অমর একুশে বইমেলা ২০২৬

আমার সময়কে কবিতায় ধরতে চেয়েছি : রেজাউদ্দিন স্টালিন

উমামা জামান মিম: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?

রেজাউদ্দিন স্টালিন: এবারের বইমেলায় আমার একটি নতুন কবিতার বই ‘যতিচিহ্নহীন’ প্রকাশিত হচ্ছে।

প্রশ্ন: বইটি নিয়ে পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন। বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা কি বইটির বিষয়বস্তুকে প্রভাবিত করেছে?

উত্তর: মাঝখানে কবিতার পাঠক কিছুটা কমে গেলেও সাম্প্রতিককালে আমি লক্ষ্য করছি যে কবিতার পাঠক আবার বাড়ছে। সমাজ যত অনাচার, বৈষম্য আর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাবে, কবিতার প্রতি মানুষের আগ্রহ তত বাড়বে। কারণ মানুষ সবসময় শান্তি, প্রেম ও ভালোবাসার স্বপ্ন দেখে, আর কবিতা সেই কাজটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে করে। আমি সবসময় আমার সময়কে কবিতায় ধরতে চেয়েছি। বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে আমি সোচ্চার; আর সেই বাস্তবতার ছায়া আমার এই বইয়েও পাওয়া যাবে। আমি বিশ্বাস করি, প্রকৃত কবিতা যদি সময়কে উপস্থাপন করতে পারে, তবে পাঠকের কাছে তার একটি নতুন জায়গা তৈরি হবেই।

প্রশ্ন: মেলা আয়োজন নিয়ে শুরু থেকেই এক ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল, কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা কি আপনি দেখছেন?

উত্তর: না, ব্যক্তিগতভাবে কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা আমার কাছে মনে হয়নি। মেলা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা বা দেরিতে শুরু হওয়ার বিষয়টি তৈরি হয়েছে, তা বাস্তব কারণেই হয়েছে বলে আমি মনে করি।

প্রশ্ন: মেলা রমজানে পড়ে যাওয়ায় পাঠক উপস্থিতিতে কেমন প্রভাব পড়তে পারে?

উত্তর: প্রভাব কতটা পড়বে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আমি মনে করি, পাঠকরা তাদের সুবিধামতো সময় নির্ধারণ করেই মেলায় আসবেন। এর আগেও আমরা দেখেছি যে রমজানের মধ্যে মেলা হওয়ার পরেও যথেষ্ট পাঠক ও দর্শক এসেছিলেন। মূলত নির্বাচনকালীন নানা বাস্তব সমস্যার কারণেই মেলাটি এবার রমজানে পড়ে গেছে।

প্রশ্ন: নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আশঙ্কা আছে কি? সুন্দর মেলা নিশ্চিত করতে কাদের ভূমিকা জরুরি?

উত্তর: নিরাপত্তা এখন সারা বিশ্বেই একটি বড় প্রশ্ন। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ ও সরকার নিশ্চয়ই মেলাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে একটি নিরাপদ বলয় তৈরি করবে। তবে এর পাশাপাশি পাঠক ও সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে। আমাদের চারপাশে যে অপশক্তি আছে, তাদের বিরুদ্ধে বইমেলা একটি স্মারক চিহ্ন। তাই মেলা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব সরকার ও কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি জনগণেরও। আমাদের সবাইকে মিলে মেলাটাকে নিরাপদ করতে হবে।

প্রশ্ন: একটি আদর্শ বইমেলা আয়োজন করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন?

উত্তর: সুন্দর মেলার জন্য কারিগরি ও স্থাপত্যশৈলী উন্নত হওয়া প্রয়োজন। যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করা, পর্যাপ্ত পানি, মশা ও ধুলাবালি নিরসনের ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দর্শকদের সম্মানের সাথে প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। সর্বোপরি, বইমেলা যেন অবশ্যই নারীবান্ধব হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।

প্রশ্ন: প্রকাশিত বইয়ের ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির বিষয়ে আপনার মত কী?

উত্তর: এটি অত্যন্ত জরুরি। ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করার দায়িত্ব মূলত বাংলা একাডেমি, বুক সেন্টার এবং আর্কাইভের। এর পাশাপাশি অসম্পাদিত বা ভুলে ভরা বইগুলোকে শনাক্ত করা উচিত, যাতে মানহীন বই আমাদের তরুণ সমাজকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে না পারে।

প্রশ্ন: পাঠক-লেখক যোগাযোগের বর্তমান অবস্থাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

উত্তর: এই যোগাযোগের জায়গাটি এখন খুবই দুর্বল। লেখক-পাঠক মুখোমুখি হওয়ার যে অনুষ্ঠানগুলো হয়, সেখানে সাধারণত কেউ যায় না। এই জায়গাটি ঠিক করতে হবে। গণমাধ্যম এবং আয়োজকদের উচিত পাঠককে আগ্রহী করে তোলা এবং লেখকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। এমনকি প্রকাশকদের সঙ্গেও লেখকের মুখোমুখি হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্‌ম থাকা দরকার।

প্রশ্ন: বইয়ের মান ও সম্পাদনা নিয়ে প্রকাশকরা কতটা সচেতন?

উত্তর: অধিকাংশ প্রকাশকই এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন নন। বইয়ের মূল্য নির্ধারণে যেমন কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নেই, তেমনি তারা কেবল সরকারের কাছে বই বিক্রির চিন্তা করেই সারা বছর বসে থাকেন। বইকে জেলা, উপজেলা বা মফস্বলে নিয়ে যাওয়ার কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তাদের মধ্যে দেখা যায় না। মানের প্রশ্নে তাদের আরও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।