হেনরি কাজ করতেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিন শহরের ফার্স্ট ন্যাশনাল ব্যাংকে। তার বিরুদ্ধে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে এই মামলায় তিনি সত্যিই অপরাধী ছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ১৯১৬ সালের এক প্রতিবেদনে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনাকে বলা হয়েছিল ‘অত্যন্ত অব্যবস্থাপূর্ণ’। এমনকি ব্যাংকের গ্রাহকেরা কখনো কখনো কাউকে না জানিয়ে কাউন্টার পেরিয়ে গিয়ে টাকা নিয়ে যেতেন। পরে এসে বলতেন, ‘গত সপ্তাহে ২০০ ডলার নিয়েছিলাম, কোনো নোট রেখে গিয়েছিলাম কি না দেখুন।’
একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ও. হেনরিকে যদি আদালতে হাজির হতে বলা হলে তিনি অস্টিনে ফিরে যেতেন, তাহলে হয়তো খালাসও পেতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।
ও. হেনরি প্রথমে ট্রেনে করে নিউ অরলিন্সে যান। সেখান থেকে একটি ফলবাহী জাহাজে চড়ে পালিয়ে যান হন্ডুরাসে। তখন সেখানে মার্কিন আইন সহজে পৌঁছাতে পারত না।
কিন্তু কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ। তাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। ১৮৯৭ সালের জুলাইয়ে তার স্ত্রী মারা যান। পরের বছর পোর্টার দোষী সাব্যস্ত হন। ১৮৯৮ সালের মার্চে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আর এই কারাগারেই শুরু হয় তার প্রকৃত সাহিত্যজীবন।
মেয়ের জন্য অর্থ পাঠাতে তিনি কারাগারে বসেই গল্প লিখতে শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামে গল্প প্রকাশ করতেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হয়ে ওঠে ‘ও. হেনরি’ নামটি।
কারাগারে থাকাকালীন তিনি ১৪টি ছোটোগল্প লেখেন। বলা যায়, তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ই তাকে একজন লেখক হিসেবে তৈরি করেছিল।
ভালো আচরণের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই, ১৯০১ সালের ২৪ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর তিনি মেয়ের সঙ্গে থাকার জন্য পিটসবার্গে যান। পরে চলে আসেন নিউইয়র্কে।
লেখা অবশ্য তিনি থামাননি। ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘ক্যাবেজেস অ্যান্ড কিংস’। এর দুই বছর পর প্রকাশিত হয় ‘দ্য ফোর মিলিয়ন’। এই বইয়েই ছিল তার সবচেয়ে বিখ্যাত গল্পগুলোর একটি ‘দ্য গিফট অব দ্য ম্যাজাই’। ১৯১০ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ও. হেনরি লিখে গেছেন। তার মৃত্যুর পরও প্রকাশিত হয়েছে বহু লেখা।
একসময় ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কারাগারে যাওয়া সেই মানুষটিই পরে হয়ে ওঠেন বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ছোটোগল্পকার। তার জীবনের গল্প যেন তার নিজের গল্পগুলোর মতোই—অপ্রত্যাশিত এবং বেদনাময়।









