শিরোনামহীন || জুননু রাইন

noname
এক.

পৃথিবী ভুল পথের বাড়ি

পথ থেকে ভুলের শুরু

অনেক অচেনার কথা নিয়ে

আমাকে বারবার আসতে হয়

একবার ভুলের সাহস এসে

হারিয়ে যায়; আমাকে হারায়!

 

আমরা পাড়ি দেবো তোমাকে

তোমরা পাড়ি দেবে আমাকে

সমান হবে না মানুষের হৃদয়

 

এতো রক্ত সমুদ্র বয়ে বেড়ায়

কত সুর খেয়ে ফেলে সময়

জীবন তবু তোমার পথে যায়।

 

পথে অনেক বৃষ্টি হবে, তোমার

বৃষ্টিতে ভিজে যাবে ভালবাসা

পথ একা একা হেঁটে এখানে এসেছে

আমার কাছে তোমার খোঁজে

আমার ভালবাসায় লুকিয়ে রয়েছ!

 

ভালবাসা আমাকে ছেড়েছে অনেক আগেই

আমি এখন তোমার জাহজে অচেনা যাত্রি

কেউ বোঝে না, কেউ চেনে না, তুমিও না

এখানে সকল দুয়ার তুমি, তোমার জানালা।

 

তোমার আকাশ খুলে দাও, দাও ছাতা

অনেক বৃষ্টি, অনেক অনেক মানুষের

বৃষ্টি আমি নেবো না, আকাশ খুলে দাও।

 

আমার পাখিগুলো ভিজে গেলে, ভীষণ শীত আসবে

পাখিগুলো গাইতে না পারলে তুমি কথা বলবে না

নির্বাক পৃথিবী তাকিয়ে থাকবে, অন্য গ্রহের দিকে

তখন ভাল লাগবে না আমার কচুরি ফুলের

ভাল লাগবে না আমার কাশফুলের, হাস্নাহেনার

একা হয়ে যাবে শিউলি-বকুল, পলাশ আর তোমার জুঁই

তোমার আকাশ খুলে দাও, একবার আমাকে ছুঁই।

 

দুই.

নদী তো ডোবে না, পানিতে হাত রেখে দেখো-

ভেজে না সে চোখের জলেও।

শুধু ফোঁটায় ফোঁটায় দীর্ঘ হয় শহরের ইতিহাস

মানুষের বিশ্বাসের ইমারত ভেঙে পড়ে

আজানে তোমার ধ্বনি, মন্দির-গীর্জায়

তোমাকে হারিয়ে খোঁজার সুর প্যাগোডায়।

 

তিন.

গত কয়েকটি দিন ফিরে এলো

যাদের স্পর্শ করতে চাইনি

তবুও;

খুলে খুলে যাচ্ছিল

নদী ভাঙছিল

জ্যোৎস্নার পাড় ভাঙা

ভেজা বিধবা শাড়ি

ঘোলাটে জীবন

হাসছিল

 

এদের একটি দিন এসে বলল-

'সহস্র পাখির হাতাশার ঝুম বর্ষায়

তোমার খিচুরি খেতে ইচ্ছে হবে'

দিনগুলো আকাশে উড়ে যেতে চায়

আমার মুখ ফিরিয়ে নেয়ার অভিযোগে

ঘুরে ঘুরে ফিরে আসা গত কয়েকটি দিন

কী যেন বলতে চায়!